× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



করোনা পরিস্থিতে ঈশ্বরদীর কর্মহীন শত শত স্বর্ণ শিল্পীদের মানবেতর জীবনযাপন

করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া ঈশ্বরদীর শতাধিক স্বর্ণ শিল্পী মানবেতর জীবনযাপন করছে। এসব স্বর্ণ শিল্পী যাদের স্থানীয়ভাবে ‘কারিগর’ বলা হয়। বিগত এক মাসের অধিক সময় ধরে এদের কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে। এরা বেতন ভূক্ত নয়। কাজ করলে মজুরি পায়। এখন সোনা বা চাঁদির সকল কাজই বন্ধ। কোন কাজ না করতে পারায় পুঁজি যতটুকু ছিলো ভেঙ্গে খেয়েছে। নিজেদের এই দুরবস্থার এই কারিগররা কাউকে বলতেও পারছে না। এরা কোনদিনও কারো কাছে হাত পাতেনি। তাই হাতও পাততে তারা জানে না। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যারা সরকারের ত্রাণ বিতরণ করছেন, তারাও এদের কোন খোঁজ-খবর নেয়নি। এই অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে ঈশ্বরদীর শতাধিক স্বর্ণের কারিগর না খেয়ে মরার উপক্রম হয়েছে।

কর্মকারপাড়া ও নূরমহল্লা এলাকায় স্বর্ণশিল্পীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কারিগররা মূলত জুয়েলারী ও বড় দোকানের অর্ডারের কাজগুলো করে দেয়। করোনার প্রভাবে, সকল জুয়েলার্স এবং ছোট-বড় সব দোকান বন্ধ রয়েছে। সেই সাথে বন্ধ সমস্ত জুয়েলারী কারখানা গুলোও। এর ফলে শত শত স্বর্ণ শিল্পীর কারিগর এখন কর্মহারা।

এদের কেউ গড়িত, কেউ সিলা, নকশা, ডাইস, সেটিংসহ বিভিন্ন ধরণের কাজ করে থাকে। কারিগরদের পাশাপাশি ছোট ছোট দোকানদারও এসব কাজের সাথে জড়িত। করোনা পরিস্থিতির আগে দফায় দফায় সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকমাস যাবত এসব কারিগরদের র্দুদিন চলছিল। এই সময়েই তারা পুঁজি ভেঙ্গে খেতে খেতে সর্বশান্ত হয়েছে। এরইমধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে পড়ে জুয়েলারীসহ সোনার কাজের সকল দোকানপাঠ এক মাসের অধিক সময় ধরে বন্ধ থাকায় এদের অবস্থা এখন চরম সংকটাপন্ন।

প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিতে চাঁদ আলী মোড়ের দোকানগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে ধৌত করা হয় এবং বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে হিন্দু সম্প্রদায়ের কর্মকারদের প্রতিটি দোকানে গণেশ পূজার মধ্যদিনে ব্যবসায়ের খাতা শুরু করা হয়, অনেকে হালখাতার আয়োজন করে। কিন্তু করোনার প্রভাবে এইবার পহেলা বৈশাখের দিন এই চিরচেনা ব্যস্ত স্বর্নপট্টীতে কাউকেই চোখে পড়েননি। গণেশ পূজা তো দূরের কথা কেউ তাদের আয় রোজগারের জায়গা এই দোকানগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নও করতে পারেনি।   
কয়েকজন স্বর্ণের কারিগরের সাথে কথা বলে জানা যায়, পহেলা বৈশাখ না হওয়ায় অনেকের কাছ থেকে পাওনা টাকাগুলো এখনো তুলতে পারিনি, যে এই টাকা দিয়ে কিছু দিন চলা যাবে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন হয়ে থাকায় অনেক কারিগরের অর্থনৈতিক অবস্থা সংকটাপন্ন, অনেকে সর্বশান্তও হয়ে গেছে। কবে দোকান খুলবে, কবে আবার কাজকর্ম করতে পারব তারও নিশ্চয়তা নেই।

এবিষয়ে স্বর্ণ শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলন কর্মকার ইতিহাস টুয়েন্টিফোরকে জানান, স্বর্ণের কারিগররা কোনদিন কারো কাছে হাত পাতে নি। এরা হাত পাততেও জানে না। না খেয়ে মরে গেলেও স্বর্ণের কারিগররা কোন দিন কারো কাছে হাত পাতবে না। তিনি বলেন, শুনছি সরকার বিভিন্ন এলাকায় সাহায্য সহযোগিতা করছে। কিন্তু কোন জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের লোকজন তাঁদের এলাকায় ত্রাণ বিতরণ তো দূরের কথা কারো খোঁজখবরও নেয়নি।

কোন মন্তব্য নেই