× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



শেষ চাওয়াটা এভাবে শেষ হবে ভাবিনি; এখনো বিশ্বাস হয়না তিনি লাশ হয়ে ফিরবেন

এস এম রাজা-
রাত তখন বোধ হয় সাড়ে ৮ টা। পেশাগত কাজে অফিসে  আমি  খুব ব্যাস্ত। হঠাৎ দৌড়ে এসে সহকর্মী ছোটু  সংবাদ দিল বড় ভাই স্ট্রোক করেছেন। আলহাজ্ব মোড়ে আলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এক সেকেন্ড দেরী করিনি। ছোটুর বাইক নিয়ে দ্রুত গতিতে পৌঁছে যায় সেখানে। দলীয় নেতা- কর্মী শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভীড়। মেয়র আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ মিন্টুসহ অনেকেই আছেন। অগ্রনী ভূমিকায় মিন্টু। চেম্বারে ঢুকে বড় ভাইয়ের কাছে গেলাম। 
ছালাম দিলাম। কেমন আছেন খবর নিলাম। 
হাঁসি মুখে জবাব দিলেন। খুব খুশি হলেন আমাকে দেখে। 
ডাঃ শফিকুল ইসলাম শামীমের সাথে কথা বলে প্রকৃত অবস্হার খবর নিলাম কৌশলে। কিছুই বুঝতে দেয়া হচ্ছে না বড় ভাইকে। মনে হচ্ছে সে স্বাভাবিক। আলাপ আলোচনার এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হলো ঢাকা পাঠানোর। যাতে উন্নত মানের চিকিৎসা নিশ্চিত হয়। এ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত। পরিবারের লোকজন নিয়ে আসা হলো সাথে যাবার জন্য। ততক্ষণে বড় ভাইকে চেম্বার থেকে বাইরে বসানো হয়েছে। কথা বলছেন হাঁসি মুখে। ব্যাথা বেদনার কোন ছাপ নেই মুখো মন্ডলসহ গোটা দেহে। টন টন করে কথা বলছেন। হঠাৎ আব্দার করে বসলেন একটা  সিগারেট খাবো।সঙ্গে সঙ্গে মিন্টুসহ কয়েকজন না না বলে আপত্তি জানালেন। নাছোর বান্দা, বারবার ঐ একই আব্দার। সিগারেট খেলে ক্ষতি হবে একথাটাই বারবার বোঝাচ্ছিল মিন্টুসহ কয়েকজন। আমিও ঐ না বলার দলে। হঠাৎ আবেগ আপ্লূত হয়ে আমাকেই উদ্দেশ্য করে বলে বসলেন ছোট ভাই তুমি একটু বলো ওদের। এটাই আমার শেষ খাওয়া, আর কোনদিন খাবো না।  তুমি বল্লে মিন্টু রাজী হবে। তার আবেগ, আকুতির কাছে পরাজিত হলাম। মিন্টুকে বল্লাম দাও আর আপত্তি করোনা। সবার অনিচ্ছার বিরুদ্ধে একটি সিগারেট এনে দেয়া হলো। কি খুশি। বাচ্চারা চকলেট পেলে যে খুশি হয় তার চেয়েও বহুগুন। সবাই নিশ্চুপ। নজর সিগারেটের দিকে। আমিও তাকিয়ে আছি অপলক দৃষ্টিতে। এক একটা টান কি যে প্রশান্তির তা সেই উপলব্ধি করেছেন। খুশিতে হাত বাড়িয়ে বুকে জড়িয়ে নিলেন। দোওয়া করতে বললেন। কিছু হয়নি টেনশন করোনা একথাও বললেন। পরিবারের লোকজন এসে গেছে। সময় ক্ষেপন না করে রওনা দেয়ার পালা। এ্যাম্বুল্যান্সে ওঠাতেই বিপত্তি। কিছুতেই শুয়ে শুয়ে ঢাকা যাবেন না। সামনে ড্রাইভারের পাশে বসে যাবেন। কারো কোন কথায় টিকলো না। তিনিই জিতলেন। হাঁসতে হাঁসতে বসে পড়লেন তার কাঙ্ক্ষিত আসনে। যদিও হাতধরে ভক্তিভরে উঠানো হলো। ঢাকা গেলেন শ্যামলীর ট্রমা সেন্টারে। প্রতিদিন খবর নিতাম। ভালো ভালো শুনতে শুনতে পুরো বিশ্বাস অর্জিত হয়েছিল যে, তিনি হাঁসি মুখেই ফিরে আসবেন। কাজের ব্যাস্ততায় দুই তিনদিন খবর নিতে পারিনি। টেনশন ছিল না দেখেই এমনটা হয়েছে। হঠাৎ অপ্রত্যাশিত সংবাদ, বড়ভাই আর আমাদের মাঝে নেই। সেই মুহূর্তে আমার মনের অবস্থা কি হয়েছিল তা বোঝাতে পারবো না। প্রায় ৩৮ বছরের সম্পর্ক। আর সেটা ছিল রাজনীতি ও সংবাদপত্র কেন্দ্রিক। তার সাথে আমার আরও বেশী ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হয় ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হবার পর। তার রাজনৈতিক জীবনের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি, সুখ দুঃখ হাঁসি কান্নার অনেক বিষয়ে কিন্চিত  আমার পরোক্ষ অংশীদারিত্ব ছিল। বড় কিছু তার জন্য করতে না পারলেও যতটুকু করেছি তাতেই তিনি খুব খুশি ছিলেন। আর সে জন্যই তার স্নেহমাখা আদরের ডাক ছোট ভাই আর বন্ধু সুলভ আচরণ মুগ্ধ করেছে। 
রাজনৈতিক উত্থান পতনের নানা দুঃসময়ে তার পাশে দাঁড়িয়ে ছোট ভাই হিসেবে দায়িত্ব পালনে সত্যিকারের ভক্তির প্রমান দিতে সক্ষম হয়েছি। সে জন্যই আমার কোন আব্দার কখনও উপেক্ষিত হয়নি। তার কাছে আমার শেষ আব্দার ছিল রাতে যখনই থানা কিংবা শহরের অন্যকোথাও কোন কাজে আসবেন তখন যেন আমার অস্হায়ী গুরুআশ্রমে বসে  এক কাপ চা পান করে যান। বড় ভাই সে কথা রেখে গেছেন। চিরবিদায় নিবার কয়দিন আগ পর্যন্তও তিনি কথা রেখেছেন। রাত কতটা হয়েছে সেটা কোন বিষয়ই ছিল না। তার কথা খুব মনে হয়। বিশেষ করে আজকের দিনটিতে। আমার রক্তের কেউ নন আনিসুন্নবি বিশ্বাস। তিনি এবং আমি ছিলাম আত্মার আত্মীয়। দেখতে দেখতে আজ চতুর্থ বর্ষ শুরু হলো চিরবিদায় নেবার ক্ষন গননা। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা করুন। এটাই প্রার্থনা করি।

কোন মন্তব্য নেই