× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



ঈশ্বরদীতে সরকারি চাল সংগ্রহের তালিকা নিয়ে নয়ছয়, বন্ধ চাল কলের নামও রয়েছে তালিকায়

ইতিহাস টুয়েন্টিফোর প্রতিবেদকঃ ধান ভাঙানো মিল, মিলের বয়লার অথবা চাতাল কোনোটাই নেই। দীর্ঘদিন ধরে চালকলে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। কয়েক বছর ধরে বন্ধ হয়ে যাওয়া চালকল এবং এখনও চালুই হয়নি- এমন চালকলকেও এবার সরকারি চাল সরবরাহ করার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ঈশ্বরদী চাল মোকামের ৬০ থেকে ৭০টি চালকলের ক্ষেত্রে ঘটেছে এই দুর্নীতির ঘটনা।

ঈশ্বরদীর ৪২৫টি চাল কলকে ১৫ হাজার ১৬২ টন চাল সরবরাহ করার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। চালকল মালিকদের অভিযোগ, অটো রাইস মিল মালিকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পাবনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইকবাল বাহার চৌধুরী এই তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। তাকে সহযোগিতা করেছেন ঈশ্বরদী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন এস কাইয়ুম। টনপ্রতি ১০০ টাকা না দিলে ঈশ্বরদী খাদ্যগুদাম ও মুলাডুলি কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের অনুমতিও দেন না তারা।


ঈশ্বরদীতে সরকার ঘোষিত চাল সংগ্রহ অভিযানে চাল বরাদ্দ ও মিলের নাম তালিকাভুক্ত করা নিয়ে জেলা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন বলে দুদকে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। সরেজমিন এ অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। ঈশ্বরদীর চাল মোকাম আইকে রোডের মেসার্স রেদওয়ান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান মহলদার দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগে জানান, সরকারের খাদ্য সংগ্রহের আওতায় ঈশ্বরদীর যে ৪২৫ মিলারকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে অধিকাংশ মিলেরই বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও বন্ধ ঘোষিত মিলকেও চাল উৎপাদন করে খাদ্যগুদামে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মানিকনগর গ্রামের মণ্ডল এগ্রোফুড নামের একটি অটো রাইস মিল কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। অথচ পরিত্যক্ত এই মিলকে ৪৩৮.৭৫০ চাল সরবরাহ করার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে মুলাডুলি ইউনিয়নের শেখপাড়ার মেসার্স সাজ অটো রাইস মিল, চকনারিচার মেসার্স খান অটো রাইস মিল এখনও চালুই হয়নি। অথচ তাদের নামও তালিকাভুক্ত করে ১০২.০৬০ টন করে চাল সরবরাহ করার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সাহাপুরের মেসার্স আরাখা চালকলসহ বেশ কয়েকটি চালকল যেগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ, বয়লার নেই, সেগুলোর নামও তালিকায় রেখেছেন ঈশ্বরদী খাদ্যগুদামের উপপরিদর্শক মামুন।


অভিযোগে জানানো হয়, ঈশ্বরদীর ৬০-৭০ মিল মালিকের নামে বিপুল অঙ্কের অবৈধ উৎকোচের বিনিময়ে চাল সরবরাহের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চালকল মালিক মিজানুর রহমান মহলদার বলেন, গত বছর আমার চালকলের নাম তালিকায় ছিল অথচ এবার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন এস কাইয়ুমকে উৎকোচ দিতে রাজি না হওয়ায় আমার মিলের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন এস কাইয়ুম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি নিয়ম-কানুন অনুসরণ করেই ঈশ্বরদী উপজেলায় ৪২৫টি চালকলকে চাল সরবরাহ করার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, সার্ভে করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে চালকলের তালিকা বিভাজন করা হয়েছে। এখনও চাল বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। এ ধরনের অভিযোগ হলে পুনঃতদন্ত করে তালিকা পরিবর্তন করা যেতে পারে। ইউএনও শিহাব রায়হান বলেন, সরকারের খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে কেউ দুর্নীতির আশ্রয় নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই