× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে জেগে উঠা চর জুড়ে ফলছে সোনার ফসল


ইতিহাস টুয়েন্টিফোর প্রতিবেদকঃ
ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী গ্রাম ও নদীতে জেগে উঠা বিস্তৃর্ণ চর জুড়ে এখন কৃষকরা ফলাচ্ছে সোনার ফসলযে ধুধু বালুচর এক সময় পতিত জমি হিসেবে পরিচিত ছিল সেখানে বছর জুড়েই থাকছে নানা ফল-ফসলের সমারোহ 
ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা নদী তীরবর্তী লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের লক্ষ্মীকুন্ডা,  দাদাপুর, কামালপুর, চরকুড়লিয়া, শান্তিনগর, ডিগ্রীরচর,চরমাদিয়া, বাটিকামারা, রাজারসাম, জয়েনপুর, সাঁড়া ইউনিয়নের সাহেবনগর চর, মোল্লা পাড়া ও বিলবামনী, পাকশী ইউনিয়নের  চররূপপুর ও সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি, চরকুড়লিয়া ও মালপাড়াসহ  ১৫টি গ্রাম ও চরের জমি চাষাবাদ করে কৃষকরা এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে

চরের জমি নিয়ে এক সময় রক্তয়ী সংঘর্ষ হলেও বিগত ১১ বছর ধরে পরিবেশ শান্ত থাকায় কৃষকরা হাসি মুখে মনের আনন্দে ফসল ফলাচ্ছে                                  
সরজমিন ঘুরে জানা গেছে, লীকুন্ডার কামালপুর, দাদাপুর, চরকুড়লিয়া, শান্তিনগর ও ডিগ্রী চরের  জমি দখল নিয়ে দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে থেকে একাধিক পরে মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছিলজমি দখল- বেদখল নিয়ে কয়েক দফা রক্তয়ী সংঘর্ষ হয়সর্বশেষ ২০০৯ সালে কামালপুর চরে জমিতে মশুর তোলা নিয়ে দুই পরে মধ্যে সংঘর্ষে ৬ জন প্রাণ হারানএরপর থেকে চরের জমি নিয়ে লীকুন্ডায় আর কোন সংঘর্ষ  বাধেনি
এলাকাবাসী জানান, দ্বন্দ্ব-বিবাদ ভুলে এখন  তারা কৃষি আবাদের দিকে ঝুকেছেনবন্দোবস্ত নিয়ে  প্রান্তিক কৃষকেরা সেই জমিতে লাউপেঁপে, গাজরফুলকপি, বাঁধাকপি, ধনিয়া পাতা সহ বিভিন্ন শাকসবজি ও আখ, মশুর, খেসারি, গমসহ নানা ফসল এবং পেয়ারা, লিচু,কলা ও বরইসহ বিভিন্ন ফলের বাগান ও খামার গড়ে তুলেছেনএসবের মধ্যে এখন চরাঞ্চলে কলার আবাদ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে

 উৎপাদিত ফল-ফসল বিক্রি করে প্রান্তিক কৃষকেরা অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেনকয়েক হাজার কৃষক এই আবাদের সাথে জড়িত  বিশাল এই চরের জমির মাঠ জুড়ে চোখে পড়ে শুধু সবজি আর ফসল এসব নানা রং ও স্বাদের সবজি ও ফসল সোনার মত দামি মনে হয় কৃষকের কাছে 
কামালপুর গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম জানান, চরের এই জমিতে এখন সোনা ফলছেতারা এখন মারামারি বিভেদ ভুলে চাষাবাদে মনযোগ দিয়েছেন   

দাদাপুর গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান জানান, চরের জমিতে চাষ করে তিনি এখন অনেকটা স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেনতার বর্গা নেওয়া জমিতে এবছর প্রচুর সবজির আবাদ হয়েছে
সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার রুহুল আমিন জানান, চরের মানুষ কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছেফল-ফসলে চরের জমি ভরপুরকৃষি ফসলকে কেন্দ্র করে এনে কয়েকটি পাইকারী সবজি বিক্রয় হাট গড়ে উঠেছেকিন্তু সবজি আবাদে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ

সাহাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতলেবুর রহমান মিনহাজ জানান, সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষিতে বেশ সমৃদ্ধএই ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ব্যাপক সবজির আবাদ হয়সবজি আবাদ করে কৃষকরা এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে
সবচেয়ে বেশি  বেশি চরের জমি রয়েছে লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নেএই ইউনিয়নের ভূমি অফিস সুত্রে জানা যায়, জেগে উঠা চরের জমি  ৬১২৮.১০ হাজার একরএর মধ্যে এ বছর আবাদ যোগ্য ১০৪৪.২৭ একর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছেনদীর জেগে উঠা জমির মালিকরা চাষাবাদের জন্য প্রান্তিক কৃষকদের বাৎসরিক ভাবে বন্দোবস্ত দিয়েছেন  

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  আব্দুল লতিফ জানান, চরাঞ্চলের কৃষি ফসল ঈশ্বরদীর কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছেকৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেচরের পলি মাটি হওয়ায় ফসলের রোগ বালাই কম হয় এবং সার ও কীটনাশক কম দিতে হয়ফলনও হয় খুব ভালউৎপাদিত ফসলের জন্য যদি একটি সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা করা যেত তাহলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেত এবং ভালবান হতোবাজার ব্যবস্থার বিষয়টি আমার গুরুত্বসহকারে দেখার চেষ্টা করছি

কোন মন্তব্য নেই