× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



ঈশ্বরদীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যার এক বছর আজ, খুনিরা গ্রেফতার হয়নি

তিহাস টুয়েন্টিফোর প্রতিবেদকঃ
পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম হত্যার এক বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রূপপুর নিজ বাড়ির সামনে দূর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হন। ঈশ্বরদীর সবচেয়ে আলোচিত ও চাঞ্চল্যের নৃশংস এ হত্যাকান্ডের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এ মামলার কোন আসামী এখনো চিহ্নিত ও গ্রেফতার না হওয়ায় ভিকটিমের পরিবার  এবং এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে মামলাটি ঈশ্বরদী থানা থেকে পিআইবিতে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) হস্তান্তরিত করা হয়েছে।

অনেকেই আক্ষেপ করে বলেছেন অধরাই কি রয়ে যাবে খুনিরা? হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর নানা কর্মসূচীতে যাদের হত্যাকারী হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছিল তারাও এখন ফুরফুরে মেজাজে ঘুরছেন। এক বছরের ব্যবধানেই বিচারের দাবিতে আন্দোলনের সোচ্চার ছিলেন এদের অনেকেই এখন নিশ্চুপ। সেলিম হত্যাকান্ডের বিচারের দাবি নিয়ে তাদের আর রাজপথে দেখা যায় না।

 গত এক বছরে ঢাকা,ঈশ্বরদী, দাশুড়িয়া, পাকশী ও রূপপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সেলিম হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা, বিক্ষোভ সমাবেশ,সংবাদ সম্মেলন, হরতালসহ নানান কর্মসূচী মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী পালন করলেও  এ মামলার আসামীদের চিহ্নিতকরণ ও গ্রেফতারে কোন অগ্রগতি হয়নি।
সেলিম হত্যাকান্ডের পর রূপপুর গ্রাম থেকে ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাসের ছেলে  রকি বিশ্বাস ও ভাতিজা আব্দুল্লাহ আল বাকি আরজুসহ চারজনকে পুলিশ অস্ত্রসহ  গ্রেফতার করলেও পরে তারা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত থাকতে পারে  এমন তথ্য সূত্রের সন্ধানও এখনো আড়ালেই রয়ে গেছে।

রূপপুর গ্রামের জহুরুল ইসলাম মালিথা বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান একজন বীরমুক্তিযোদ্ধাকে নৃশংসভাবে হত্যার এক  বছর পেরিয়ে গেলেও কোন হত্যাকারী এখনও গ্রেফতার না হওয়ায়  হতাশ হয়েছি। আমার আশংকা রূপপুরের অন্যান্য হত্যাকান্ডের মতো এ হত্যাকান্ডের ঘটনাও ধামাচাপা পড়ে না যায়। আমি শংকিত একটি বিশেষ মহল মামলাটি প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে কি-না।

নিহত মুক্তিযোদ্ধা সেলিমের ছেলে তানভীর রহমান তন্ময় বলেন, বাবা হারানোর দুঃখের কথা কাকে বলবো? একবছর হয়ে গেল এ হত্যাকান্ডের কোন কূলকিনারা হলো না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের কেউ নিয়ে গেল না। একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন নীতি ও আদর্শবান আওয়ামী লীগ নেতার হত্যার বিচার প্রার্থনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সঙ্গে দেখা করতে পারলাম না। আমি বিশ্বাস করি, অপরাধীরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন,একদিন তাদের আইনের আওতায় আসতেই হবে। হয়তো কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে এখনও পর্যন্ত অপরাধীরা বহাল তবিয়তে আছে।

 ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তাফা চান্না মন্ডল বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী এ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে এখনো সোচ্চার রয়েছে। এক বছরেও কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় আমরা কিছুটা হতাশ কিন্তু  হাল ছাড়িনি। হত্যাকারীরা অবশ্যই গ্রেফতার হবে বলে আশাকরছি।

উলে­খ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পেরজন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের ভূয়া তালিকা তৈরি এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের বাদ দিয়ে ভূয়া তালিকা তৈরি করার প্রতিবাদ করতে গিয়েই মুক্তিযাদ্ধা সেলিমকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে বলে মনে করেন তাঁর পরিবার ও এলাকাবাসী।

কোন মন্তব্য নেই