× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



পেনশন অভাবে সরকারি মৃত ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী ও সন্তানরা রাস্তায়

মোহাম্মদ বেলাল হোসেন
২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে সদ্য বের হয়ে যোগদান করেন রাষ্ট্রীয় অগ্রনী ব্যাংকে। সেই মৃত শফিকূর রহমান, সিনিয়র অফিসার, অগ্রনী ব্যাংক, কাশিনাথপূর শাখা, পাবনা। ২০১৮ সালে ব্যাংকে যাওয়ার পথে রোড এ্যাকসিডেন্ট এ মারা যান। ব্যাংক ঋন নিয়ে বাড়ি করছিলেন সম্পূর্ণ হওয়ার আগে ও ভাড়া না হতেই মারা যান।

ব্যাংক ঋন ৮৫ লক্ষ টাকা। ০৬ মাস না পেরোতেই ম্যানেজার কতৃক নোটিশ সূদাসল সহ সম্পূর্ণ ঋন পরিশোধের অন্যাথায় নিলামের মাধ্যমে বাড়ি বিক্রি ও আইনানূগ ব্যবস্থা। পেনশনের আশায় স্ত্রী ও নাবালক সন্তান সমেত ব্যাংকের উদ্ধতন কর্মকর্তার নিকট যাওয়ার পর সরাসরি জানানো হয় তার স্বামী কোন পেনশন পাবে না।

আকাশ ভেঙে পড়ে মৃত শফিকূর রহমানের স্ত্রী। এতদিন তিনি জানতেন ব্যাংক সরকারি সূতরাং চাকরিও সরকারি, তাই তিনি পেনশন তো পাবেন। আত্মীয় স্বজনরা তো এ কথাই বলে আসছিল কোন সমস্যা নেই নাবালক সন্তান নিয়ে চিন্তার কিছু নাই পেনশনের টাকা দিয়ে ভালো মতো সন্তানদের পড়াশোনা করানো যাবে।

আর এখন জমিসহ বাড়ি বিক্রির নোটিশ তারপর পেনশনও পাবে না। স্ত্রী সানজিদা শারমিন পাগল প্রায় কোথায় যাবেন ২টা সন্তান নিয়ে। তাদেরকে তিনি কি খাওয়াবেন, শূরূ হয় রাস্তায় রাস্তায় ঘোরা। আজ সরকারি ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী, সন্তানরা রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করে।

এটা শুধুমাত্র অগ্রনী ব্যাংকের কর্মকর্তা মৃত শফিকূর রহমানের ক্ষেত্রে নয়, নওগাঁর আলোক মন্ডল, ঠাকুরগাওয়ের জাহাঙ্গীর সহ সোনালী, অগ্রনী, জনতাসহ ৩টি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৬৩ জন তরুণ মৃত ব্যাংক কর্মকর্তার পরিবারের চিত্র। এ সকল সরকারি ব্যাংক কর্মকর্তারা মারা যাওয়ার পর তার পরিবার তথা স্ত্রী ও সন্তানরা পেনশন পান না। তাদের স্ত্রী ও নাবালক সন্তানরা নিদারুণ কষ্টে রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষাবৃত্তি করে।

৪টি রাষ্ট্রীয় বানিজ্যিক ব্যাংক (সোনালী, জনতা, অগ্রনী, রূপালী) এর মধ্যে একমাত্র রূপালী ব্যাংকে পেনশন আছে আর বাকি ৩টি ব্যাংকে পেনশন নাই। কেন নেই এর উত্তর মাননীয় অর্থমন্ত্রণালয় ও সরকার জানেন। কারণ এ ব্যাংকগূলোর নিয়ন্ত্রন ও মালিক স্বয়ং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। শূধূ রূপালী ব্যাংক পেনশন দেবে আর সোনালী, অগ্রনী, জনতা ব্যাংক দেবে না এটা অর্থ মন্ত্রণালয় কিংবা সরকারের কোন নীতি?

আজ বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্ব মহামারী করোনায় আক্রান্ত। আর এ দূর্যোগের মুহূর্তে এ সরকারি ব্যাংক কর্মকর্তাগন অর্থনীতি সচল রাখার যূদ্ধে সম্মূখ যোদ্ধা কিন্তু সে যদি করোনায় আক্রান্ত হন এবং মারা যান তবে পাবেন ৩০,০০০/- টাকার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রনোদনা। যে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রনোদনা দেবে তারাও সরকারি আবার এ ৪টি ব্যাংকও সরকারি। কিন্তু তাদের কর্মকর্তাগন মারা গেলে তো পেনশন পাবেন আর এ ৪টি ব্যাংক কর্মকর্তারা মারা গেলে কেন তাদের স্ত্রী ও নাবালক সন্তানরা রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করবে?

লেখকঃ ম্যানেজার, অগ্রনী ব্যাংক

কোন মন্তব্য নেই