× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



মনোনয়ন সংগ্রহের ছড়াছড়ি, অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগ

পাঁচ আসনের উপনির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন চান মোট ১৪১ জন, আসন প্রতি গড়ে ২৮ জন। এক আসনেই আছে ৫৬ মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে এতে অস্বস্তিতে পড়েছে আওয়ামী লীগ। এ প্রবণতাকে রাজনীতির অসুস্থ চর্চা আখ্যা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। বলছেন যারা আশা করছেন ফরম কিনলেই শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ হবে, তা একেবাই ভুল। পাশাপাশি শুধু ফরম তুলে বা পোস্টার ছাপিয়ে নেতা হওয়া যাবে না বলেও সতর্ক করেন তারা।

ঢাকার এক আসনে ৫৬টিসহ ৫ সংসদীয় আসনে ১৪১টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ। জমাও পড়েছে সবগুলো। এতে প্রতি আসনে গড়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ২৮ জনেরও বেশি।

তবে এ নিয়ে অস্বস্তিতে আওয়ামী। কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে হাতেগোনা কয়েক জনই ত্যাগী ও একনিষ্ট কর্মী। মনোনয়নপত্র কেনা ও জমার এই ঘটনা তাদের কাছে অবাঞ্ছনীয়।

বেশির ভাগ মনোনয়ন প্রত্যাশীর ফরম কেনার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ প্রবণতার কঠোর সমালোচনাও করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

আন্দোলন-সংগ্রামে রাজনীতির মাঠে না থেকে শুধু মনোনয়নপত্র কিনে বা পোস্টার ব্যানার ছাপিয়ে নেতা হওয়া প্রবণতা থেকে সরে আসার পরামর্শও দিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

অন্যদিকে দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে জাতীয় সংসদের আসন্ন উপনির্বাচনে মনোনয়ন দেবে না আওয়ামী লীগ। প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষেত্রে অন্যসব বিষয়ের সঙ্গে এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে ক্ষমতাসীন এ দলটি। কিছু জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মীর দুর্নীতিতে সম্পৃক্ততায় বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টির ফলে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি দল।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র দলের এ অবস্থানের কথা জানিয়েছে। এদিকে শূন্য হওয়া আসনগুলোর নির্বাচনে আওয়ামী মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হবে বলেও প্রত্যাশা দলটির।

আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যের মৃত্যুর কারণে বর্তমানে দেশের পাঁচটি সংসদীয় আসন শূন্য রয়েছে। এদের মধ্যে পাবনা-৪ আসনের তফসিল রবিবার (২৩ আগস্ট) ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর এ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শূন্য হওয়া ঢাকা-৫ এবং নওগাঁ-৬ আসনে নির্বাচন হবে ১৭ অক্টোবর। তবে ঢাকা-১৮ এবং সিরাজগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনও সিদ্ধান্ত এখনও নেয়নি।

এদিকে সব আসনের ভোটের সিদ্ধান্ত না হলেও আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করে রাখছে। দলীয় মনোনয়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আগ্রহীদের কাছ থেকে দলীয় মনোনয়ন গ্রহণ করেছে তারা। প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে শিগগিরই দলের সংসদীয় বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, বরাবর প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলের পক্ষ থেকে যেসব ক্রাইটেরিয়া বিবেচনা করা হয়, এবার সেগুলোর পাশাপাশি দুর্বৃত্তায়ন-সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা বিবেচনা করা হবে। কোনও ধরনের সন্ত্রাস-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য বিবেচনা করা হবে না।

দলের নেতারা প্রত্যাশা করেন, সব আসনের উপনির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা বিজয়ী হবে। তাদের যুক্তি, যেসব আসনের সংসদ সদস্যরা মারা গেছেন তারা সবাই আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই উপনির্বাচনে তাদের মনোনীত প্রার্থীরা জিতবেন। বিজয় নিশ্চিত করতে তারা যোগ্য ও জনপ্রিয়দের মনোনয়ন দেবেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘আমরা প্রার্থিতা মনোনয়ন ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেই। তা হলো দলের সঙ্গে প্রার্থীর সম্পর্ক, নির্বাচনি এলাকায় তার অবস্থান বা জনপ্রিয়তা এবং সক্ষমতা। তবে এর বাইরেও এবার আমরা আরেকটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেবো। সেটি হলো আগ্রহী ব্যক্তি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কিনা বা তার কোনও বদনাম আছে কিনা।’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের বর্তমান অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কিছু নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের দুবৃত্তায়নের কারণে সরকার ও দলকে বিব্রত হতে হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে হোক সেটা আমরা চাই না। এজন্য দলের অবস্থান হলো দুর্বৃত্তায়নে সম্পৃক্তদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না।’

সংসদ সদস্যদের মৃত্যুর কারণে যে পাঁচটি সংসদীয় আসন শূন্য হয়েছে তার সবগুলোতেই চলতি মেয়াদসহ টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। অবশ্য তার আগে নওগাঁ-৬ আসনটি আগের টানা তিন মেয়াদে (১৯৯১-২০০১) বিএনপির এমপি ছিলেন। এছাড়া পাবনা-৪ আসনটি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হলেও এরপর থেকে টানা আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে আসছে।

ঢাকা-৫ (পূর্বের ৪) আসনে ১৯৯১ সালে বিএনপি, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আবার ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হন। এই আসনটির মতো ঢাকা-১৮ (পূর্বের ৫) আসনেও ১৯৯১ সালে বিএনপি, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আবার ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হন। অপরদিকে সিরাজগঞ্জ-১ আসনে আগাগোড়াই আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়ে আসছেন।

মনোনয়ন সংগ্রহের ছড়াছড়ি
শূন্য হওয়া পাঁচটি আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ১৪১ জন। গড়ে আসন প্রতি ২৮ জন মনোনয়ন চেয়েছেন, যা ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণ। ওই সময় দেশের ৩০০ আসনে চার হাজার ২৩ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। আসন প্রতি সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১৪ জনের কম। সংসদ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সবচেয়ে বেশি ছিল বরগুনা-১ আসনে। এ আসনের মনোনয়ন চেয়েছিলেন ৫২ জন। এবারের উপনির্বাচনে ওই রেকর্ড ভেঙে গেছে। পাঁচটি আসনের মধ্যে ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়ন চেয়েছেন আওয়ামী লীগের ৫৬ জন। এছাড়া নওগাঁ-৬ আসনে ৩৪, পাবনা-৪ আসনে ২৮, ঢাকা-৫ আসনে ২০ এবং তিন জন সিরাজগঞ্জ-১ আসনে তাদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

কোন মন্তব্য নেই