× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



ডা. সাঈদকে গ্রেপ্তারে ঈশ্বরদী থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রিক্যুইজিশন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাক্তার আবু সাঈদকে গ্রেপ্তারে রিক্যুইজিশন পাঠিয়েছে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় পাঠানো হয়েছে এই রিক্যুইজিশন। ঈশ্বরদী থানার ওসি শেখ মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বিনা অনুমতিতে করোনা  টেস্টের স্যাম্পল নিচ্ছিল ঈশ্বরদীর রূপপুর মেডিকেয়ার ল্যাব। আর এতে সহযোগিতা করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ। আমরা সকল তথ্য হাতে নিয়ে মামলা করেছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করেই এ কাজ করেছে। ওদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মো. সেলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, ঈশ্বরদী থানার ওসির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি রিক্যুইজিশন পাঠিয়েছেন।

তবে আমরা এখনো তা পাইনি। তাছাড়া ঈশ্বরদী থানাকে বৃহস্পতিবার ডাক্তার আবু সাঈদের সংবাদ সম্মেলনের কথা জানানো হয়। তিনি বলেন, একজন আসামি কি করে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেলিম উদ্দিন বলেন, রিক্যুইজিশন হাতে পেলেই আমরা তাকে গ্রেপ্তারে অভিযানে নামবো। ওদিকে ডাক্তার আবু সাঈদের প্রতিষ্ঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ করোনা টেস্টের অনুমতি পায় ২২শে জুন থেকে। অথচ ১৭ই জুন মেডিকেয়ার হাসপাতালকে তাদের স্যাম্পল দেয়ার জন্য লিখিত অনুমতি দেয়া হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ থেকে। অনুমতির আগেই স্যাম্পল সংগ্রহ নিয়ে চিঠি দেয়ায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ওদিকে করোনা টেস্টের নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়ে ইতালি গিয়েছিলেন মো. সিরাজ মিয়া। সেখানকার বিমানবন্দর থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে দেশে ফেরত পাঠানো হয় তাকে। সিরাজ এখন কোয়ারেন্টিনে আছেন ঢাকার হজক্যাম্পে। তার পাসপোর্ট নম্বর ইক০৭৩২৬৯২ । তার করোনা পরীক্ষা নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে তদন্ত। পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারকে এব্যাপারে খোঁজ নিয়ে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। সিরাজের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের ধোবাজাইল গ্রামে। তার পিতার নাম সোনা মিয়া। বেসরকারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে করোনার নমুনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে পাবনার রূপপুরের অনুমোদনহীন মেডিকেয়ার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে স্যাম্পল গ্রহণ করে তা পরীক্ষা করে। রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের শ্রমিক-কর্মচারীদের টার্গেট করে করোনা টেস্টের হাট বসানো হয় সেখানে। এরপরই পুলিশ গ্রেপ্তার করে ঈশ্বরদীর রূপপুরের মেডিকেয়ার প্রতিষ্ঠানের মালিক আবদুল ওহাব রানাকে। এব্যাপারে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা হয়। যাতে ২ নম্বর আসামি করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটির চেয়ারম্যান ডাক্তার আবু সাঈদকে।
এ ঘটনা জানাজানি হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুড়েই আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেন ডাক্তার আবু সাঈদ ও তার  মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। শুধু অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করোনা পরীক্ষার চুক্তির কারণে নয়, পিসিআর ল্যাব চালুর পর থেকে নানা কীর্তির জন্ম দিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান।

ইতালি ফেরত সিরাজ মিয়া জানান, শহরতলীর ঘাটুরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৯শে জুন টেস্টের জন্য নমুনা দেন তিনি। পরদিন দুপুরে নমুনা পরীক্ষার ফল হাতে পান। এরপর ৭ই জুলাইয়ের ফ্লাইটে ইতালি যান। পরদিন সেখানকার মিলান বিমানবন্দরে পৌঁছার  পর তাদের আলাদা করে ফেলা হয়। এক ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সিরাজ বলেন, কেন তাদের ফেরত পাঠানো হলো সেটি বুঝতে পারছি না। কিন্তু ইতালির বিমানবন্দর পুলিশ আমাদের শুধু বলেছে, তোদেরকে কি কারণে পাঠালো।  ফিরতি ফ্লাইটে কাতারে ২২ ঘণ্টা ট্রানজিট ছিল তাদের। সেকারণে দেশে ফিরেন ১০ই জুলাই। দেশে পৌঁছার পরই তাদেরকে কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার কথা বলা হয়। কেন তাকে  কোয়ারেন্টিনে নেয়া হচ্ছে এ প্রশ্ন করলে তার কাছে করোনা টেস্টের রিপোর্ট আছে কিনা তা চাওয়া হয়। এরপর পাসপোর্টের সঙ্গে রিপোর্টটি দেন। বলেন, এখন আর কিছু জানি না। সিরাজ ইতালি যান ২০১৫ সালে। এবার ২রা ফেব্রুয়ারি দেশে এসেছিলেন তিনি। ১৫ই মার্চ তার আবার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১২ই মার্চ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়।

ওদিকে জেলা যুব মহিলা লীগ নেত্রী মুক্তি খানের ছেলে প্রদ্যোতের করোনা পরীক্ষা নিয়েও কারিশমা দেখিয়েছি এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসি ল্যাব। একদিনের ব্যবধানে তার ছেলের পজেটিভ রিপোর্ট হয়ে গেল নেগেটিভ। এতে হতবাক হয়েছেন মুক্তি নিজেও। বলেন, আমার ছেলের করোনার সব সিমটম ছিল। এরপরও এরা কীভাবে পজেটিভ রিপোর্টকে নেগেটিভ বানিয়ে ফেললো তা আমার বোধগম্য হয়নি। তিনি জানান, ২৪শে জুন তার ছেলের নমুনা পরীক্ষার জন্য গিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরদিন সকাল ১০টায় ল্যাব থেকে তার ছেলেকে ফোন দিয়ে বলা হয় আপনার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এতে আমরা খুব খুশি। এরপর ২৬ তারিখ দুপুর ২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে আমার ছেলের নাম্বারে ফোন দিয়ে বলা হয় তার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। এরপর সে নমুনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিয়েছে বলার পর ফোনকারী জানান, রিপোর্ট আমাদের কাছে আসবে, এখান থেকে সিভিল সার্জন অফিসেও যাবে। তখন আমার ছেলে আমাকে ডেকে ঘটনা জানায়। এরপর সঙ্গে সঙ্গে আমি ডাক্তার আবু সাঈদকে ফোন দেই। কিন্তু তাকে ৬/৭ বার ফোন দিলেও ধরেননি। পরে একজন নার্স ফোন ধরে বলেন, তিনি ওটিতে আছেন। তাকে ফোন দেয়া যাবে না বলে কেটে দেন। এরপর আমি ফোন করে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানাই। এরপর সাংবাদিক কাউসার ইমরানকে ফোন করে ঘটনাটি জানাই। পরে আমি নিজেই ল্যাবে ফোন দিয়ে আগের দিন নেগেটিভ এবং পরদিন পজেটিভ রিপোর্ট দেয়ার কারণ জানতে চাই। পরে আমাকে বলেন- ম্যাডাম আধঘণ্টা সময় দেন, দেখছি। এক ঘণ্টা পর ল্যাব থেকে আকলিমা নামে একজন আমাকে ফোন দিয়ে বলেন- আপনার ছেলের রিপোর্ট আমার সামনেই আছে কম্পিউটারে। আপনার একটা ই-মেইল এড্রেস দেন। রিপোর্ট নেগেটিভ-ই আছে। আমি সেটি আপনাকে পাঠাচ্ছি। তাহলে পজেটিভ কেন বলা হলো, এনিয়ে তার সঙ্গে রাগারাগি করার পর সে আবার আধঘণ্টা সময় চেয়ে ফোন রেখে দেন। এরপর ফোন করে বলেন- আমাদের এখানে একটা ছেলে আছে সে নেগেটিভের জায়গায় পজেটিভ লিখে দিয়েছিলো। তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন হলো, নেগেটিভ রিপোর্টকে কীভাবে পজেটিভ বানালো। আবার পজেটিভ থেকে কীভাবে নেগেটিভ হলো। মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এমন আরো অনেক ঘটনা। আখাউড়ার ছতুরাশরীফ এলাকার ৫ সদস্যের ইউরোপ প্রবাসী একটি পরিবার এ মাসের ১ বা ২ তারিখে করোনার নমুনা পরীক্ষা করতে দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। জেলা শহরে বসবাসকারী তাদের এক আত্মীয় জানান, পরদিন ৫ জনের মধ্যে ওই প্রবাসী ও তার স্ত্রীর ফলাফল নেগেটিভ আসে। তাদের তিন সন্তানের আসে পজেটিভ। এরপর যোগাযোগ করলে দুপুরেই ৩ জনের নেগেটিভ রিপোর্ট দেয়া হয়। এবার তাদের নমুনা দিতে হয়নি। ৩ জনের পরীক্ষা ফি সাড়ে ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়ে দেয়া হয়।

শহরের শিমরাইলকান্দিতে বসবাসকারী আশুগঞ্জের দক্ষিণ তারুয়ার বিল্লাল ভূঁইয়ার অভিযোগ তার পিতার ভুয়া করোনা রিপোর্ট দেয়া হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে। বয়স ৭০ বলে করোনা পজেটিভ রিপোর্ট দিয়ে দেয় ইচ্ছেমতো। আসলে তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন না। এই রিপোর্ট  পেয়ে তাদের পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এক সংবাদ সম্মেলনে পিসিআর ল্যাব ইনচার্জ অধ্যাপক ডাক্তার জাকিউর রহমান এ ধরনের অভিযোগ তাদের জানা নেই বলে জানান। তাদের এখান থেকে টেস্ট করানো লোকের বিদেশ থেকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও তার জানা নেই। এদিকে তাদের পিসিআর ল্যাবে পুরনো মেশিন স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে।  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মো. একরামুল্লাহ জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হয় ১৭ই জুন থেকে। ৯ই জুলাই পর্যন্ত তারা মোট ১ হাজার ৬৯টি নমুনা পরীক্ষা করেন। এরমধ্যে ৪০৫টি পজেটিভ এবং ৬৬৪টি নেগেটিভ হয়।

সংবাদ সম্মেলন: এদিকে গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে রূপপুরের মেডিকেয়ার ক্লিনিককে ‘বিশ্বাস করে’ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেয়ার কথা জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন আছে কি-না সেটি যাচাই না করে ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেয়ার কথা স্বীকার করেন তারা। মেডিকেয়ার ক্লিনিকের সংগ্রহ করা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫০ জন কর্মচারী-শ্রমিকের নমুনা পরীক্ষা করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে। কিন্তু সরকারি অনুমোদন ছাড়া অবৈধ উপায়ে নমুনা সংগ্রহের অভিযোগে মেডিকেয়ার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয় ঈশ্বরদী থানায়। ইতিমধ্যে ক্লিনিকটির মালিক আবদুল ওহাব রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান পিসিআর ল্যাবের ইনচার্জ ডা. জাকিউর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদেরকে সরবরাহ করা হবে মর্মে আমরা বিশ্বাস করে মেডিকেয়ার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে নমুনা সংগ্রহের জন্য অনুমতি দিয়েছিলাম। গত ৬ই জুলাই সংগৃহীত ৫০টি নমুনা দেয়ার পরদিন আমাদেরকে কাগজপত্র সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু কাগজপত্র দিতে না পারায় আমরা তাদের কাছ থেকে আর কোনো নমুনা গ্রহণ করিনি। ৭ই জুলাই ওই ৫০টি নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টের মধ্যে ৩৯টি নেগেটিভ এবং ১১টি পজেটিভ এসেছে। আমাদের ল্যাবে পরীক্ষিত রিপোর্টগুলোতে কোনো ভুল নেই। অ্যানালাইসিস সহ এসব পরীক্ষার রিপোর্ট গ্রাফ পিসিআর মেশিনের মেমোরিতে সংরক্ষিত আছে। সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শফিকুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক আশাদুল্লাহ মিয়া, পিসিআর ল্যাব ইনচার্জ এস এম জুনায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন ডাক্তার আবু সাঈদ। নির্দিষ্ট সময়ে তিনি এসেছিলেনও। কিন্তু প্রেস ক্লাবে পুলিশের আনাগোনা দেখে তিনি সটকে পড়েন। সংবাদ সম্মেলনেও যোগ দেননি।

কোন মন্তব্য নেই