× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



করোনার সাতদিনের সমীকরণ ও বাংলাদেশ

গোপাল অধিকারী
বিশ্বব্যাপী এক প্রকার যুুদ্ধই চলছে বলা যায় যার এক প্রান্তে সকল দেশের জনগণ আর অপর প্রান্তে করোনা। যুদ্ধে তবু একটি স্বস্তির জায়গা থাকে কিন্তু করোনার কাছে কেউ যেন স্বস্তি পাচ্ছে না। সকলের মধ্যে কাজ করছে মানসিক চাপ। বিশ্বব্যাপী এক আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। করোনার ভয়াল ধাবার শিকার বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ। আর করোনার প্রভাব পরেছে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা ও অর্থনীতিসহ সকল কিছুর উপর। প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সারি। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না এই মৃত্যুর মিছিল।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে নতুন করে আরও ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮৮ জনে। ৮৮ জনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৫৫ জন। চিকিৎসাধীন আছেন ২৪ জন। নতুন আরও এক জন মারা যাওয়ায় এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাড়াল ৯ জনে। ৫ এপ্রিল রোববার দুপুরে আইইডিসিআর'র ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বিশ্বে এখন পর্যন্ত ১২ লাখ ১ হাজার ৯৩৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৪ হাজার ৭২০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৩৪ জন। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৫৭। সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৮ হাজার ৪৫২ জন। গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পরে। তারপর থেকেই চলছে করোনার তান্ডব। সাম্প্রতিক কয়েকটি দেশে করোনা ভাইরাস নতুন করে সংক্রমিত হয়েছে আবার পূর্বের কয়েকটি দেশে কমেছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। তবে করোনার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে বলা যায় বাংলাদেশ করোনার প্রভাবের দিক থেকে স্বস্তির জায়গায় রয়েছে। করোনার সর্বশেষ গতিবিধি বা তান্ডব বা পূর্বাভাস জানতে ওয়ার্ল্ড মিটার থেকে তথ্য নিয়ে একটি সমীকরণ দেখে নেই। সমীকরণে দেখা যায়, গত ২০ মার্চ শুক্রবার পর্যন্ত করোনায় চীনে মারা যায় ৩২৪৮ জন আর সুস্থ হয় ৭০৪২০ জন।  ২১ মার্চ শনিবার পর্যন্ত  মারা যায় ৩২৫৫ জন আর সুস্থ হয় ৭১৭৪০ জন। অথ্যাৎ ২৪ ঘন্টায় মারা যায় ৭ জন আর সুস্থ হয় ১৩২০ জন। ২২ মার্চ রবিবার পর্যন্ত মারা যায় ৩২৬১ জন আর সুস্থ হয় ৭২৪৪০ জন। ২৩ মার্চ সোমবার পর্যন্ত করোনায়  মারা যায় ৩২৭০ জন আর সুস্থ হয় ৭২৭০৩ জন। ২৪ মার্চ মঙ্গলবার পর্যন্ত মারা যায় ৩২৭৭ জন আর সুস্থ হয় ৭২৭০৩ জন। ২৫ মার্চ বুধবার পর্যন্ত মারা যায় ৩২৮১ জন আর সুস্থ হয় ৭৩৬৫০ জন। ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনায় চীনে মারা যায় ৩২৮৭ জন আর সুস্থ হয় ৭৪০৫১ জন। অথ্যাৎ এই সাতদিনে চীনে মোট ৩৩ জন রোগী করোনায় মারা যায় আর সুস্থ ৩৬৩১ জন। আর এই সাত দিনে চীনে করোনায়  মোট নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ১৯২ জন।

আর গত ২০ মার্চ শুক্রবার পর্যন্ত করোনায় ইতালিতে মারা যায় ৩৪০৫ জন আর সুস্থ হয় ৪০২৫ জন।  ২১ মার্চ শনিবার পর্যন্ত  মারা যায় ৪০৩২ জন আর সুস্থ হয় ৫১২৯ জন। অথ্যাৎ ২৪ ঘন্টায় মারা যায় ৬২৭ জন আর সুস্থ হয় ১১০৪ জন। ২২ মার্চ রবিবার পর্যন্ত মারা যায় ৪৮২৫ জন আর সুস্থ হয় ৬০৭২ জন। ২৩ মার্চ সোমবার পর্যন্ত করোনায়  মারা যায় ৫৪৭৬ জন আর সুস্থ হয় ৭০২৪ জন। ২৪ মার্চ মঙ্গলবার পর্যন্ত মারা যায় ৬০৭৭ জন আর সুস্থ হয় ৭৪৩২ জন। ২৫ মার্চ বুধবার পর্যন্ত মারা যায় ৬৮২০ জন আর সুস্থ হয় ৮৩২৬ জন। ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনায় ইতালিতে মারা যায় ৭৫০৩ জন আর সুস্থ হয় ৯৩৬২ জন। অথ্যাৎ এই সাতদিনে ইতালিতে মোট ৪০৯৮ জন রোগী করোনায় মারা যায় আর সুস্থ হয় ৫৩৩৭ জন। আর এই সাত দিনে ইতালিতে করোনায় মোট নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ১৫২৪৮ জন।
অন্যদিকে গত ২০ মার্চ শুক্রবার পর্যন্ত করোনায় স্পেনে মারা যায় ১০০২ জন আর সুস্থ হয় ১০৮১ জন।  ২১ মার্চ শনিবার পর্যন্ত  মারা যায় ১৩২৬ জন আর সুস্থ হয় ১৫৮৮ জন। র্অথ্যাৎ ২৪ ঘন্টায় মারা যায় ৬২৭ জন আর সুস্থ হয় ১১০৪ জন। ২২ মার্চ রবিবার পর্যন্ত মারা যায় ১৭৫৩ জন আর সুস্থ হয় ২১২৫ জন। ২৩ মার্চ সোমবার পর্যন্ত করোনায়  মারা যায় ৩৩৫৫  জন আর সুস্থ হয় ৩৩৫৫ জন। ২৪ মার্চ মঙ্গলবার পর্যন্ত মারা যায় ২৬৯৬ জন আর সুস্থ হয় ৩৭৯৪ জন। ২৫ মার্চ বুধবার পর্যন্ত মারা যায় ৩৪৩৪ জন আর সুস্থ হয় ৫৩৬৭ জন। ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনায় স্পেনে মারা যায় ৩৬৪৭ জন আর সুস্থ হয় ৫৩৬৭ জন। অথ্যাৎ এই সাতদিনে স্পেনে মোট ২৬৪৫ জন রোগী করোনায় মারা যায় আর সুস্থ হয় ৪২৮৬ জন। আর এই সাত দিনে স্পেনে করোনায় মোট নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ১৬৪২৬ জন।

চোখ রাখি বাংলাদেশে, বাংলাদেশে গত ২০ মার্চ শুক্রবার পর্যন্ত করোনায় মারা যায় ১ জন আর সুস্থ হয় ৩ জন।  ২১ মার্চ শনিবার পর্যন্ত  মারা যায় ২ জন আর সুস্থ হয় ৩ জন। অথ্যাৎ ২৪ ঘন্টায় মারা যায় ১ জন আর সুস্থ সংখ্যা ০। ২২ মার্চ রবিবার পর্যন্ত মারা যায় ২ জন আর সুস্থ হয় ৫ জন। ২৩ মার্চ সোমবার পর্যন্ত করোনায়  মারা যায় ৩  জন আর সুস্থ হয় ৫ জন। ২৪ মার্চ মঙ্গলবার পর্যন্ত মারা যায় ৪ জন আর সুস্থ হয় ৫ জন। ২৫ মার্চ বুধবার পর্যন্ত মারা যায় ৫ জন আর সুস্থ হয় ৭ জন। ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনায় বাংলাদেশে মারা যায় ৫ জন আর সুস্থ হয় ১১ জন। অথ্যাৎ এই সাতদিনে বাংলাদেশে মোট ৫ জন রোগী করোনায় মারা যায় আর সুস্থ হয় ৮ জন। আর এই সাত দিনে বাংলাদেশে করোনায় মোট নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯ জন।  উপরোক্ত সমীকরণ বিশ্লেষন করলে বোঝা যায় করোনার প্রকপ বাংলাদেশে এখনও মারাত্বক নয়। মারাত্বকরূপরোধ করতে সরকার বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে। গণমাধ্যম করোনার জন্য আলাদা বার্তা বিভাগ করেছে বা গুরুত্ব্সহকারে করোনার সার্বিক অবস্থা তুলে ধরছেন। সঠিক নিয়ম ও সর্তকতা অনুসরণ করলে করোনা বাংলাদেশে তেমন ক্ষতি করবে না বলে আশা করা যায়। চীনা গবেষণায় বলা হচ্ছে, উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমের সময় করোনা ঝুঁকি কমে যাবে। উত্তর গোলার্ধ বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে। তবে এশিয়া মহাদেশের পূর্ব তিমুর, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপ রয়েছে এই দণি গোলার্ধে। আর এশিয়ার বাকি দেশগুলোর অবস্থান উত্তর গোলার্ধে।

উইকিপিডিয়া বলছে, বাংলাদেশের অবস্থান উত্তর গোলার্ধে। আর এই গোলার্ধে গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে কমে যাবে করোনার ঝুঁকি। চীনা গবেষকদের মতে, এই গোলার্ধ করোনার ভয়াল থাবা থেকে মুক্তি পেতে পারে। তাই সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশে করোনার ঝুঁকিটা কিছুটা হলেও কম!
করোনার ভয়াল থাবা বাংলাদেশ থেকে বিদায় এমন প্রত্যাশাই থাকলাম। ইয়েমেন, উত্তর কোরিয়া, তাজিকিস্থান, তুর্কেমিনিস্থান, সোলোমান আইল্যান্ড, ভানুয়াতু, সামোয়া, কিরিবিতি, মাইক্রোনেশিয়া, টোঙ্গা, মার্শাল আইল্যান্ড, পালাও, টুভ্যালু, নাউরু, বুরুন্ডি, সাউথ সুদান, সিয়েরা লিওন, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, বতসোয়ানা, লেসেথো প্রভ’তি দেশে আঘাত করেনি করোনা বা কয়েকটি দেশকে যেমন স্বল্প প্রাণহানিতেই বিদায় নিয়েছে করোনা বাংলাদেশেও তেমনি করোনা বড় ধরণের কিছু করার আগেই বিদায় নিবে সেই প্রত্যাশা করি। প্রত্যাশা করি সকলে মিলে সচেতনতার মাধ্যমে করোনার বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দেবার। প্রকৃতির এই ভয়াল ভাইরাসে কারো উপর দোষ না চাপিয়ে সকলে মিলে হাতে হাত রেখে চলি। আইন না মানা এক প্রকার গুরুত্বর অপরাধ। আসুন আমরা সেই অপরাধ থেকে বেরিয়ে আসি অন্যদেরও আইন মানতে বাধ্য করি।

লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
gopalodikari1213@gmail.com
01723-091213

কোন মন্তব্য নেই