× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ও একটি নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশা


আজ ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস।  ইচ্ছে ছিল একটি লেখা মনেরমত করে লিখব। কিন্তু করোনার দুঃচিন্তায় তা করতে পারলাম না।  গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যের দিন। কিন্তু এই দিনটির সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের জীবন-যাপনের কতটা মিল রয়েছে সেটা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। আমরা যখন কোন সভা বা সেমিনারে যাই তখন বলতে শুনি পুলিশ-প্রশাসন ও সাংবাদিক একে অন্যের পরিপূরক। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে পুলিশের হাতে সাংবাদিক নির্যাতনের সংবাদও পাই কিন্তু কেন? সাংবাদিক নির্যাতনের এমন অনেক ঘটনাই আছে। আজ যে আমাদের একটি দিবস এই দিনেও আমাদের সহকর্মী কাজলকে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় দেখতে হলো। দীর্ঘদিন থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিক নির্যাতনের এসব ঘটনা ঘটছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায়। সাংবাদিকরা যে শুধু সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঘটনাস্থলে প্রকাশ্যে এমন হামলার শিকার হচ্ছেন তা নয়; দেশের বিভিন্ন স্থানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালানোর বহু ঘটনা ঘটেছে। ঢাকাসহ সারা দেশে বিগত বছরগুলোতে এ ধরনের নানা হামলায় বহু সাংবাদিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক। আরও উদ্বেগজনক হলো সাংবাদিকদের ওপর হামলা-নির্যাতনের বেশিরভাগ ঘটনারই সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না।  সাংবাদিক নির্যাতন ও সাংবাদিক হত্যার যথাযথ বিচার না হওয়া স্পষ্টতই অপরাধীদের দায়মুক্তি দিচ্ছে। একে সাংবাদিকদের ওপর হয়রানি, নির্যাতন ও হামলার ঘটনা বাড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতারা।
সাংবাদিকদের ওপর যে কতটা বেপরোয়া ও বর্বর হামলা চালানো হচ্ছে তার সর্বশেষ বড় দৃষ্টান্ত মঙ্গলবার পুরান ঢাকার নয়াবাজারে বন্ড চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভিযানের সংবাদ সংগ্রহ করার সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা। 
সাংবাদিকরা যে কতটা অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করছেন তার একটা দৃষ্টান্ত বলা যেতে পারে পুরান ঢাকার নয়াবাজারে এ হামলার ঘটনাকে।  বন্ড চোরাচালানে জড়িত সন্ত্রাসীদের অভিযান চালাতে গিয়ে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কর্মকর্তাদের কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনা একইসঙ্গে দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্যেরও পরিচায়ক। নয়াবাজারে সাংবাদিকদের ওপর এই হামলার কদিন আগেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বড় ধরনের হামলা ও মারধরের শিকার হন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। এসব হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন আর্টিকেল নাইনটিনসহ অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠন।  এদিকে নির্বাচনকালে কেবল হামলারই শিকার হননি, উপরন্তু মিথ্যা মামলারও শিকার হন কয়েকজন সাংবাদিক। এর আগে ২০১৮ সালের আগস্টে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলার সময় তিন দিনে অন্তত ৪০ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মী আহত হন। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২২ বছরে বাংলাদেশে ৩৫ জন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এদিকে, বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার-মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডে ৮ বছরে ৭১ বার পেছানোর পরও জমা পড়েনি তদন্ত প্রতিবেদন। এই পরিস্থিতি নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
এ অবস্থায় অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত সব হামলা-নির্যাতনের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। দেশে সকল সংকটময় মুূহূর্তে গণমাধ্যমকর্মীরাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সাম্প্রতিক করোনায় আক্রান্ত হয়ে দৈনিক সময়ের আলো'র প্রধান প্রতিবেদক হুমায়ন কবির খোকনের আকালে চলে যাওয়া।  মুক্ত গণমাধ্যম দিবস নয়, সকল দিবস বা দিনই গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি নিরাপদ জীবনের দিন হোক। সেই সাথে এই সংবটময় সময়ে সরকার গণমাধ্যমকর্মীদের পাশে থাকবে সেই প্রত্যাশা রইল।

কোন মন্তব্য নেই