× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



অপুর্ব চৌধুরীর কলামে ঈশ্বরদীর হর-মুন্ড মালিনী উৎসব ২০২০ (ছবিসহ)

ঈশ্বরদীতে বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য হর-মুন্ড মালিনী উৎসব একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ঈশ্বরদী-পাকশী রেল লাইনের পার্শ্বে পাতিবিলে ঈশ্বরদী পৌর শ্মশান প্রতিষ্ঠার পর শ্মশান পরিচালনা কমিটি আয়োজন করে হর-মুন্ড মালিনী উৎসবের। হিন্দু পঞ্জিকা অনু্যায়ী প্রতিবছর শিব চতুর্দ্দশী তিথিতে উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 
মোমবাতি প্রজ্জলন।
আগরবাতি প্রজ্জলন।
একসময় ঈশ্বরদীর হিন্দু সম্প্রদায় শিব চতুর্দ্দশী তিথি বা শিবের মাথায় জল ঢালা অনুষ্ঠান সেই ভাবে আয়োজন করতো না। ঈশ্বরদী পৌর শ্মশান প্রতিষ্ঠার পর এই অনুষ্ঠান ঈশ্বরদীর হিন্দু সম্প্রদায় অত্যন্ত সারম্বরের সাথে পালন করে আসছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কয়েক জনের সাথে কথা বললে তারা বলেন, হিন্দু ধর্মের কোনো ব্যক্তি পরোলোক গমন করলে ধর্মীয় রীতি-নীতি অনু্যায়ী শ্মশান ঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। তাই একজন হিন্দু পরলোকগামী ব্যক্তির শেষ ঠিকানা এই শ্মশান হয়। আমরা সকলে এখানে হর-মুন্ড মালিনী উৎসবের দিন আমাদের আত্মীয়-স্বজন তথা সমগ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই- বোনেরা যারা ইহকালের মায়া ত্যাগ করেছেন  প্রার্থনা করি  তাদের আত্মার শান্তি কামনায় এবং তারা যেন স্বর্গবাসী হতে পারে। এজন্য আমরা ঈশ্বরদী পৌর শ্মশানের এই হর-মুন্ড মালিনী উৎসব অত্যন্ত নিয়ম-নিষ্ঠা এবং ভক্তি-শ্রদ্ধার সাথে পালন করে থাকি।

২০২০ সালে ঈশ্বরদী পৌর শ্মশান প্রতিষ্ঠার ৫ম বর্ষপূর্তি হয়। প্রতিষ্ঠার ৫ বছরে ঈশ্বরদী পৌর শ্মশানে নির্মিত হয়েছে মন্দির, শাবদাহের পাকা স্থান, তুলসি ভিটা। শ্মশান কমিটি এখন সকলের সহযোগিতায় বাঁধতে চায় শ্মশানের পুকুড় ঘাট, নির্মাণ করতে চায় পুকুর পাড়, বর্ধন করতে চায় ভক্তসেবায় স্থান, স্বর্গবাসী ব্যক্তিদের জন্য সমাধি স্থানের। এই প্রকল্পগুলো ঈশ্বরদী পৌর শ্মশানকে আরো দৃষ্টিনন্দন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করার জন্য শ্মশানকে পরিপূর্ণ করে তুলবে। কিন্তু ব্যয়বহুল এই কর্মকাণ্ড গুলো শ্মশান কমিটির পক্ষে একা করা কষ্টসাধ্য। তাই তারা সকলের সহযোগিতায় এবং অর্থায়নে ঈশ্বরদী শ্মশানকে পরিপূর্ণ করে তুলতে চায়। এর মধ্যে হারিয়ে গেছে ঈশ্বরদীর এই পৌর শ্মশান নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ কিছু চেনা মুখ। যাদের হাত ধরে এই শ্মশানের জন্য মানববন্ধন, নির্মাণ কাজ, এই হর-মুন্ড মালিনী উৎসবের সূচনা। তাদের মধ্যে অন্যতম পৌর শ্মশানের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্রী বিশ্বনাথ পাল। শ্মশানের চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতেও যিনি অসুস্থ অবস্থায়ও শ্মশান নিয়ে ভেবেছেন, এক বছরের ব্যবধানে তিনি সকলকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন পরপারে। ঈশ্বরদীর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তাকে পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে চিরকাল। 

এক সময় ঈশ্বরদীর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য মৃতদেহের সৎকার করা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য একটি কাজ। মৃতদেহ নিয়ে যেত হতো ট্রাকে বা পিকআপে করে সাঁড়া ঘাটে। তখন শেষকৃত্য করা নিয়ে সৃষ্টি হতো অনেক প্রতিকূলতার। অনেক গরীব মানুষের পক্ষে স্বজনের মৃত দেহ সৎকার করার সামর্থ্য হতো না। এর জন্য ঈশ্বরদীর হিন্দু সম্প্রদায় একাট্টা হয়ে চেষ্টা করে একটি স্থায়ী শ্মশান ঘাট নির্মাণের। করতে হয়েছে 'আমরা মরলে যাব কোথায়?' শ্লোগানে মানবন্ধনও। অবশেষে ঈশ্বরদী পৌর শ্মশানের প্রতিষ্ঠা হয়। এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এই শ্মশানের তাদের পরলোকগামী স্বজনদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পারে কোনো প্রতিকূলতা ছাড়াই। 
হর-মুন্ড মালিনী উৎসব উপলক্ষ্যে মৌবাড়ি হতে জল নিয়ে আসা র‍্যালি।
ফুল বেলপাতা সহকারে মহাদেবের মাথায় জল ঢালা।
আজ এই শ্মশানের হর-মুন্ড মালিনী উৎসবে ঈশ্বরদী এবং ঈশ্বরদীর বাইরে থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। এই উৎসবের দিন শতবর্ষী মৌবাড়ি মন্দির থেকে জল নিয়ে খালি পায়ে র‍্যালি করে শ্মশানে প্রতিষ্ঠিত মহাদেব বা শিবের মাথায় ঢালা হয়। এই আয়োজন ঈশ্বরদীসহ অত্র অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রাদায়ের মাঝে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে। এই অনুষ্ঠানে আগত এক একজন ভক্ত অত্যন্ত সুশৃঙ্গল ভাবে পূজার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে পারে। ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ শিব চতুর্দ্দশী তিথিতে চার প্রথর ব্যাপী শিব পূজা, সারাদিন ভক্তদের সমাগমে মুখোরিত ঈশ্বরদী পৌর শ্মশানের এই আয়োজনে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ মোমবাতি-আগরবাতি প্রজ্জ্বলন, মহাদেবকে বেলপাতা, দুধ, জল দিয়ে স্নান করায় এবং কীর্তন শোনে। ভক্তসেবা এবং রাতে অমাবস্যা তিথিতে শ্মশান কালী পূজার মধ্য দিয়ে শেষ হয় হর-মুন্ড মালিনীর উৎসবের। সকলের প্রত্যাশা এই উৎসবের হাত ধরে ঈশ্বরদী পৌর শ্মশান হয়ে উঠুক অত্র অঞ্চলের একটি মডেল শ্মশান।
হর-মুন্ড মালিনী উৎসবের কীর্তনে মনোনিবেশকৃত ভক্তদের একাংশ।
শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসেন ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজদ মিন্টু। 
শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসেন ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান। 

কলাম ও ছবি- অপূর্ব চৌধুরী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, ইতিহাস টুয়েন্টিফোর।

কোন মন্তব্য নেই