× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



করোনা প্রতিরোধ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়

গোপাল অধিকারী
একটি দেশের বা রাষ্ট্রের প্রধান সরকার। তাই সরকারকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করতে হয়। তবে জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার যেমন জনগনের কাছে দায়বদ্ধ থাকে ঠিক তেমনি জনগণও সরকারের কাছে দায়বদ্ধ। যেমন করোন ভাইরাস। 

এই ভাইরাসটা যেহেতু জনগনের স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সেহেতু সরকার ইচ্ছে করলেই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এটিকে ধ্বংস করতে পারবে না বা টাকা দিয়ে শেষ করতে পারবে না। তবে সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত অবশ্যই নিতে হবে। সব কিছুতেই সঠিক সিদ্ধান্ত বা সর্তকতা নেওয়াটা জরুরী। সিদ্ধান্ত গ্রহণে গাফেলতি বা জ্ঞানের অভাব বড় বিপরে কারণ হয়ে দাড়ায়। একটু অসর্তকতা বড় বিপদ ডেকে আনে। আমি বুঝি আমি যে বিষয়ে অজ্ঞান সেই বিষয়ে জ্ঞানী ব্যক্তির পরামর্শ বা নির্দেশনা নিব। কারণ আমার অজ্ঞতার কারণে অনেকের ক্ষতি কাম্য হওয়া উচিত নয়। সারাবিশ্বে যেভাবে করোনা সংক্রমিত হচ্ছে তাতে এই অবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষনা যুক্তিসংগত হয়েছে বলে আমি মনে করি। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এছাড়াও সরকার সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গুজবরোধে তাৎক্ষণিক যে ব্যবস্থা নিচ্ছে তা আমি মনে করি প্রশংসিত হচ্ছে। যেমন লবণের দাম বৃদ্ধি, করোনারোধে বিভিন্ন এন্টিসেপটিকপণ্য বিক্রয়ে। সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটিও অদূরদর্শী জ্ঞানের প্রসারতা বৃদ্ধি করুক। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে আরও আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বাংলাদেশে করোনার ঝুঁকি আরও কমে যেত বলে মনে হয়। গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৭০ টি দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পরেছে। গত বৃহস্পতি দুপুর পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্যে বিশ্বে মোট ২,০৬,৯০০ জন ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত। আর এই ভাইরাসে মারা গেছে ৮,২৯০ জন। বাংলাদেশে সর্বমোট ১৭ জন আক্রান্ত হয়েছিল। তাদের মধ্যে তিনজনই সুস্থ। গত বুধবার মারা গেছে একজন। তার বয়স ছিল প্রায় ৭০ বছর। তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত্র ছিলেন। বৃহস্পতিবারের দেখা তথ্য মতে বাংলাদেশের পর সবচেয়ে কম মারা গেছে নরওয়েতে। সেখানে আক্রান্ত ১,৫৪৬ জন মারা গেছে ৬জন। আর সবচেয়ে বেশি মারা গেছে চীনে ৩,২৩৭ জন আক্রান্ত ৮০,৮৯৪জন। এই বার আসি মূলকথায়। বিজ্ঞানে পড়েছি উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের উপর নির্ভরশীল। 

বাস্তবিক অর্থে সমাজের যা কিছু সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেছেন সকল কিছুরই প্রয়োজন আছে। আমি ভাবছি আমার বাম হাতটা কম কাজে লাগে হয়ত এর প্রয়োজনীয়তা কম। কিন্তু একটা ঘন্টা বাম হাতটা বাদ দিয়ে কাজ করতে গেলেই দেখব বাম হাত ছাড়া চলা মুশকিল। তাছাড়া ডান হাতটা কখনও যদি আঘাতপ্রাপ্ত হয় তাহলে কিন্তু বাম হাতটাই শেষ সম্বল। কথাটা বলার কারণ করোনা ভাইরাস। করোনাভাইরাসের উৎপত্তি চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে। করোনা ছড়ানোর পর থেকেই চীনা পণ্য অনেক দেশে আমদানী-রপ্তানী বন্ধ হয়েছে। ফলে করোনার প্রভাব পরেছে বিশ্ববাজারে। দাম বেড়েছে অনেক পণ্যের। করোনা একটি রোগ। এটির প্রভাব হাসপাতালে বেশি পরার কথা। কিন্তু প্রতিদিনই সংবাদ পড়েছিলাম করোনা নিয়ে চিন্তিত শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনশনও চলছিল। কেউ কি ভেবেছি এটা এতটা প্রভাব ফেলবে শিক্ষার উপর? অথচ করোনা শিক্ষার উপর ব্যাপক একটি প্রভাব ফেলেছে। তাই বলা যায় প্রকৃতির অনেক কিছুই কিন্তু একে অপরের অপর নির্ভরশীল। ধরুন আপনি আপনার প্রতিবেশির সাথে শত্রæতা করে বৃক্ষনিধন করলেন। এর প্রভাবে যদি কার্বন-ড্রাই-অক্সাইড বেড়ে যায় আর অক্সিজেন কমে যায় তাহলে তা কিন্তু শত্রু-মিত্র উভয়ের উপরই প্রভাব ফেলবে।  কেউ কি ভেবেছি চীনের করোনা সারাবিশ্বে এভাবে ছড়িয়ে পরবে। অনেকে ফেসবুকে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। সরকারকে জ্ঞান দিচ্ছেন। নিজ সন্তানকে বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে সচেতন হবার পরামর্শ দিচ্ছেন। ভাল থাকতে কেউ কি নিজের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখছি? এখন কিন্তু অতি সচেতন হতে চেষ্টা করছি। এই সচেতনতা কি শুধু করোনার কারণে প্রয়োজন?  কখনই না। আমরা কিন্তু এখনও গুজবেই কান দিয়ে চলেছি। গুজবের যুগে কোনটা নিউজ আর কোনটা গুজব তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যেমন কয়দিন একটি গুজব শুনছি যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে তাদের মেরে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু কারা মারছে, কারা মরছে কেউ কি বলতে পেরেছে? পারে নাই। কথা হলো যারা মরেছে তাদের পরিবার কি বসে থাকবে? এখনও কি এমন বোকা কেউ আছে? যাহোক সর্বশেষ ১৬ মার্চ সরকার আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণাকে আমি ইতিবাচকই বলব। কারণ যেহেতু করোনা বিশ্বে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তাই সচেতনতাটা মন্দের কিছু নয়। তবে সবকিছুরই বিপরীত ক্রিয়া কাজ করে তাই আমার মনে হয় এই ছুটি দেওয়া নিয়েও অনেক অতিসচেতন মানুষদের মধ্যে আরেকটি প্রশ্নের জন্ম হবে যে করোনা কি তাহলে বাংলাদেশেও কঠিনভাবে আক্রমণ করবে? সেই জন্যই কি সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিল? তাদের উদ্দেশ্যে বলি গুজব ছড়াবেন না। গুজবে কান দিবেন না। বাংলাদেশে ¯্রষ্টার সহায়তায় এখন পর্যন্ত অন্যান্য দেশের মত মারা যায় নাই। আর আক্রান্ত্রের সংখ্যা বেশি সংখ্যক নয়। যারা আক্রান্ত্র হয়েছে তারা বেশিরভাগই প্রবাসী। তাই করোনা নিয়ে বাংলাদেশে বিচলিত হবার কিছু ঘটে নাই। কিন্তু কথায় বলে সাবধান হতে দোষ নাই। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য বাংলাদেশে করোনায় কেউ মারা গেলে তা বেশি সংক্রমিত হতে পারবে না। আতঙিকত না হওয়াটাই উত্তম। পাশাপাশি যে করণীয় বা সর্তকতাগুলো আছে সেগুলো সবসময় অবলম্বন করা উচিত। কারো শোনা কথায় কান না দিয়ে বাস্তবিকতায় চলা উচিত। করোনা প্রতিরোধ করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়। সবার জন্য সমন্বিত দায়িত্ব করোনাকে প্রতিরোধ করা। আসুন সকলে মিলে সচেতনতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে করোনামুক্ত করি। করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করি। সরকারের সহায়ক ভ’মিকা পালন করি। কারণ জনগণের জন্য সরকার, সরকারের জন্য জনগণ।

লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

০১৭২৩-০৯১২১৩

কোন মন্তব্য নেই