× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



আন্তঃনগর 'চিত্রা' ও 'সুন্দরবন' এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি এখন সুপার লোকাল ট্রেনে পরিণত

ঈশ্বরদী হয়ে ঢাকা-খুলনা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর 'চিত্রা' ও 'সুন্দরবন' এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি এখন সুপার লোকাল ট্রেনে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত স্টপেজ ও যাত্রী, বিনা টিকিটের যাত্রী, সিডিউল বিপর্যয়, হকার, পকেটমার ও হিজড়াদের উপদ্রবে এ ট্রেন দুটি যাত্রীদের কাছে ভোগান্তির যানবাহন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। দেশের দীর্ঘতম রুটে (ঢাকা থেকে খুলনা ৬২৮ কিলোমিটার) চলাচলকারী এই ট্রেন দুটির যাত্রীরা এখন আর আরামে ট্রেন ভ্রমণ করতে পারছেন না। নির্ধারিত স্টেশনের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি স্টেশনে যাত্রাবিরতি (স্টপেজ) এবং অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে প্রতিনিয়ত ট্রেনের টয়লেটে পানি ফুরিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের নিত্য বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। অলিখিত স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেওয়া এবং এসব স্টেশন থেকে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানামা করার কারণে ট্রেন দুটির বিলম্বে চলা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। দেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম এ রুটে স্টপেজ কমানোর দাবিও করেছেন যাত্রীরা।
সরেজমিন এই আন্তঃনগর ট্রেন দুটি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে চিত্রা এক্সপ্রেস ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতি হওয়ার কথা খুলনা থেকে যশোর, চুয়াডাঙা, পোড়াদহ, ঈশ্বরদী জংশন, চাটমোহর, মনসুর আলী, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব, টাঙ্গাইল, জয়দেবপুর, ঢাকা বিমানবন্দর ও কমলাপুর স্টেশনসহ মোট ১১টি স্টেশনে। অথচ নির্ধারিত এসব স্টেশনের বাইরে এ ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতি করানো হচ্ছে দৌলতপুর, নওয়াপাড়া, মোবারকগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, সাফদারপুর, দর্শনা হল্ট, আলমডাঙ্গা, মীরপুর, ভেড়ামারা, বড়াল ব্রিজ, উল্লাপাড়া, জামতৈল, মীর্জাপুর ও মৌচাক স্টেশনসহ মোট ২৫টি স্টেশনে। দেশের অন্য কোনো রুটে এত বেশি স্টপেজ নেই। প্রতিটি স্টেশনে যাত্রাবিরতির সময় স্টেশন ভেদে নির্ধারিত রয়েছে দুই থেকে পাঁচ মিনিট; কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানামা করার কারণে আট থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত যাত্রাবিরতি করিয়ে অতিরিক্ত সময় ক্ষেপণ করতে বাধ্য হচ্ছেন ট্রেনের পরিচালক ও চালকরা। মাত্রাতিরিক্ত স্টেশনে ও অতিরিক্ত সময় যাত্রাবিরতি করার কারণে প্রতিটি ট্রেন খুলনা থেকে ঢাকা পৌঁছাতে এবং ঢাকা থেকে খুলনা পৌঁছাতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত সময় বেশি লাগছে। রেলওয়ে সূত্রমতে, নির্ধারিত ১১টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করা হলে খুলনা থেকে ঢাকা কিংবা ঢাকা থেকে খুলনা পর্যন্ত পৌঁছাতে আট ঘণ্টার বেশি সময় লাগার কথা নয় অথচ দুটি ট্রেনই সাড়ে নয় থেকে দশ ঘণ্টার কমে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এতে একদিকে ট্রেনের সময়ঘণ্টা বেশি লাগছে, অন্যদিকে যাত্রীরা অতিরিক্ত সময়ব্যাপী ট্রেনে ভ্রমণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব কারণে ট্রেন দুটিতে যাত্রী ভোগান্তি যেমন দিন দিন বাড়ছে, তেমনি আন্তঃনগর ট্রেনের সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন আন্তঃনগর চিত্রা ও আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীরা। চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিয়মিত যাত্রী ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের ছাত্র দুর্জয় ইসলাম লিমন মণ্ডল জানান, টিকিট কেটে ভোগান্তি মাথায় নিয়েই এই ট্রেনে চলাচল করতে হচ্ছে। ট্রেনে বসে থাকা যাত্রীর চেয়ে দাঁড়ানো ও বিনা টিকিটের যাত্রীই বেশি থাকে। ট্রেনযাত্রী সাবিত হাসান মুহিম বলেন, চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত যতদিন ভ্রমণ করেছি তার মধ্যে একদিনও ট্রেনটি সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছেনি। 

সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী হাফিজুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়ার জন্য সকাল ৭টায় বিমানবন্দর স্টেশনে এসে কখনও কখনও দুই ঘণ্টা বসে মশার কামড় খেয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে, তবু কোনোদিনই নির্ধারিত সময়ে এই ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারলাম না। তিনি এ ট্রেন দুটির স্টপেজ কমানোর দাবি জানিয়েছেন।

ট্রেনে দায়িত্ব পালনকারী একাধিক টিটিই জানান, এই ট্রেন দুটিতে মাত্রাতিরিক্ত যাত্রীর কারণে তারা ঠিকমতো টিকিট চেকিং করতেই পারেন না। এসব বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আব্দুল্লাহ আল মামুন কে বলেন, এ ট্রেন দুটি চালু হওয়ার প্রথমদিকে নির্ধারিত ১১টি স্টেশনেই যাত্রাবিরতি দেওয়া হতো। পরে যারা যখন ক্ষমতায় এসেছেন তারা তখন তাদের সুবিধা অনুযায়ী একেক সময় একেক স্টেশনে 'রাজনৈতিক বিবেচনায়' যাত্রা বিরতি করিয়েছেন, ফলে নির্ধারিত স্টেশনের চেয়ে দ্বিগুণ স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া এই ট্রেন দুটি ১৭টি করে বগি নিয়ে চলার কথা; কিন্তু স্বল্পতার কারনে ১২টির বেশি বগি (কোচ) দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাই ট্রেনে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) নাজমুল হোসেন বলেন, আন্তঃনগর সুন্দরবন ও আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন দুটিতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করি, চলতি বছরের মধ্যেই সমস্যাগুলো দূর করা সম্ভব হবে।

কোন মন্তব্য নেই