× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



অলস সময় কাটুক মুক্তচর্চায়

গোপাল অধিকারী- এখন দেশব্যাপী এক প্রকার আতঙ্ক চলছে। করোনা ভাইরাস নামক এই আতঙ্ক থেকে বাঁচতে সকলকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। এখন সকলকে ঘরে থাকতে হবে এটাই কাজ। কিন্তু সময় সবসময়ই  নিষ্ঠুর।  তাই সময় ও ¯্রােত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। তাই সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। হাজার অর্থ-বৃত্ত বা রাজত্ব থাকলেও পূর্বের কাল বা সময়কে কিন্তু কিনতে পারবে না। অর্থ-বিত্তসহ নানা উপকরণ দিলেও আমরা শৈশবকাল ফিরে পাব না। কারণ আমরা সকলে সময়ের কাছে বন্দি। তাই বইয়ে পড়েছি বা অনেকে  বলে সময়ের কাজ সময়ে করতে হয়। এই কথার সাথে আমি আমার একটু দ্বিমতও পোষন করছি বা ব্যাখ্যাটাকে একটি প্রসারণ করতে চাইছি বলতে পারেন। আমার মনে হয় আমরা নিয়ম মত সব কাজ করব ঠিক কিন্তু ভাল কাজ বা সুজনশীল কাজ সবসময় করতে পারি। এখানে সময়ের কাজ বলতে সময় অপচয় না করাকে আমি ধরে নিয়েছি। কারণ আমি যদি পড়ার সময় না পড়ে খেলাধুলা করি, কর্মের সময় না কর্ম করি তাহলেতো পরে তা করা কঠিন হবে। পরে তা সাধন বা পূরণ করা সম্ভব নয়। সেজন্য সাধনার একটি সময়ই থাকে বা নিয়মমত পড়ালেখা, কর্ম ও ঘুম দরকার। এখন বৃদ্ধ বয়সে যদি আমি সংগীত চর্চা করব ভাবি তাহলেতো আমার সংগীত আমাকেই শুনতে হবে। সেই সময়ে সময়ের ভারি গলায় জেমস বা এন্ড্রুকিশোর হওয়া সম্ভব নয়। তাই সেই দিক থেকে সময়ের কাজ সময়ে করাই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু মহৎ কাজগুলো বা সুজনশীল কাজ যদি আমি এর মাঝে সম্পন্ করি তাহলে মনে হয় মন্দের কিছু হবে না। কেউ যদি ঘরে থেকে কবিতা লেখে, বা গান লেখে, বা গল্প লেখে বা যেকোন সৃজনশীল কাজ করা যায় তাহলে কি সময়ের কাজ হবে না? আমার মনে হয় অবশ্যই সময়ের কাজ হবে। বরং সময়োপযোগী কাজ হবে বলেই আমি মনে করি। কারণ অনেকে হয়ত ব্যস্ততার কারণে অফিস দিনগুলোতে বা কর্মদিবসের দিনগুলোতে সৃজনশীল কাজের সময় পায় না। এখন কিন্তু অফুরন্ত সময়। নেই কোন ব্যস্ততা। তাহলে এখন যদি আমরা সেই সময়গুলোকে এই সৃজনশীল কাজে ব্যবহার করি আমার মনে হয় সময়টাও ভাল কাটবে আর কাজগুলোও এগিয়ে যাবে। তাই আমি বলতে চাই “সময়োপযোগী কাজ সব সময়ই ভাল”। সময়ের ব্যবধানে অনেক বিখ্যাত হয়েছে আবার অনেকে কুখ্যাতও হয়েছে। তবে সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এমন পরিসংখ্যান মনে হয় সীমিত। সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না আবার জগতে যে সকল মণী-ঋষি বা জ্ঞানী-গুণী মানুষ কাজের মাধ্যমে বড় হয়েছেন তারা সকলেই সময়কে কাজে লাগিয়েছেন। তাদের সময়ের তাদের লেখনির কারণেই আমরা তাদের আজ মনে করছি, তাদের লেখা আজও আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলছে। এমনইভাবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও প্রভাব ফেলবে তারাও তাদের স্মরণ করবে। কথায় আছে, মানুষ চিরকাল বেঁচে থাকে না। বেঁচে থাকে কর্ম। আর কর্মের মাধ্যমেই জগতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে আর লেখনি পাই অমরত্ব।  দিন বদলে গেছে। এখন সবকিছু আরও কঠিন হয়ে পরেছে। এখন সবকিছুতে প্রতিদ্বšিদ্বতা বেশি। কিন্তু আগের সেই মান কিন্তু এখন নেই। খোঁজ নিয়ে দেখেন এখন পূর্বের চেয়ে অনেক কবির আর্বিভাব হয়েছে কিন্তু তাদের কবিতা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,বা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের মত মানসমৃদ্ধ হচ্ছে না। খোঁজ নিবেন সাহিত্যে? অনেক লেখক বই বের করছেন কিন্তু প্রমথ চৌধুরী, শরৎচন্দ্র চট্টোপ্যাধ্যায় বা মুণীর চৌধুরীরর মত কাউকে পাবেন না। কারণ ভাবনা-চিন্তা মানসিকতা উভয় সংকট রয়েছে আমাদের। এমন মন্তব্য সকল সেক্টরেই। তবে হবে না তাও কিন্তু বলতে কেউ পারবে না বা বললে ভুল হবে। যদি সময়কে কাজে লাগিয়ে সঠিক চিন্তা ও চেতনাকে সংযোজন করতে পারি তাহলে এখনও রবিঠাকুর বা নজরুলের মত হতে পারে। আপনি বা আমি পারি না এই মনোভাবে কিন্তু কখনই সুচিন্তার পরিচায়ক না। জগতে যারা নিজ নিজ কর্ম্রে মাধ্যমে বিখ্যাত হয়েছেন তারা কি প্রথম থেকেই বিখ্যাত ছিলেন? তারা কি জন্ম থেকেই উপাধী পেয়েছিলেন? বলতে পারেন রবীন্দ্রনাথের জন্ম কত সালে? কত সালে তিনি কবিগুরু উপাধী পেয়েছিলেন? কত সালে তিনি নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন? নিশ্চই জন্মের সাথে সাথেই পায় নাই। নিশ্চই সকল বইয়ের জন্য নোবেল পুরষ্কার পাই নাই। তাহলে কেন আমি বা আপনি সংকীর্ণতায় হাতগুটিয়ে বসে থাকব? কেন একটি কর্ম করেই মনোবল হারিয়ে ফেলব? কথা দিলাম এই অলস সময়েই আপনি পুনরায় শুরু করেন আপনার পুরোনো প্রতিভা চর্চা অথবা অলস সময় কাটাতে এখনই বেছে নেন একটি সৃজনশীল কাজ দেখবেন আপনি নতুন পরিচয় পেয়েছেন। যা আপনি কল্পনাও করতে পারেন নাই। নতুন পরিচয় যদি নাও পান তবুও কি আপনার ক্ষতি হলো? সময়টা কেটে গেল। মুক্তবুদ্ধি চর্চা হলো। সর্বোপরি কিছুতো জ্ঞান অর্জিত হলো। আপনি লিখছেন আপনার লেখায় কেউ হিংসা করছে? করবেইতো । ভাল কাজেইতো মানুষ হিংসা করে নাকি? যে পারে না বা যার মেধা নেই সেইতো হিংসা করবে না কি? আপনি সেটাকে আপনার প্রতিযোগীতা মনে করে নেন্। দেখবেন আরও ভাল কাজ আপনি করতে পারছেন। কারণ যাদের মেধা আছে তারা হিংসা করে না বরং বেশি বেশি সেই চর্চাটা করে নিজেকে তৈরি করে। আমারতো মনে হয় যারা হিংসা করে তারা আরও বেশি পিছিয়ে পরে। কারণ তারা পরের চিন্তা করতে গিয়ে নিজের ভালটা করার সময় বা সুযোগই পাই না। তাই বলি এই অবসর সময়ে করোনাকে উপলক্ষ করে হিংসাকে করোনার সাথে বিদায় দেন। আর বেশি বেশি সৃজনশীল চিন্তা করেন। দেখবেন আপনার সৃজনশীল চর্চায় আপনি উপকৃত হচ্ছেন। আসুন আমরা এখনই খাতা-কলম হাতে নেই। কোন কর্মটা ভাল লিখে মুক্তচর্চা করি। সৃজনশীল চর্চার কাজ শুরু করি। সময়কে কাজে লাগাই, ঘরে থাকি , নিরাপদে থাকি । 

লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

কোন মন্তব্য নেই