× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও চর্চা করুন


পবিত্র কোরআন নাজিলের মহিমান্বিত ও বরকতপূর্ণ মাস রমজান। বারো মাসের মধ্যে রমজানের যে শ্রেষ্ঠত্ব, তা মূলত মহাগ্রন্থ আল কোরআনুল কারিমের জন্যই; কেননা লাওহে মাহফুজ তথা সংরক্ষিত ফলক থেকে ধূলির ধরায় পবিত্র কোরআনের অবতরণ ঘটে এ মাসেই। তাই কোরআনের সন্দেহাতীত শ্রেষ্ঠত্বের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে মাহে রমজান সংশ্নিষ্ট হয়ে আছে। পবিত্র কোরআনই আমাদের জানাচ্ছে- 'শাহরু রামাদানাল্লাযি উনযিলা ফিহিল কুরআন' অর্থাৎ এ হলো সেই রমজান মাস, যাতে অবতীর্ণ করা হয়েছে আল কোরআন। অতঃপর সেই কোরআনুল কারিম দিনে নাকি রাতে অবতীর্ণ হয়েছে, সে বিষয়টিও কোরআন পাকই আমাদের সুস্পষ্ট করেছে- 'ইন্না আনযালনাহু ফি লাইলাতিল কাদরি' অর্থাৎ নিশ্চয়ই এ কোরআনকে আমি অবতীর্ণ করেছি এক মহিমান্বিত রজনীতে, তথা লাইলাতুলকদরে; যা অনেকের মতে রমজানের শেষ দশ দিনের কোনো এক বেজোড় রাতে হওয়ার কথা। তবে কেউ কেউ শবেকদরকে রমজানের সাতাশতম রজনীতেও সুনির্দিষ্ট করেছেন। এ রাতের মর্যাদা সেই কোরআন নাজিলের কারণেই আর রমজান মাসের মর্যাদাও এ রাতের বিশিষ্টতারই ফলশ্রুতি। কোরআনুল কারিমে এ রাতকে হাজার রাতের চেয়েও উত্তম বলে ঘোষণা করা হয়েছে। 

মহাবিশ্বের মহাবিস্ময় হলো আল কোরআন আর তা নাজিল হলো রমজান মাসে। আমাদের জন্য আশার কথা হলো, এ দুটি অমূল্য জিনিসই মুমিন বান্দার জন্য মহান আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে। মহানবী (সা.)-এর ভাষ্য মতে, রমজান বলবে হে আল্লাহ! আমি এ বান্দাকে দিবাভাগে যাবতীয় পানাহার ও কামাচার থেকে নিবৃত রেখেছি। তাই এ বান্দার জন্য তুমি আমার শাফায়াত কবুল কর। একইভাবে পবিত্র কোরআন বলবে হে আল্লাহ! আমিই এ বান্দাকে রাত্রি জাগরণে বাধ্য করেছি, আরামের ঘুম বিনষ্ট করেছি; অতএব, এ বান্দার জন্য তুমি আমার সুপারিশ মঞ্জুর কর। অতঃপর বান্দার জন্য রমজান আর কোরআনের সম্মিলিত সুপারিশ মহান আল্লাহ কবুল করে নেবেন। তাই আমাদেরও উচিত পবিত্র রমজানে আল কোরআনকে অধিকতর তেলাওয়াত করা, বোঝা ও চর্চা করা। কেননা, পবিত্র কোরআনের মর্যাদার উপলব্ধির ওপরই রমজানের প্রকৃত অধিকারের মর্মার্থ অনুধাবন নির্ভরশীল।

সিয়াম সাধনার মূল লক্ষ্য তাকওয়া তথা খোদাভীতি অর্জন করা। আল্লাহপাকের ঘোষণা- 'লাআল্লাকুম তাত্তাকুন' অর্থাৎ রমজানের রোজাব্রত পালনের মধ্য দিয়ে হয়ত তোমরা পরিপূর্ণ মুত্তাকিরূপে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে। তাহলে এই রমজান পালন এবং কোরআনের নির্দেশনার আলোকে আমরা যদি তাকওয়া অবলম্বন করতে পারি, তবে তার ফলশ্রুতিতে আমরা মধুর পরিণতি ভোগ করতে পারব। আল্লাহপাকের ঘোষণা- 'ওয়ালাও আন্না আহলাল কোরা আমানু ওয়াত্তাকাও লাফাতাহনা আলাইহিম বারাকাতিম মিনাস সামায়ি ওয়াল আরদ' অর্থাৎ জনপদের অধিবাসীরা যদি আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে ও তাকওয়া অবলম্বনে সক্ষম হয়, তবে আমি তাদের জন্য আকাশ ও জমিনের বরকতের ভাণ্ডার উন্মুক্ত করে দেব। বস্তুত তখন আর আমাদের অভাব-অভিযোগের লেশমাত্র থাকবে না। তাই কোরআন নাজিলের এই মাসে সিয়ামব্রত পালনের মধ্য দিয়ে প্রকৃত তাকওয়া অবলম্বন করে নিজেরা এবং পুরো সমাজকে খোদাপ্রদত্ত বরকতের ভাণ্ডারে স্বাবলম্বী করার মহৎ প্রয়াসে শরিক হই। মহান আল্লাহ আমাদের সে তাওফিক দান করুন (আমিন)।

কোন মন্তব্য নেই