× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



বৃষ্টির স্মৃতি, বৃষ্টির যন্ত্রণা


আরিফ আহমেদ : দিনরাত সমানে বৃষ্টি হচ্ছে, জানালা দিয়ে বৃষ্টির এই দৃশ্য দেখে মনে পড়ে যায় বৃষ্টির ওপর লেখা কত স্মৃতি। বৃষ্টি, যা আকাশ থেকে মাধ্যাকর্ষণের টানে ভূপৃষ্ঠের দিকে পড়ে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘের সৃষ্টি করে।

এই ফোঁটাগুলি যথেষ্ট পরিমাণে ভারি হলে তা পৃথিবীর বুকে ঝরে পড়ে।

বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি সুপেয় জলের বড় উৎস। বৃষ্টি ছাড়া বনাঞ্চল চিন্তাই করা যায় না। এই বৃষ্টি নিয়েই সাহিত্যিকরা লিখেছেন কবিতা, গল্প, গান। গবেষক গবেষণা করেছেন বৃষ্টি নিয়ে।


বৃষ্টি কারো কাছে মায়ার আবেগ, কারো কাছে স্মৃতিময় মুহূর্তের ক্ষণ। আকাশে মেঘ দেখলেই মনের ভেতর অন্যরকম একটা ভালোলাগার অনুভূতি কাজ করে। একেক জনের অনুভূতি ভিন্ন রকম।

বৃষ্টির সঙ্গে আবেগের একটা গভীর সম্পর্ক আছে। যে কারণে হয়ত কষ্ট আর ভালোবাসার প্রতিরুপ ধরা হয় বৃষ্টিকে। বৃষ্টি শুধু পারিবারিক, সামাজিক বা কারো লেখার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন ধর্মেও এর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একেক বয়সে একেক জনের কাছে বৃষ্টির রুপ একেক রকম হয়ে থাকে। ছেলেমেয়েদের কাছে বৃষ্টি মানেই আনন্দের উপলক্ষ, কিশোর বয়সে পাগলামি, যৌবনে আবেগে হারাবার হাতছানি, বার্ধক্যে অতীতে ফেলে আসা স্মৃতি।

আগেকার দিনে বৃষ্টি হলেই পাড়া-মহল্লার ছেলেরা বল নিয়ে মাঠে, রাস্তায়, অলিতে গলিতে ফুটবল খেলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ত। বাড়ির মেয়েরা সবাই মিলে ছাদে ভিজতে যেত। দিনভর চলা বৃষ্টিতে সন্ধ্যার পর বাড়ির ছেলে-মেয়েরা গানের আসরে করেতো। জমে উঠতো বড়দের পারিবারিক আড্ডা।

ছুটির দিনে বৃষ্টি মানে ছিল আরাম আর অবসরের সবচেয়ে বড় উপকরণ। পুরুষরা সব কাজ-কর্ম ভুলে একপ্রকার অবকাশ যাপন করতো। আর গৃহিণীরা বাড়িতে খিচুড়ি রান্না করতো।

বৃষ্টির সুন্দর আবহ হয়ত গ্রামেই বেশি বুঝা যেত। টিনের চালে বৃষ্টি পড়ার শব্দ ভিন্ন এক ছন্দের তৈরি করতো। নদীনালায় বৃষ্টি পরার দৃশ্য এখনো অতুলনীয়। ঘাটের মাঝি বিকেল পেরুবার আগেই ঘরে ফিরত।

দিন যায়, সময় বদলায়, পরিবর্তন হয় অনেক কিছুর। এখন শহরে বৃষ্টি মানে যন্ত্রণা, দুর্যোগ। রাস্তায় জমা জলে মানুষের কর্মব্যস্ত দিনে বয়ে আনে দুর্ভোগ। পথের মাঝে জীবিকা অর্জন করে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর কাছে বৃষ্টি যেন অভিশাপ। বৃষ্টিতে নালার পানি একাকার হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে।

তবুও বৃষ্টির রূপ আজো সুন্দর আজো আবেগময়।

কোন মন্তব্য নেই