× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



‘মাহবুবুল আলম হানিফ ভাই ভুল করেন নাই’

রফিকুল ইসলাম লিটন-
ঈশ্বরদী সাঁড়া মাড়োয়ারী হাই স্কুলে যখন পড়ি তখন কোন এক অনুষ্ঠানে গেটের সাথে লেখা ছিলো - “তুমি আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি দিবো”- নেপোলিয়ান বোনাপার্ট ।

তখন বুজতাম না যে একজন মা জাতি উপহার দিবে কি ভাবে জাতি উপহার দিতে তো অনেক মা লাগবে ।

বারাক হোসেন ওবামা আমেরিকায় যখন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেন প্রথমবার তাঁর স্লোগান ছিলো 'change we need'। আর দ্বিতীয়বার স্লোগান ছিলো 'Family first' ।

পরে বুঝলাম যে একজন মা মানে একটি পরিবার আর একটি পরিবার ই একটি জাতি।

কানাডার অন্টারিও তে একজন জনপ্রিয় প্রিমিয়ার (মুখ্যমন্ত্রী) Mike Harris (1995–2002 )যিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর জন্য দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন ।কিন্তু তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টেন্ট পদে চাকুরী হওয়ায় ছেলে মেয়েকে দেখাশোনা বা সময় দেওয়ার জন্য রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে চলে গিয়েছিলেন ।

শুধু একাডেমিক শিক্ষা দিয়ে একজন মানব সন্তান পরিপূর্ন হতে পারে না।

তার সমৃদ্ধির জন্য দরকার পারিবারিক শিক্ষা । মাতা-পিতার স্নেহ সান্নিধ্য।

একদিন একটা ঘরোয়া পরিবেশে কথা বলার সময় ড. সাদাত হোসাইন স্যার আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন তোমাদের এলাকার প্রধান সমস্যা কি মনে করো?

আমি বললাম স্যার মাদক ই আমাদের মেইন প্রবলেম । বললেন তোমাদের ওখানে নেতা কে ?
বললাম।
স্যার জানতে চাইলেন তার ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে।
আমি নির্মোহ ভাবে আমাদের এমপি মহোদয়ের পরিবারের বর্ননা দেওয়ার চেষ্টা করলাম।

স্যার বললেন শোন নেতাদের প্রতি জনগনের যেমন আগ্রহ থাকে তেমনি তার ছেলে মেয়েরাও এলাকার মানুষের কাছে অনুকরনীয় হয়।

নেতার ছেলে-মেয়েরা ভালো হলে ঐ এলাকায় দেখবে অনেকেই তাদের অনুসরন করে আর নেতার ছেলে মেয়েরা সন্ত্রাসী চাদাবাজ মাদকাসক্ত বা মাদক ব্যাবসায়ী হলে একদিকে এলাকার জনগোষ্ঠী অতিষ্ঠ হয় কারন বিচার দেওয়ার কোন জায়গা থাকে না।

অন্যদিকে নেতা মারা গেলে বাবার পদে যাওয়ার জন্য তার ছেলে মেয়েরাই কামড়াকামড়ি শুরু করে।গরু মরলে শকুন যেমন করে । এরকম উদাহরন ইতিহাসে অনেক আছে।

এজন্য প্রতিটা বাবা- মার তো বটেই নেতাদের বেশী করে পরিবারের প্রতি নজর দেওযা উচিৎ এলাকার মানুষের কাছে দায়বদ্ধতা থেকেই।

আমি বিশ্বাস করি সেই দায়বদ্ধতা থেকেই হানিফ ভাই তার পরিবারের কাছে ছুটে গেছেন।

তাঁর স্ত্রী অসুস্থ তার চিকিৎসা আর এই মহামারীর সময় যে কোন সন্তানই চায় বাবা মা কাছে আসুক।
হানিফ ভাই তার এলাকার মানুষের করোনা টেষ্টের জন্য PCR (পিসিআর) ল্যাব করে দিয়েছেন যা এখন ভীষন প্রয়োজনীয় একটা জিনিস । আনবিক প্রকল্প থাকার সত্বেও অনেক চেষ্টা করেও আমরা একটা ল্যাব করতে পারছি না।

আমি জানি হানিফ ভাই তাঁর এলাকায় কর্মহীন প্রতিটা অসহায় পরিবারের জন্য কমপক্ষে খাবারের ব্যাবস্থা করে দিয়েছেন।

এই মহামারীতে প্রতিটা সময় এলাকার মানুষের পাশে ছায়ার মতো থেকে তাদের সাহস দিয়েছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌছে দিয়েছেন। 
এসব করেছেন মানুষের কাছে তাঁর দায়বদ্ধতা থেকে।

তারপরে সবশেষে অসুস্থ স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে সন্তানদের কাছে ছুটে গেছেন ।

এটা নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন তারা আসলে উস্কানি দিচ্ছেন।
তারা হয়তো ভুলে গেছেন ৯১ সনের জাতীয় সংসদে ৩০০ দিনের মধ্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ২০০ দিনের বেশী অনুপস্থিত ছিলেন ।
যে কয়দিন উপস্থিত ছিলেন তাও কোন কথা বলতেন না। কারন মানুষের প্রতি দায় ছিলো না। বাধ্য হয়ে প্রয়াত নেতা শ্রী সুরন্জিত সেন গুপ্ত বলেছিলেন একটা কথা ক গোলাপি।

আর আজ এই আধুনিক যুগে যেখানে ২৪ ঘন্টা প্রতিটি মানুষের সাথে যোগাযোগের করা যায় সেখানে কয়দিনের জন্য পরিবারকে সময় দিলে যারা সমালোচনা করে তাদের মানসিকতার ব্যাপারে সন্দেহ হয়।

কারন রাজনীতি করলেই একজন মানুষের পরিবার থাকবে না?
রাজনীতি করলে কি পরিবারের প্রতি দায়িত্ব থাকবে না?
ইসলামেও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য যত্নশীল হতে নির্দেশ দিয়েছেন।

সকল বিবেচনায় আমার মতে হানিফ ভাই কোন ভুল করেন নাই বরং যথার্থই করেছেন।

লেখক- সাবেক ছাত্রনেতা ও সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক,
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

কোন মন্তব্য নেই