× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



‘মোহাম্মদ নাসিম শুধু নেতা নন, আমার মহান শিক্ষক ছিলেন’- রফিকুল ইসলাম লিটন


শত ব্যস্ততা অথবা হাজারো মানুষের মাঝেও নাসিম ভাইয়ের সামনে যখনই আমি যেতাম হয় একটা হাসি দিতেন অথবা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে কোন ইশারা করতেন।

সেদিনই প্রথম পঙ্কজদার সাথে দাড়িয়েছিলাম আর নাসিম ভাই একটি লাশ বাহী এম্বুলেন্সে উঠে আমার পাশ দিয়ে আল মারকাজুল মসজিদে গোসল করতে গেলেন আমার দিকে না তাকিয়ে ।
পাশ থেকে হাসপাতালের এক কর্মচারী বলছিলো সরেন লাশের গাড়ী যাচ্ছে ।

আমি অস্ফুট স্বরে বলে ফেলেছিলাম লাশ নাতো উনি আমাদের নাসিম ভাই ।

সত্যি নাসিম ভাই আমার সামনে দিয়েই চলে গেলেন ।

নাসিম ভাই আমাকে শিখাতেন কিভাবে মঞ্চে মাইকের সামনে দাড়াতে হয়।

কিভাবে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে হয়।

তিনি শিখিয়েছেন নেতা কর্মী সর্বোপরি মানুষকে কিভাবে ভালোবাসতে হয় ।

আমার মনে আছে নাসিম ভাই স্বাস্থ্য মন্ত্রী থাকাকালীন রাজশাহী আওয়ামীলীগের একজন কর্মী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ছেলের চাকুরীর জন্য ভাইয়ের কাছে এসেছিলেন।
আমি কি কাজে তখন ভাইয়ের পাশেই ছিলাম । ভাই বললেন ভিসি সাহেব কে ফোনে ধরো ।
কয়েক বার চেস্টা করেও পেলাম না পরের দিন ছেলেটার ভাইভা পরীক্ষা ছিলো ।

ভিসি স্যারকে না পাওয়ায় লোকটা মন খারাপ করে চলে গেলেন ।

রাত ১০টার পরে ভাই আমাকে ফোন করে বললেন লিটন দেখোতো ভিসি সাহেবকে এখন পাওয়া যায় কিনা ।
লোকটা আমাদের অনেক পুরাতন কর্মী।ছেলের চাকুরী টা হলে ভালো হতো ।

আমি ফোন দিয়ে ভিসি স্যার কে পেলাম এবং ভাইয়ের সালাম দিয়ে ঘটনা টা বললাম । পরে চাকুরীটা হয়েছিলো ।

এই যে কর্মীদের প্রতি তার আবেগ ভালোবাসা সত্যি বিরল ।

২০০১ সনের পরে হরতালে রাসেল স্কয়ারে পিকেটিং হতো।

প্রথম প্রথম রাস্তায় মাইক দিয়েই মিটিং হতো পরে ট্রাকের উপর মাইক বেধে সব ঠিক করে আমি বাসায় গিয়ে বলতাম ভাই সব রেডী তখন বের হতেন ।
মিটিং শেষে ভাই রিকসায় বাসায় যেতেন ।

তখন অনেক সিনিয়ার নেতৃবৃন্দ থাকতেন কিন্তু ভাই আমাকে ডেকে তার রিকসায় উঠতে বলতেন ।
প্রথম প্রথম লজ্জা পেতাম উঠতে চাইতাম না দুরে সরে থাকতাম।
ভাই খুজে বের করতেন সবাইকে বলতেন দেখোতো লিটন কোথায় ওকে ডাকো ।

একবার হরতালের দিন আমি আর বাঙলা কলেজের সাবেক ভিপি মিজান ভাই ধানমন্ডি এক জায়গায় ছিলাম ।

নাসিম ভাই সংবাদ দিলেন যে তিনি রাসেল স্কয়ারে যাচ্ছেন শুনে আমরাও গেলাম ।
যাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ বেদম মার শুরু করে দিলো। একদিকে লাঠি চার্জ অন্য দিকে এ্যারেষ্ট।
আমরা কয়জন নাসিম ভাইয়ের পান্জাবী টেনে ধরেছিলাম আর পুলিশ আমাদের টানতে ছিল।

একসময় ভাইয়ের পুরো পান্জাবীটাই ছিড়ে গেল।

পুলিশ মিজান ভাই সহ কয়েকজন কে এ্যারেষ্ট করে নিয়ে গেল ।

মনে আছে নাসিম ভাই ঘোষনা দিলেন মিজান কে না ছাড়া পর্যন্ত সে রাসেল স্কয়ার ছেড়ে যাবে না ।

পুলিশ সেদিন মিজান ভাইকে ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলো ।

পুলিশের মার খেয়ে সেদিন রাতেই আমার অনেক জ্বর হয়। নাসিম ভাই শুনে তার ড্রাইভার করিম কে দিয়ে অনেক রকম ফল কিনে পাঠিয়েছিলেন ।

ওয়ান এলেভেনের সময় ৩ফেব্রয়ারী এ্যারেষ্ট করে তিন দিন পর ৫ই ফেব্রুয়ারী ২০০৭ যখন ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিলো ভোরে গিয়ে দেখি নাসিম ভাই , পঙ্কজ দা থানার ভিতর একটা জানালার পাশে বসে আছেন।
আস্তে আস্তে কাছে গিয়ে বললাম ভাই ভয় পেয়েছেন নাকি?
নাসিম ভাই হেসে বললেন ছোট ছোট আপেল আনতে পারবা। বসে বসে আপেল খাই ।

পাশে ছিলেন সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরী তিনি বললেন আমার ছেলের গাড়ীতে আপেল আছে। ভাই বললেন আপনাদের আপেল খাবো না কারন আপনাদের একগুয়েমির জন্যই তো আজ দেশের এই পরিনতি।

এখনকার অনেকেই জানে যে একসময় দক্ষিন অঞ্চলের মায়েরা তার সন্তান বাইরে গেলে যায়নামাজে বসে প্রার্থনা করতো হে আল্লাহ আমার সন্তান যেন ভালোভাবে বাড়ী ফিরে আসে ।
দিনের বেলায় মেয়েদের ধরে নিয়ে যেতো নানান নামে নানান বাহিনীর লোকেরা।

ইত্তেফাকের সাংবাদিক মেহেদীর বিয়ে খেতে আমরা সাতক্ষীরা গিয়েছিলাম
সেদিন সারা রাস্তায় মানীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সর্বহারা নামে সেই সব ভয়ংকর সন্ত্রাসীদের কিভাবে নাসিম ভাই আইনের আওতায় এনেছিলেন সেসব গল্প করেছেন ।

কিভাবে এরশাদ শিকদারের মতো হিংস্র খুনীকে গ্রেফতার করালেন।
কিভাবে তার লোকেরা ভাই কে ম্যানেজ করতে চাইতো সে সব গল্প করতেন ।

আজ অনেকেই অনেক কথা বলতে চান ।

নিন্দুকেরাও স্বীকার করবে যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘৯৬ এর সরকারে মোহাম্মদ নাসিম ভাই টি এন্ড টি মন্ত্রী থাকাকালীনই মোবাইল ফোন প্রথম সাধারন মানুষের হাতের নাগালে আসে ।

গাড়িতে ভাই কখনো ঘুমাতেন না । কোথাও গেলে সারা রাস্তা গল্প করতেন। ছাত্রজীবন - আন্দোলনের কথা।তাঁর জীবনের কথা ।
রাজনীতির ভিতর- বাহিরের অনেক কথা বলতেন।
কোনোটা জানার জন্য কোনোটা শেখার জন্য।

সত্যি আমার জীবন স্বার্থক মনে করি যে , নাসিম ভাইয়ের মতো এতো বড় মাপের একজন নেতার এমন অকৃত্রিম স্নেহ আমি পেয়েছি ।

ভালো থাকবেন নাসিম ভাই ।

---রফিকুল ইসলাম লিটন
সাবেক ছাত্রনেতা ও সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক,
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

কোন মন্তব্য নেই