× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



লকডাউন শিথিলের বিপক্ষে আওয়ামী লীগ নেতারা

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকা সত্ত্বেও ‘লকডাউন’ সীমিত করার সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগেরই কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না তারা। তারা মনে করেন, আরও অন্তত ১৫ দিন সাধারণ ছুটি থাকতে পারত। ছুটি না বাড়ানোর কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

এদিকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটিও সাধারণ ছুটি শিথিল করার ফলে সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেছেন, সংক্রমণ বেড়ে গেলে আবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হবে, সেই ছুটি হবে আরও কঠোর।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে থাকা কেন্দ্রীয় ছয় নেতা গতকাল শনিবার বলেন, মধ্য জুন পর্যন্ত লকডাউন ব্যবস্থায় আরও কড়াকড়ি আরোপ করা যেত। এখন হিতে বিপরীত হতে পারে। নাজুক স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দেশের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকেও উপদেষ্টারা সাধারণ ছুটি শিথিল করার ফলে সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে উপস্থিত কমিটির এক সদস্য জানান, তারা সাধারণ ছুটি আরেকটু বাড়ানোর পরামর্শ দেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা পনেরটা দিন পর্যবেক্ষণ করতে পারি। সংক্রমণ বেড়ে গেলে আবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে উৎপাদন শিল্পগুলো তাদের উৎপাদন শুরু করুক। তাছাড়া প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং তা আরও জোরদার করা হবে।’ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গরিব মানুষের কথা চিন্তা করে সাধারণ ছুটি শিথিল করা হয়েছে। তবে আমি এও নির্দেশ দিয়েছি টেস্ট আরও বাড়াতে হবে। সংক্রমণ বেশি হলে পরবর্তীতে কঠোর হবে লকডাউন।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে চলমান সাধারণ ছুটি আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ ৩১ মে রবিবার থেকে খুলছে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস। একই সঙ্গে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহনও চালু হবে। ১৫ জুন পর্যন্ত অফিস, গণপরিবহনসহ অর্থনৈতিক কর্মকা- কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কোন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে সে নির্দেশনা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ওই নেতারা আরও বলেন, বাংলাদেশ করোনাভাইরাস মোকাবিলার যথেষ্ট সময় পাওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দপ্তর প্রস্তুতি নিয়ে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার কাছেও তথ্য গোপন করেছে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হলেও সেসব কর্তাব্যক্তির ব্যাপারে নীরব রয়েছেন। শেখ হাসিনা চেষ্টা করছেন, আগে পরিস্থিতি সামাল দিতে। সে লক্ষ্যে নিরলস খাটাখাটুনি করে চলেছেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, সরকারের অনেক সিদ্ধান্ত তারা জানেন না। রাজনৈতিক কোনো বৈঠকও হয় না। ফলে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেই। তাই সরকারের অনেক সিদ্ধান্ত যেমন সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে, আবার পরিবর্তন করতে হচ্ছে সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, দূরত্ব বজায় রেখে কয়েকটি বৈঠক করা হলে বাস্তবসম্মত কিছু পরিকল্পনা আসত। তা কার্যকরও হতে পারত।

আওয়ামী লীগ সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য অনেকটা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক ও সরকারি সিদ্ধান্ত সমন্বয় করে কাজ করা হলে সুফল পাওয়া যেত। তিনি বলেন, কোথায় যেন এক ধরনের অপরিপক্বতা কাজ করছে। তাই পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তে ঘাটতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এক উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি আরেক দফা লকডাউন ব্যবস্থায় যেতে হবে সরকারকে। সে সময় পরিস্থিতি হয়তো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হবে এটা ঠিক। তবে সবকিছু খুলে দিয়ে জনগণকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়ে নয়।’ মধ্য জুন পর্যন্ত সরকার লকডাউন পদ্ধতি আরও কঠোর করে দিয়ে আক্রান্তের হার নি¤œমুখী করতে পারত বলে মনে করেন তিনি।

ক্ষমতাসীন দলের সম্পাদকমণ্ডলীর আরেক সদস্য বলেন, লকডাউন শিথিল করায় সবার মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। কারণ করোনা আক্রান্ত এখন ঊর্ধ্বমুখী। এই আতঙ্ক মানুষকে আরও বিপদের মুখোমুখি করে তুলবে। তিনি বলেন, এই মহামারী থেকে উদ্ধার  পেতে হলে রাজনৈতিক পরামর্শ উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। দলের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য বলেন, উৎপাদনমুখী শিল্পগুলো পর্যায়ক্রমে খুলে দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল রাখা উচিত ছিল অন্তত আরও ১৫ দিন। উৎপাদনমুখী শিল্পের শ্রমিকদের পরিবহন ব্যবস্থার জন্য স্ব স্ব কোম্পানিকে বিশেষ ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া যেত। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় সরকার টেস্টকেস হিসেবে ১৫ দিনের জন্য শিথিল করেছে। তবে পরীক্ষা চালানোর সময় এখন নয়।’

সংবাদ- দেশ রূপান্তর

কোন মন্তব্য নেই