× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



ঈশ্বরদীতে লিচু চাষিদের সর্বশান্ত করেছে সর্বনাশা আম্ফান



ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে ঈশ্বরদীতে বহু বাড়িঘর ভেঙ্গে গেছে। লিচু, আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন গাছপাড়া উপড়ে গেছে। লিচু গাছ থেকে ফলন্ত লিচু ঝরে পড়েছে। পানিতে ডুবে গেছে শাক-সবজির ফসলি জমি।  ডাল ভেঙ্গে বিদ্যুতের তার ছিড়ে পুরো ঈশ্বরদী বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ঈশ্বরদীর প্রধান অর্থকরী ফসল লিচু আম্ফানের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত। সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর, বক্তারপুর, মিরকামারী, সাহাপুর ইউনিয়নের সাহাপুর,আওতাপাড়া, বাবুলচারা, রহিমপুর, পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর,চর রূপপুর ও জিগাতলাসহ লিচু বাগান অধ্যুষিত এলাকার  শত শত গাছ উপড়ে পড়েছে ও ডাল ভেঙ্গে গেছে। বাতাসে গাছে লিচু ঝরে পড়েছে। এমনও লিচু গাছ রয়েছে ডাল না ভাঙলেও গাছ থেকে সব লিচু ঝরে পড়েছে। লিচু চাষিদের এখন মাথায় হাত। এমনতিতেই করোনা পরিস্থিতির কারণে লিচু চাষিরা উৎপাদিত লিচু বাজারজাত নিয়ে উদগ্রীব। এবার আম্ফানে তিতে সর্বশান্ত হয়ে পরলো লিচু চাষিরা।
উপজেলার প্রায় সবগুলো গ্রামেই ঝড়ের তাণ্ডবের চিহ্ন রয়েছে। অনেক জায়গায় পাকা লিচুর ডাল ভেঙে পড়েছে। আম ছিঁড়ে গেছে। অনেকের কাঁচা ঘরের চাল বাতাসে উড়ে গেছে। ঝড়ে তার ছিঁড়ে গেছে অনেক জায়গায়। বৈদ্যুতিক খুঁটি বাঁকা হয়ে পড়েছে । উপড়ে পড়েছে বড় বড় গাছ-গাছালি।
এদিকে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সারাদিন পল্লী বিদ্যুতের দেখা মেলেনি। শহরের নেসকোর বিদ্যুৎ কিছু এলাকায় দুপুর ২ টার পর সংযোগ দিলেও বেশির ভাগ এলাকাতের বিদ্যুতের দেখা মিলেছে বৃহস্পতিবার বিকালে। ঈশ্বরদীতে মোবাইল নেটওয়ার্কও ছিল না বৃহস্পতিবার দিনের বেশির ভাগ সময়।
ঈশ্বরদীর মানিকনগর গ্রামের লিচু চাষি রমজান আলী মজুমদার জানান, লিচু গাছ উপড়ে পড়েছে, ডাল ভেঙ্গে গেছে ও কিছু গাছ দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু লিচু ঝরে গেছে। প্রতিটি গাছে ৫০% লিচুর তি হয়েছে।
মানিকনগর পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার আবুল বলেন, ৩০ বছর ধরে লিচু চাষ করি। ঝড়ে  লিচু এমন তি আগে কখনও হয়নি। একদিকে করোনা নিয়ে আমরা শংকিত। আবার আম্ফান ঝড় আমাদের সর্বশান্ত করে দিয়ে গেল।
 দিয়াড় সাহাপুর গ্রামের জিয়াউল ইসলাম বলেন, এলাকার লিচু গাছের ডালপালা ভেঙ্গে ব্যাপক তি হয়েছে। এ তি চাষীরা কোনকিছুতেই পুষিয়ে নিতে পারবে না।
উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, ঝড়ে ঈশ্বরদী উপজেলার ৬,৮৭০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিরূপণ করা হয়েছে। সবচেয়ে লিচুর বেশী তি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে ১,০৫০ হেক্টর জমির লিচুর ক্ষতি হয়েছে।  টাকার অংকে সঠিক পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা সম্ভব না হলেও ১৫০ কোটি টাকার ফসল তিগ্রস্থ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত ঘর-বাড়ি তির সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। চেয়ারম্যানদের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং মোবাইল সংযোগ কাজ না করায় সঠিক হিসেব নিরূপণ করা একনও সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই