× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



vvv২৮৫৮২২১৮৫৫৩১

ঈশ্বরদীর হত্যা মামলার আসামী কক্সাবাজার থেকে আটক

ইতিহাস টুয়রন্টিফোর প্রতিবেদক-
বর্তমান সমাজে মানুষ হারিয়ে ফেলছে তার নীতি,জ্ঞান,প্রজ্ঞা।  সামান্য রাগ,ক্রোধ, লোভে হারিয়ে ফেলছে তার মনুষ্যত্ব। একজন মানুষ হয়ে হত্যা করছে আরেক জন মানুষকে। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে এটাই কি মানুষের বিবেক?  একজন  মানুষ কর্মের জন্য সকালে  যাচ্ছে বাড়ির বাহিরে। স্ত্রী,সন্তান পথ চাহিয়ে থাকে কখন বাড়ি ফিরবে পরিবারের কর্মক্ষম সেই মানুষটি। কিন্তু পরিবারের সেই কর্মক্ষম মানুষটি যদি লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরে তখন কি হবে তার পরিবারের অবস্থা ? আর এই মৃত্যুটা যদি  হয় হত্যাকান্ড  সংঘটিত অপরাধ।

তেমনি একটি ঘটনা ঘটে  ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ঈশ্বরদী থানার দীঘা নামক গ্রামে। দীঘা গ্রামের মৃত রব্বেল প্রাং এর ছেলে  ইয়ার আলী (৫৫) ২০১৮ সালের ০৬ আগস্ট সকাল বেলা গাছ কাটা কাজ করার জন্য বাড়ি হইতে বাহির হয়। বাড়ি হইতে বাহির সময় তার ছোট মেয়ে বাবাকে বার বার স্মরণ করে দেয় তার জন্য যেন,স্কুল ড্রেস নিয়ে আসে। বাবা মেয়েকে কথা দেয় কাজ হইতে বাড়ি ফেরার পথে স্কুল ড্রেস নিয়ে আসবে। সারাদিন গাছ কেটে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিকাল বেলা বাড়ির পথে রওনা হয়। সঙ্গে নিয়ে  আসে  পরিশ্রমের টাকায় কিনা মেয়ের জন্য  একখানা স্কুল ড্রেস। কত স্বপ্ন ছিল তার চোখে মুখে।  বাড়িতে  দুপুরের খারার নিয়ে অপেক্ষা করছে তার স্ত্রী। মেয়ে অধীর অগ্রহে অপেক্ষা করছে তার বাবার জন্য। বাবা যে,নতুন একখানা স্কুল ড্রেস নিয়ে  আসবে। পথে মধ্যে একই গ্রামের  মোঃ আজমল এর মুদি দোকানে তার ছেলে রনি প্রা ং(২৫)  এবং তার স্ত্রী চায়না (৪৫)  বসে ছিল,সেই দোকানে ইয়ার আলী ক্ষুধার জ্বালায় একখানা বিস্কুট খায়।  ইয়ার আলী সেই বিস্কুটের টাকা পরে দিতে চাইলে রনি এখনই টাকা দিতে বলে। এ নিয়ে রনির সাথে ইয়ার আলীর কথা-কাটাকাটি হয়।  সেখানে উপস্থিত লোকজন ইয়ার আলীকে চলে যাইতে বললে,ইয়ার আলী চলে যেতে লাগলে রনি ইয়ার আলীকে ডাক দেয়। ইয়ার আলী রনির মুদি দোকানে আসিলে, রনি কোন না কথা বলে শুধু ইয়ার আলীর দিকে তাকিয়ে হাসে। ইয়ার আলী আবার কিছুদুর চলে গেলে রনি আবার তাকে ডাকে। ইয়ার আলী আবার রনির দোকানে আসে কিন্তু রনি কোন কথা না বলে শুধু হাসে। এভাবে রনি ৩/৪ বার ইয়ার আলীকে ডাকে সরলমনা ইয়ার আলী রনির ডাকে সারা দিয়ে তার দোকানে আসে কিন্তু রনি তার সাথে কোন কথা না বলে শুধু হাসে। সারাদিনের না খাওয়া শরীরে ইয়ার আলী রনির  প্রতি কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে রনিকে গালি দেয়। এবার রনি প্রকাশ করল তার অসল চেহারা। রনি দোকান থেকে উঠে তার দোকানের পার্শ্বে থাকা কাঠাল গাছের মোটা ডাল দিয়ে ইয়ার আলীর মাথার আঘাত করিলে ইয়ার আলী উক্ত আঘাতে মাথায়  রক্তাক্ত  জখম হয়ে মাটিতে পড়িয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। পাশে পড়ে থাকে তার মেয়ের জন্য কেনা স্কুল ড্রেস।  ঘটনাস্থল হইতে পালিয়ে যায় ঘাতক রনি প্রাং।   এই ঘটনা নিয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। 

কিন্তু ধোরা ছোয়ার বাহিরে থাকে ঘাতক রনি প্রাং। একে একে  মামলার দুইজন তদন্তকারী কর্মকর্তার বদলি হয় কিন্তু আসামীর  রনির কোন কুলকিনারা নাই। তাহলে ঘাতক রনি কি ধোরা ছোয়ার বাহিরে থাকবে!  অবশেষে মামলাটির তদন্তভার প্রদান করা হয় চৌকস এবং মেধাবী সাব-ইন্সপেক্টর ঈশ্বরদী থানার রুপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ চক্রবত্তীর নিকট। তিনি মামলাটি তদন্ত করিতে গিয়ে দাখেন আসামীর কোন বাড়ি ঘর নাই। আসামীর পিতা এবং মাতাও  দীঘার বাড়িতে থাকেন না। তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করিতে গিয়ে জানতে পারেন ঘাতক আসামী রনির ২০১৮ সালের ২৫  ফেব্রুয়ারি ৫৫ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে গ্রেফতার হওয়ার তার বিরুদ্ধে একটি মাদক আইনে মামলা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার ওয়ারেন্ট তালিকায় খোঁজ করেন তার পূর্বের ওয়ারেন্ট আছে  কিনা।  কিন্তু তার কোন পূর্বের ওয়ারেন্ট নাই। তাহলে নিশ্চয় আসামী  রনি কোন না কোন ভাবে আদালতে হাজির হয় বা  টাইম পিটিশন দাখিল করেন । তদন্তকারী কর্মকর্তা  পূর্বের মাদক মামলার হাজিরার তারিখে খবর নেন। কিন্তু আসামী রনি হাজির হয় না। কিন্তু  আদালতে তার টাইম পিটিশন দাখিল হয়।  তদন্তকারী কর্মকর্তা এবার খোজ খবর নেন সেই ব্যক্তিটির এবং তার মোবাইল ফোন ট্র্যাক করেন। আবার সময় আসে পূর্বের মাদক মামলার হাজিরার দিন। পুলিশের ট্র্যাকিং কলে ধরা পড়ে ঘাতক আসামীর এক আত্মীয়ের  নম্বর।  সেই নম্বর নিয়ে কাজ শুরু করেন তদনন্তকারী কর্মকর্তা। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা  সমস্যায় পড়েন চতুর আসামী কোন মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। মাদক মামলার হাজিরার তারিখে আগের দিন আসামী  রনি তার আত্মীয়কে ফোন করত বাহিরের ফোনের দোকান হইতে। কিন্তু আসামী রনি একবার তার সেই আত্মীয়ের সাথে কথা বলে এবটি রবি নম্বর দিয়ে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এবার সন্ধান শুরু করে সেই মোবাইল নম্বরটির।  যার  সূত্র ধরে হত্যাকান্ডের দেড় বছর পর তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্সাবাজার জেলার কক্সবাজার সদর থানাধীন সাহিত্যিকা পল্লী নামক এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত ২১ তারিখ গভীর রাতে ঘাতক রনিকে গ্রেফতার করিতে সক্ষম হয়। বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল-২ আদালত,পাবনার নিকট  আসামী রনি নিজের দোষ স্বীকার করে ইয়ার আলীকে হত্যার ঘটনার বর্ণনা প্রদান করেছে।

কোন মন্তব্য নেই