× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



রাজশাহী বিভাগে করোনা আক্রান্ত কম হওয়ায় সন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোয় করোনার প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক কম হওয়ায় সন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজশাহী বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি করোনার প্রাদুর্ভাব যাতে আর না বাড়তে পারে সেদিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

ভিডিও কনফারেন্সের উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘একটা ভালো বিষয় দেখলাম যে এই জেলাগুলো এখনও সেরকম সংক্রমিত হয়নি। যথেষ্ট ভালো আছে। এই বিষয়টি আপনাদের ধরে রাখতে হবে। আর যাতে কেউ সংক্রমিত না হয় সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন।’

জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন জানান, চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবীদের তারা আবাসিক থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। তাদের সার্বক্ষণিক যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম দূর করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে ত্রাণ বিতরণ করছি। ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম বন্ধে পুলিশ প্রশাসন, র‍্যাব, গোয়েন্দা সংস্থাসহ সবাই তৎপর রয়েছে।’

তিনি বলেন, জেলায় যারা কর্মহীন হয়েছে, তাদের কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাট জেলার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব জানান, তারাবির সময় বেশিরভাগ মানুষ বাড়িতে নামাজ পড়ছেন। মসজিদে জামাতের ব্যাপারে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা মেনে চলা হচ্ছে। তিনি জেলার অনেক মসজিদে খোঁজ নিয়েছেন। তারা সরকারের নির্দেশনা মেনেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা ও তারাবির নামাজ আদায় করছেন।

স্বাস্থ্যবিধি মানা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ জানান, এত কিছুর পরেও যারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না তাদের জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৭০০ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২৯ লাখ ২৯ হাজার ২৭৫ টাকা জরিমানা করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ত্রাণ বিতরণে যেন অনিয়ম না হয় সেজন্য আমরা সজাগ আছি। পুলিশ, র‍্যাব সবাই এজন্য কাজ করছে।’

বগুড়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বগুড়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক কম। আপনারা নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন এজন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি সতর্ক থাকলে এটা আর বাড়বে না। আর যাতে না বৃদ্ধি পায় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে, বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিরাজগঞ্জকে খুব ভালোই রেখেছেন আপনারা। এখানে কোভিড-১৯ বেশি আক্রমণ করতে পারেনি। এজন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি যেসব জেলার সঙ্গে কথা বলেছি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও গাজীপুর থেকে গিয়ে সংক্রমণ করছে। এজন্য বলবো, এ ধরনের লোক যাতে ঢুকতে না পারে সবাইকে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই আমরা সুরক্ষিত থাকতে পারবো।’

মতবিনিময়কালে পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ যেসব কাজ করেছেন তা তিনি উল্লেখ করেন। তবে এত কিছুর পরেও মানুষকে ঘরে রাখতে কষ্ট হচ্ছে বলে জানান তিনি।


পাবনা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলা সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রূপপুর প্রজেক্টে কর্মরত যারা চলে গিয়েছিলেন তারা আবার আসছেন। তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। রাশিয়ায় আবার নতুন করে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এজন্য রূপপুর প্রজেক্টে যারা আসবেন তাদের আগে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করতে হবে। কোয়ারেন্টিন শেষ হলে তাদের কাজে লাগাতে হবে।’
এর আগে জেলা প্রশাসক জানান, মে মাসের চার বা পাঁচ তারিখে রূপপুর প্রকল্পে আরও ১৬২ জন বিদেশি আসবেন। তাদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে দুটি ভবন প্রস্তুত রেখেছেন। রূপপুর প্রজেক্টে কর্মরত শ্রমিকদের পরিবেশ ও কাজ শেষে বেরিয়ে আসার সময় দু’দফা তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেখানে কর্মরত বিদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ জেড এম নুরুল হক জানান, করোনাভাইরাসের স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা সোনা মসজিদ স্থলবন্দর চালু রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ধান কাটা থেকে শুরু করে সরবরাহ চেইন ঠিক রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বোরো মৌসুমের ধান কাটা শুরু হয়েছে। এই ধান কাটা, যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা, চাল কলে পাঠানোসহ যাতায়াতের জন্য যা যা করার তা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলার ধানকাটা পরিস্থিতি উল্লেখ করে নওগাঁর জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ বলেন, কর্মহীন মানুষদের ধান কাটার কাজে লাগাচ্ছি। গত কয়েকদিন ধরে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরাও ধান কাটতে সহায়তা করছেন। জেলার বাইরে থেকেও ধান কাটার জন্য কৃষি শ্রমিক আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ সময় নওগাঁর জেলা প্রশাসককে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জেলাটি মোটামুটি ভালো রাখতে সক্ষম হয়েছেন। করোনাভাইরাস যাতে ঢুকতে না পারে সেভাবে সুরক্ষিত থাকার চেষ্টা করতে হবে।’

নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহরিয়াজ বলেন, ‘আমাদের সন্তুষ্টি নাটোর জেলায় এখনও করোনা আক্রান্ত হয়নি। তবে আমরা এই সন্তুষ্টি নিয়ে বসে থাকেনি, আমরা কাজ করছি।’

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা দেড় হাজারের বেশি মানুষকে আমরা চিহ্নিত করেছি। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সবাই মিলে তাদের আমরা কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেছি। আপনার নির্দেশনার পর সাধারণ মানুষ সচেতন হয়ে তাদের এলাকায় কেউ এলে নিজেরাই তাদের ঘরে রাখার সব ব্যবস্থা করেছেন। যখন তারা পারছেন না আমাদের জানাচ্ছেন এবং আমরা গিয়ে এটা নিশ্চিত করছি। আমরা সবাই মনোযোগ দিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করায় জেলা এখনও করোনামুক্ত আছে।’

নারায়ণগঞ্জ গাজীপুরের কারও শ্বশুরবাড়ি নাটোরে নেই

নাটোর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই একটা জেলা পেলাম যেখানে এখন পর্যন্ত একটাও করোনা আক্রান্ত রোগী দেখা যায়নি। আপনারা যথেষ্ট ভালো রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তার মানে নাটোরের কারও শ্বশুরবাড়ি নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর বা শিবচরে নেই। দেখা যাচ্ছে নিজের বাড়ি না গিয়ে শ্বশুরবাড়ি ওঠে। সেইসঙ্গে করোনার সংক্রমণ ঘটায়।’

অবশ্য এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের জেলায় প্রচুর লোক যাচ্ছে। তবে তারা তাদের সবার হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে অন্যান্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন। তিনি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গও কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার নিজের নির্বাচনি এলাকা টুঙ্গিপাড়ায় শিবচর থেকে এক দম্পতি যাওয়ার কারণে করোনা শনাক্ত হওয়ার কথা আগে জানিয়েছেন।

করোনা সবার ক্ষতি করতে এসেছে

ভিডিও কনফারেন্সে সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই করোনা সবার ক্ষতি করতেই এসেছে। কিন্তু আমরা এর থেকে দেশকে মুক্ত রাখবো, জাতিকে মুক্ত রাখবো। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। সেই সঙ্গে আমাদের অর্থনীতি যেন সচল থাকে। খাদ্য ও চিকিৎসা যেন ঠিকমতো চলে, ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে স্থবির না হয় সবদিকে নজর রেখে আমরা ধাপে ধাপে পদক্ষেপগুলো নেবো। সবাই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করেন যেন বাংলাদেশ করোনা থেকে মুক্ত হয়।’

কোন মন্তব্য নেই