× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



vvv২৮৫৮২২১৮৫৫৩১

ঈশ্বরদীর শান্তিনগর সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায় দুই পাড়ের মানুষ

ইতিহাস টুয়েন্টিফোর প্রতিবেদক- 
ঈশ্বরদীর প্রত্যন্ত চরাঞ্চল লক্ষ্মীকুন্ডার চরকুড়লিয়া গ্রামের মধ্যদিয়ে বহমান পদ্মার শাখা নদী দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। বর্ষাকালে নৌকা বা ভেলায় চড়ে আর শুকনো মৌসুমে হাঁটু পানি মাড়িয়ে নদী পাড়ি দিতে হয়।  এ অঞ্চলের মানুষের আজীবনের লালিত স্বপ্ন ছিল একটি সেতুর। এ এলাকার মানুষের  সেই স্বপ্ন পূরণ  হতে চলেছে । ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে শান্তিনগর সেতু। কিন্তু সেতুর সংযোগ সড়ক ও  দুই পাশে মাটি ভরাট কাজ শেষ না হওয়ায় আরো কয়েকমাস সেতুর উপর দিয়ে চলাচলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে নদীর দুই পাড়ের মানুষকে। 

জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩ ফেব্র“য়ারি তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য  শামসুর রহমান শরীফ চরকুড়লিয়া পদ্মার শাখা নদীর উপর শান্তিনগর সেতুর নির্মাণ কাজের  উদ্বোধন করেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্বাবধায়নে ৫ কোটি ৮ লাখ ৩০ হাজার ১১৮ টাকা ব্যয়ে ৯৬.২০ মিটার দৈর্ঘ্য এই সেতুর নির্মাণ কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে পেয়েছেন নাটোরের মীর হাবিবুল আলম এন্ড মীর শরিফুল আলম জেবি নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নির্মাণ কাজ করছেন পাবনা জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শরীফ প্রধানের  ভাই ফিরোজ প্রধান। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এই সেতুর নির্মাণ সময়কাল (২০-৯-২০১৭ থেকে ১-৮-২০১৮ খ্রিঃ)। অথচ নির্মাণ কাজ নিদিষ্ট সময়ের চেয়ে ৫ মাস পর  ২০১৮ সালের ৩ ফেব্র“য়ারি শুরু হয়।

এই সেতুর নির্মাণ কাজের সময়কাল ১১ মাস  থাকলেও প্রায় ৩০ মাস পর সেতুর মূল কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো সেতুর দু’পাশের রাস্তা ও সেতুর দু’পাশে মাটি ভরাট কাজ এখনো শেষ হয়নি।  সেই সঙ্গে সেতুর রংয়ের কাজও বাকি রয়েছে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রভাবশালী ঠিকাদার খেয়ালখুশি মতো কাজ করায় নির্মাণ কাজ বিলম্বিত হয়েছে। 

চরকুড়লিয়া এলাকার বাসিন্দা  শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, চরকুড়লিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও সেতুর মুখে মাটি ভরাট ও সড়ক না না থাকায় সেতু দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারছে না। কবে নাগাদ সড়ক ও মাটি ভরাট কাজ হবে তাও এলাকার লোকজন জানে না। দ্রুত সড়কের কাজ শেষ না হলে এবার বর্ষা মওসুমেও নৌকা ও ভেলায় চড়ে মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড় হতে হবে। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, সেতু নির্মাণ কাজ শেষ। সড়ক নির্মাণ ও সেতুর মুখে মাটি ভরাটের কাজ বাকি রয়েছে। আমি নিজে ঠিকাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেছি। তিনি বলেছেন আগামী শনিবার অথবা রবিবারের মধ্যেই মাটি ভরাটের কাজ শুরু হবে।  সেতুটি দ্রুত উদ্বোধন হলে এলাকার মানুষ খুব উপকৃত হবে। দু’পাড়ের মানুষ সেতুটির উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।   

ঠিকাদার ফিরোজ প্রধানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে সেতুর কাজ বিলম্বিত হয়েছে।  এখন সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও সেতুর মুখে মাটি ভরাটের কাজ বাকি রয়েছে। আগামী রবিবার থেকে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হবে। আশাকরি আগামী দুই মাসের মধ্যেই সব কাজ শেষে সেতু  স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে  আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করতে পারবো। 

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কবির জানান, সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এখন মাটি ভরাট ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ  হবে। দ্রুতই এ সেতু উদ্বোধন করা হবে বলে আশাকরছি। 

কোন মন্তব্য নেই