× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



পাকশীতে জনবসতি উচ্ছেদের আতঙ্ক, রূপপুর প্রকল্পের জমি অধিগ্রহনের ঘোষণা

শত বছরের পুরনো জনপদ ঈশ্বরদীর পাকশীতে ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রেলওয়ের জমিসহ অফিস হারানোর আতঙ্কে রয়েছে মানুষ। পাকশী রেলওয়ে বাজার, হাসপাতালের সামনের এলাকাসহ প্রায় এক লাখ জনগণ অধ্যুষিত পাকশীর বিস্তীর্ণ এলাকা রূপপুর প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হবে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় এ আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাচীন জনপদ পাকশীর সব মানুষ এখন তাদের আবাসন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল হারানোর ভয়ে উদ্বিগ্ন সময় কাটাচ্ছে। 
পাকশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হবিবুল ইসলাম হব্বুল জানান, এসব জমি অধিগ্রহণ করা হলে এই ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডে বেশিরভাগ জনবসতি থাকবে না এবং দুটি মৌজাও বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
বিভাগীয় রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তার জন্য চাওয়া এসব জমির ওপর পাকশী পদ্মা নদীতে দ্বিতীয় রেল সেতুর জন্য প্রয়োজনীয় ১১৪ দশমিক ৪৮ একর জমি সংরক্ষণ করা রয়েছে। এ ছাড়া এখানে ডিআরএম পাকশীর দপ্তর, ১৫টি বিভাগীয় রেলওয়ে কর্মকর্তার কার্যালয়, বিভাগীয় ট্রেন কন্ট্রোল অফিস, রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়, রেলওয়ে পুলিশ লাইনস, রেলওয়ে হাসপাতাল, পোস্ট অফিস, স্কুল-কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় এক হাজার শতবর্ষী বিশালাকৃতির গাছ রয়েছে। পাকশীর রেললাইন থেকে ইপিজেড পর্যন্ত জায়গার মধ্যে পাকশী রেলওয়ে কলেজ, পাকশী বাজার, বাবুপাড়া, ব্যারাকপাড়া, মেরিনপাড়া, পাকশী এমএস কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিপিএড কলেজ, পাকশী রেলওয়ে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, পাকশী রিসোর্ট, পাকশী রেলওয়ে হাসপাতালের সামনের জায়গাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রেলওয়ে অফিসের কিছু অংশসহ প্রায় ৭০৬ একর জমির সব স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা গড়ে তোলা হবে বলে রেল এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বিস্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে অফিসে যোগাযোগ করে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আবাসন, চিকিৎসালয়, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সার্বিক নিরাপত্তার প্রয়োজনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী এসব জমি হস্তান্তর করা হতে পারে। 

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার মো. নাজমুল ইসলাম জানান, রূপপুর প্রকল্পের প্রয়োজনে রেলওয়ের কাছে নতুন করে জমির চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্ত হলে রেলকে জমি ছেড়ে দিতে হবে। 
পাকশীর প্রবীণ শিক্ষাবিদ আবুল কালাম আজাদ এ সম্পর্কে বলেন, গোটা পাকশীর জনমনে উচ্ছেদ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

কোন মন্তব্য নেই