× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



পৌরসভা নির্বাচন : ভোট হতে পারে ডিসেম্বর মাসে

দেশের সব পৌরসভায় আগামী ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিতে ইসি সচিবালয়কে নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

রোববার কমিশনের ৬৮তম সভায় এ নির্দেশনা দেয়া হয়। ওই সভায় এজেন্ডার বাইরে গিয়ে আলোচনায় ডিসেম্বরে পৌরসভায় সাধারণ নির্বাচন আয়োজনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে গত ১০ আগস্ট অনুষ্ঠিত ৬৭তম কমিশন সভায়ও প্রায় একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পৌরসভাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করছে ইসি সচিবালয়। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পৌরসভাগুলোর বর্তমান পরিষদের মেয়াদ, নির্বাচন আয়োজনে জটিলতা আছে কি না- এসব তথ্য জানতে চিঠি দিতে যাচ্ছে কমিশন। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আরও জানা গেছে, সারা দেশে তিন শতাধিক পৌরসভা রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বেশির ভাগ পৌরসভায় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শপথ নেন মেয়র ও কাউন্সিলররা। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসাবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে বেশির ভাগ পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ২০ অনুযায়ী, পৌরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ করতে হবে। এ হিসাব অনুযায়ী যেসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে সেগুলোতে নভেম্বর বা ডিসেম্বরে ভোটগ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এবার মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে ও কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদে নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পৌরসভা নির্বাচনের দিনগণনা নভেম্বর থেকে শুরু হবে। এর পরই যাতে নির্বাচন করা যায় সেই প্রস্তুতি নিতে ইসি সচিবালয়কে বলা হয়েছে। যে পৌরসভার নির্বাচন এগিয়ে আসবে সেটাই করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রায় সব কমিশন সভায় পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কমিশনকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একজন কর্মকর্তা জানান, এর আগে এক দিনে ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবারও এক দিনে ভোটগ্রহণের চিন্তা করা হচ্ছে। পৌরসভাগুলো সদর এলাকা হওয়ায় ইভিএম ব্যবহার বাড়ানো হবে। কমিশন সভায় সেই প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। করোনা সংকট পরিস্থিতি ও স্কুল খোলা এবং বার্ষিক পরীক্ষার তারিখ বিবেচনা করে পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ডিসেম্বরে ভোট হলে নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।


জানা গেছে, কমিশনের ৬৮তম সভা অনুষ্ঠিত হয় গত রোববার। ওই সভায় করোনাভাইরাস সংকটের কারণে স্থগিত নির্বাচনগুলোর বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে পৌরসভার স্থগিত ও সাধারণ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ের নির্বাচন অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়।

আর পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। ইসির ওই সভার কার্যবিবরণীতেও এসব সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তা বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। আরও জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট কমিশনের ৬৭তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভাতেও মেয়াদ উত্তীর্ণ পৌরসভার নির্বাচন নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর ২৩৪টি পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করে ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ করা হয়। এবারও ওই তালিকা ধরে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে ইসি সচিবালয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পৌরসভার বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ, প্রথম সভার তারিখ ও জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের তারিখ সংগ্রহ করে কমিশনে পাঠাচ্ছেন।

রাজশাহীর সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ইসি সচিবালয়কে জানিয়েছেন, ওই জেলার ১৪টি পৌরসভার তিনটিতে মার্চে, দুটিতে জানুয়ারি বাকি ৯টির মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের বিভিন্ন তারিখে শেষ হচ্ছে। একইভাবে কুমিল্লার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার জেলার বেশির ভাগ পৌরসভার মেয়াদ ফেব্রুয়ারিতে শেষ হচ্ছে।

একইভাবে জয়পুরহাট, রংপুরসহ কয়েকটি জেলার নির্বাচন কর্মকর্তারাও একই ধরনের তথ্য পাঠিয়েছেন। কোনো পৌরসভার সীমানায় পরিবর্তন ও মামলা থাকলেও সেই তথ্য পাঠাচ্ছেন মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা। সূত্র আরও জানিয়েছে, পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়ে শিগগিরই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিতে যাচ্ছে ইসি। ওই চিঠিতে পৌরসভার মেয়াদ ও নির্বাচন আয়োজনে কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে কি না- তা জানতে চাওয়া হবে।

দলীয় প্রতীকে মেয়র নির্বাচন : জানা গেছে, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে এবং কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদে নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়াসহ অন্যান্য বিদ্যমান যোগ্যতা-অযোগ্যতা শর্ত অনুযায়ী নির্বাচন হবে।

কোন মন্তব্য নেই