× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



ঈশ্বরদী আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাসের জীবন্ত কিংবদন্তি নায়েব আলী বিশ্বাস




শেখ মহসীনঃ  

ঈশ্বরদীর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জীবন্ত কিংবদন্তি আলহাজ্ব নায়েব আলী বিশ্বাস। ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি। তিনি মুক্তিযু্দ্ধের অন্যতম সংগঠক, ঈশ্বরদী থানা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, থানা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, পৌর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকসহ তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি  আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ  দায়িত্ব পালন করেছেন। 

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক  আলহাজ্ব নায়েব আলী বিশ্বাস ঈশ্বরদীতে সর্বপ্রথম পুরাতন বাসটার্মিনালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। যা  ঈশ্বরদীর ইতিহাসে অম্লান ও চির স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। 

রাজনৈতিক জীবনে ব্যাপক সংগ্রাম ও বিস্তর বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে হয়েছে নায়েব বিশ্বাসকে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে  কারা নির্যাতন ও  মানসিক অত্যাচার সহ্য করেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রশ্নে কখনো মাথা নত করেননি। আজও তিনি সততা, মেধা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও বাগ্মিতার ফলে সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে জনকল্যাণমূলক রাজনীতির অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন।তাইতো নায়েব আলী বিশ্বাসের নাম শুনলেই মানুষের মাঝে ভেঁসে উঠে সততা, ন্যায় নিষ্ঠা ও সাদামনের এক বর্ণাঢ্য রাজনীতিবিদের প্রতিচ্ছবি। 

আলহাজ্ব নায়েব আলী বিশ্বাস ঈশ্বরদী বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। এছাড়াও ঈশ্বরদীতে তৎকালীন জিন্নাহ কলেজ বর্তমানে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ নির্মাণে রয়েছে তার অসামান্য অবদান। এছাড়াও তিনি ঈশ্বরদীতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। 

৫০’র দশকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি নায়েব আলী বিশ্বাসের। সেই থেকে  রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় তিনি কখনও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শন ও আদর্শ থেকে  বিচ্যুত হননি।  লোভ-লালসা ও অর্থমোহ  কখনও তাঁকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। দলের নাম ভাঙিয়ে কখনও ঠিকাদারী বা ব্যবসা বাণিজ্য করেননি। অবৈধ অর্থ আয়ের সকল উৎসকে তিনি দু’পায়ে মাড়িয়ে নিজের নীতি,সততা ও নৈতিকতাকে আজীবন অটুট রেখেছেন। তাইতো তিনি আজো ঈশ্বরদী মানুষের কাছে ক্লিন ইমেজের একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সর্বমহলে প্রশংসিত ও সমাদৃত। 

ঈশ্বরদী থানা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নায়েব আলী বিশ্বাস ১৯৬২ সালের শিক্ষা কমিশনের আন্দোলন, ৬৬’র ছয়দফা আন্দোলন, ৬৯ গণঅভ্যূত্থান ও ১৯৭০ সালের জাতীয়  নির্বাচনে  দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৭১ সালে ভারতীয় প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে নিজের জীবন বাজি রেখে প্রিয় মাতৃভূমিকে শক্রুমুক্ত করতে  মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।  দেশ স্বাধীনের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে ডাকে সাঁড়া দিয়ে দেশ গঠনের কাজে অংশ নেন।  ঈশ্বরদীতে যুবলীগ ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে নিরলস পরিশ্রম করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারের হত্যার পর নায়েব আলী বিশ্বাসকে আটক করে পুলিশ। তাকে দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দি থাকতে হয়। 

নায়েব আলী বিশ্বাস দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী তৈরির মহান কারিগর। অসংখ্য নেতা-কর্মীকে দলে সম্পৃক্ত করে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেছেন। 

মুজিব অন্তপ্রাণ আলহাজ্ব মোঃ নায়েব আলী বিশ্বাস সারাটি জীবন আওয়ামী রাজনীতির জন্য শুধু নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। দল থেকে নেননি কিছুই। জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্য শুধুমাত্র সদ্য সমাপ্ত পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনে তিনি মনোনয়ন চেয়েছিলেন।  এর আগে কখনও তিনি মনোনয়ন চাননি। নির্বাচনে তিনি  মনোনয়ন না পেলেন দলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই নেতা দলের মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ্বাসের পক্ষে নির্বাচনের সর্বদা সরব ছিলেন। 

আসন্ন ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে তিনি দলের কাছে শেষবারের মতো মনোনয়ন চাইবেন। ইতিমধ্যে নায়েব বিশ্বাসের পক্ষে তাঁর বড় ছেলে সাজেদুল ইসলাম ডলার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।  বয়সের কারণে এটিই হয়তো দলের কাছে এটিই তাঁর জীবনের শেষ মনোনয়ন চাওয়া হতে পারে। 

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার  নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা নায়েব আলী বিশ্বাস  বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আমাকে ভালবাসেন। সারাজীবন আওয়ামী লীগের জন্য নিঃস্বার্থভাবে রাজনীতি করেছি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।

উল্লেখ্য, ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক ভুমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যুর পর এ আসনের উপ-নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাস। গত ২৬ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনে নুরুজ্জামান বিশ্বাসের অংশগ্রহণের ফলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। আগামী ১০ ডিসেম্বর ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

কোন মন্তব্য নেই