× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



পাবনায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে স্বপরিবারে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামী মসজিদের ইমাম গ্রেফতার



বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনা-
পাবনায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তাকে স্বপরিবারে হত্যার ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস মসজিদের ইমাম তানভীর গ্রেফতার এবং হত্যায় জড়িত থাকার স্বীকোরোক্তি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ রোববার (৭ জুন) পুলিশ লাইন মিলনায়তেন সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

উল্লেখ্য, পাবনা শহরে অবসরপ্রাপ্ত এক ব্যাংক কর্মকর্তা, তার স্ত্রী ও মেয়েকে কুপিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বাড়িতে লুটপাট চালিয়েছে দূবত্তরা। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ প্রতিবেশীদের নিকট থেকে খবর পেয়ে শহরের দিলালপুরের একটি বাড়ির মূল ফটক ভেঙে এই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা হলো রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার (৬৫), তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন (৬০) এবং মেয়ে সানজিদা খাতুন জয়া (১৪)।
শহরের দিলালপুরএলাকার ফায়ার সাভিস ষ্টেশনের পশ্চিম পাশের একটি দোতলা বাড়ির নিচ তলায় সপরিবারে ভাড়া থাকতেন আব্দুল জব্বার। বাড়িটিতে অন্য কেউ বসবাস করতেন না। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ বিকেল ৩টার দিকে ওই বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে আব্দুর জব্বার এবং তার স্ত্রী ও অপর একটি কক্ষ থেকে মেয়ে সানজিদার মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার বিবরণঃ
নিঃসন্তান দম্পত্তির মা বাবা হওয়ার তীব্র আকাংক্ষাই জব্বার দম্পত্তির মৃত্যুর কারণ হলো। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল জব্বার চাকুরী জীবন শেষ করলেও নিজ ঔরসে জন্মগ্রহণ করেনি কোন সন্তান। বাধ্য হয়েই একদিন বয়সী সানজিদাকে সন্তান হিসেবে লালন পালন করতে থাকে।

মৃত্যু কালে সে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী ছিল।

বাড়ির পাশে ফায়ার সার্ভিস মোড়েই দোকান ছিল তানভীর হোসেনের। দেড় বছর পূর্বে চাল কেনার সুত্র ধরে তার সাথে পরিচয় ছুম্মা খাতুনের। ঘাতক তানভীর ফায়ার সার্ভিস মসজিদে ইমামতি করতেন।

দিনে দিনে বাড়তে থাকে তার সাথে সেই পরিবারের সখ্যতা।।সবাই তাকে আপন করে নিলেও ঘাতক তানভীরের ছিলো আলাদা পরিকল্পনা। সে ভয়ংকর পরিকল্পনা আটতে থাকে।।সেই মোতাবেক সে আইনের চোখকে ফাকি দিতে গত ২৯ /৫/২০২০ তারিখে ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যায় কিন্তু ছুটি শেষ ৩১/৫/২০২০ তারিখে পাবনা আসে। রাত্রি আনুমানিক ১০.৩০ ঘটিকায় যমদূত হয়ে প্রবেশ করে আব্দুল জব্বারের বাড়িতে।

কোন কিছু না বুঝেই জব্বার সাহেব একই বিছানায় নিজের পাশে ঘুমানোর স্থান দেয় তাকে। একে একে সবাই ঘুমিয়ে গেলেও তানভীর পার করে নির্ঘুম রাত,অপেক্ষায় থাকে সুযোগের। প্রস্তুত রাখে চাকু ও কাঠের বাটাম। রাত ঠিক যখন ৪.০৫ মি জব্বার সাহেব বাথরুমে যাওয়ার জন্য উঠেতে গেলে পেছন থেকে গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে পাশে শুয়ে থাকা তানভীর।

মৃত্যুর হাত থেকে বাচার জন্য সে তানভীরের হাতে কামড় দেয়। এতে তানভীরের আঙ্গুল কেটে যায়।তাতেও ক্ষান্ত না হয়ে গামছা দিয়ে গলা পেচিয়ে ধরে,, সাথে বুকের উপর চালায় ধারালো চাকু। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছিটিয়ে পড়ে গোটা ঘরে। মৃত্যু নিশ্চিত করে পাশের ঘরে চলে যায় তানভীর।

পাশের রুমে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন ছুম্মা খাতুন আর তার মেয়ে সানজিদা। মশারীর দড়ি কেটে দিয়েই তার উপরে ঝাপিয়ে পড়ে তানভীর।  ঘুমন্ত ছুম্মা বেগমের গলার রক্তের গড়্গড় শব্দে ভেংগে যায় সানজিদার ঘুম। সে উঠে চিৎকার করতেই তাকেও চাকুতে আঘাত করে। তারপর কাঠের বাটামের আঘাতে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

অতপর চাবি দিয়ে একে একে খুলে বাড়ির সন আলমারি, ড্রয়ার,।লুট করে নেয় ২ লক্ষ টাকা আর ১ লক্ষ ভারতীয় রুপি ও স্বর্নের গহনা।

লুটপাট শেষে আবার যায় জব্বারের ঘরে। তখনও চলছিল তার শ্বাসপ্রশ্বাস।।আবারও উপর্যপুরি বাটাম দিয়ে আঘাত করে সন্তান স্নেহভাজন তানভীর। সত্যিকার ভাবে  মৃত্যু  নিশ্চিত হওয়ার পরে রক্ত মাখা কাপড়ে বাথরুমে যেয়ে গোসল করে বাড়ির সমস্ত গেটে তালা দিয়ে সন্তর্পনে প্রস্থান করে তানভীর।।

যখন সে বাহিরে যাচ্ছিল তখন মসজিদে ধ্বনিত হচ্ছিল আযান। সে যে মসজিদে ইমামতি করতো সেই মসজিদের আযানেই সে নামাজ না পড়ে বাড়ির পথে রওয়ানা দেয়।

তানভীর হোসেনের (২৫) বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুরে। তার পিতা মৃত হাতেম আলী।

বাড়ি যাওয়ার পথিমধ্যে নাটোরের কোন এক ডাক্তারের দোকান থেকে চিকিৎসা করে নেয় তার কেটে যাওয়া আঙ্গুলের।

কোন মন্তব্য নেই