× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



বেসরকারি শিক্ষকদের দুঃসময়

অলোক আচার্য
শিক্ষকতা এমন একটি পেশা যা প্রতিনিয়ত মানবতা ও মনুষ্যত্বের উন্মেষ ঘটিয়ে চলেছে। সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকেই অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই কাজটি এক শ্রেণির মানুষ করে আসছে। শিক্ষা দানের প্রতিটি স্তরে যারা এই দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছে তাদের সবার দায়িত্বই এক। কিন্তু সব শিক্ষকের জীবন যাপন কি একই সরলরেখায় প্রবাহিত হয়? 
বহু প্রতিকুলতায়ও শিক্ষকদের শিক্ষাদানের এই প্রচেষ্টা বন্ধ হয়নি। কম পারিশ্রমিক, প্রতিকুল পরিবেশ কোনো কিছুই শিক্ষকদের দমাতে পারেনি। শিক্ষকরা আছে জন্যই সমাজ সুস্থতার আলো দেখেছে। যুগ যুগ ধরেই শিক্ষকরা এটাই করে আসছে। প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষা দানে যারা নিয়োজিত আছেন তারা সবাই শিক্ষক। দেশে লাখ লাখ শিক্ষক নিরলস প্রচেষ্টায় এই মহান কাজটি করে যাচ্ছে। এত এত গুণের সমাবেশ ঘটাতে হয় যে একজন অতিমানবেরও বুঝি এত মতা থাকে না। সেজন্য শিকতাকে পেশা না বলে সেবা বলা হয়। কিন্তু প্রকৃতপে শিকদের অবস্থা দেশে খুব একটা সুবিধার নয়। একজন শিককে বলা হয় আজীবন ছাত্র। জ্ঞান অšে¦ষণনে তার তৃষ্ণা অপরিসীম। নিজে না শিখলে অন্যকে কি শেখাবেন। তাই তো তাকে পড়তে হয়, জানতে হয় এবং জানাতে হয়। এই জানানোর কাজটি হচ্ছে শিকতার জীবনের সবথেকে পরিশ্রমী এবং কঠিন কাজ। কারণ তার জানানোর কাজটি সফল হয়েছে কি না তা বুঝতে পারাও একটি বড় দতার ব্যাপার।

দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরিরত শিক্ষক যেমন আছে পাশাপাশি আছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকুরিরত শিক্ষক। সরকারি বেতনভুক্ত শিক্ষকের পাশাপাশি দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদানে নিয়োজিত শিক্ষকের সংখ্যা প্রচুর । আবার নন এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতনের উৎসও প্রাতিষ্ঠানিক। সরকারি বা বেসরকারি যাই হোক না কেন প্রতিটি শিক্ষকের দায়িত্বই একজন শিক্ষার্থীকে মানুষ করে গড়ে তোলা। অর্থাৎ তাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্যই এক ও অভিন্œ। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আয়ের মূল উৎস হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রদত্ত বেতন, প্রাইভেট বা কোচিং ইত্যাদি। প্রাইভেটের ওপর নির্ভর জীবন যে কতটা দুর্বিষহ তা কেবল ভুক্তভোগী শিক্ষকরাই জানেন।  কারণ প্রতিষ্ঠান থেকে যে বেতন দেয় তা প্রায়ই যৎসামান্য। শহর ও মফস্বল অঞ্চলভেদে এই বেতনের হার কম বেশি হয়ে থাকে। তবে যাই হোক প্রাইভেট বা কোচিংই এসব শিক্ষকের জীবন ধারণের মূল উৎস। মফস্বল অঞ্চলের কিন্ডারগার্টেনে যারা শিক্ষকতার চাকরি করেন তাদের বেতন তো এক হাজার টাকা থেকে শুরু হয়। আবার যারা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাপ্রতিষ্টান প্রদত্ত বেতনে চাকরি করেন তাদেরও সামান্য বেতন দেয়া হয় এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বেতনের দশা একই রকম। অর্থাৎ প্রাইভেটেই এসব শিক্ষকদেও আয়ের প্রধান উৎস। যারা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করছেন। তাদের সংসারের পুরো ব্যয়ই এই প্রাইভেট থেকে আসে। একটা বেশি প্রাইভেট পড়ানোর অর্থ হলো একটু ভালো জীবনযাপন। আর প্রাইভেট না থাকা অর্থ হলো দুর্বিষহ জীবনযাপন। এখন পৃথিবীতে করোনাকাল চলছে। করোনার প্রভাবে অন্য অনেক কিছুর সাথে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বিকল্প কোনো উপায়ও নেই। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে তো কোনোভাবেই ঝুঁকি নেয়া যায় না। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখাই উত্তম সিদ্ধান্ত। সেই সাথে বন্ধ রয়েছে সব প্রাইভেট এবং কোচিং।

এতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় জীবন পার করছেন এসব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এবং নন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে টিউশন ফি আদায়ও বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতনও বন্ধ। তাহলে এই হাজার হাজার কিন্ডারগার্টেন বা নন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবন ও জীবিকা চলছে কিভাবে? তাদের নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। ভাবা উচিত। কারণ তারা মানুষ গড়ার কারিগর। এই চরম দুঃসময়ে তাদের পাশে আমাদের সবার থাকা প্রয়োজন। আর যাই হোক এই মধ্যবিত্ত শ্রেণির দুঃখ কষ্ট যত তীব্রই হোক না কেন তারা তা প্রকাশ করতে চান না। একথা স্বীকার করতেই হবে দেশের এসব কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা নিয়ে যত অভিযোগই থাকুক না কেন দেশের শিক্ষা বিস্তারে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। তারা মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করে চলেছে। নন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করে চলেছে। অথচ এই দুর্দিনে এই শিক্ষকরা মহা সংকটে রয়েছে। অভিভাবকদের কাছে মানসম্মত শিক্ষার জন্য কিন্ডারগার্টেনকে নির্ভরযোগ্য মনে করে। আজ পাড়া মহল্লায় কিন্ডারগার্টেন গড়ে উঠছে। অথচ এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা চাকরি করছে যারা শিক্ষা দানের কাজটি করছে তাদের যে নূন্যতম বেতন দেয়া হয় তার খোজ আমরা কমই রাখি। সেই কমটা যে কত কম তাও অবাক করা ব্যপার। তাদের কেবল প্রাইভেট নির্ভরতা। এখন তাদের দুরবস্থা দেখার কেউ নেই। তাদের সুবিধা অসুবিধার খোঁজ নেয়া প্রয়োজন। তাদের করোনাকালের এই দুঃসময়ে আর্থিকভাবে সাহায্য করার উদ্যোগ নেয়াও দরকার।

লেখক- শিক্ষক,সাংবাদিক ও কলাম লেখক

কোন মন্তব্য নেই