× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



পাবনার ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বর’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী



ইতিহাস টুয়েন্টিফোর প্রতিবেদকঃ 
পাবনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্মরণে স্বাধীনতা চত্বরের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক স্বাধীনতা চত্বরের শুভ উদ্বোধন করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে পাবনার রফিকুল ইসলাম বকুলের অবদানের কথা স্বরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে সরকারে আছে বলেই দেশের মানুষের উন্নতি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, “আজকে দারিদ্র্যসীমা আমরা কমিয়ে আনতে পেরেছি। মাথা পিছু আয় আমরা বৃদ্ধি করেছি, মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করেছি। একেবারে গ্রাম পর্যন্ত যে মানুষের জীবন মান উন্নত করা যায়, সেটাও আমরা প্রমাণ করেছি।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানলে করোনা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।’ ‘বিশ্বব্যাপী আরেকটি নতুন ধাক্কা আসছে। এখন থেকেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেক্ষেত্রে সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে হবে এবং এর ফলে যেন মানুষ আর ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কারণ, প্রথম দিকে আমাদের অতটা অভিজ্ঞতা ছিল না, এখন অভিজ্ঞতা হয়েছে। কাজেই নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং অপরকে সুরক্ষিত করা এই দায়িত্বটা সবাইকে পালন করতে হবে এবং আমরা এটা করতে পারব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
তিনি আরো বলেন, ‘যে ভ্যাকসিনটা আবিষ্কার হচ্ছে, সেটা এরইমধ্যে ক্রয় করার জন্য আমরা আগাম টাকা-পয়সা দিয়ে বুক করে রেখে দিয়েছি। সেদিক থেকে দেশের মানুষের চিন্তার কিছু নেই। আমরা অন্য সব কিছু বাদ দিয়ে আগে মানুষকে কীভাবে সুরক্ষিত করব সেদিকে দৃষ্টি দিয়েছি।
পাবনায় স্বাধীনতা চত্বরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
এ উপলক্ষে স্বাধীনতা চত্বর প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতা চত্ত্বর বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা সাবেক দুদক কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন চপ্পু, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি, শামসুল হক টুকু এমপি, আহমেদ ফিরোজ কবির এমপি, মকবুল হোসেন এমপি, বীরমুক্তিযোদ্ধা সুরুজ্জামান বিশ্বাস এমপি, পাবনা পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু, জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ, পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম, পাবনা প্রেসক্লাব সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সাধারন সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ, পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সিনিয়র সহসভাপতি কানু সান্যাল, সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শেদ বাবলা এবং জেলার সকল উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রগনসহ শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

আধুনিয়কয়নের পর এটি হল উত্তরবঙ্গ তথা দেশের মধ্যে অন্যতম স্বাধীনতা চত্ত¡র। যেখানে প্রতিটি ইট পাথরের ডিজাউনে মহান মুক্তিযুদ্ধ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩২টি উক্তিসহ ৭ মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস বিদ্যমান। স্বাধীনতা চত্ত¡রের প্রধান মঞ্চের দৈর্ঘ্য ৪৬ ফুট ও প্রস্ত ৪০ ফুট এবং উচ্চতা ২০ ফুট। যার দুই পাশে দু‘টি গ্রীণ রুম এবং টয়লেটসহ ওয়াশরুম রয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্ত ২৪ ফুট। মাঠের দৈর্ঘ্য ১১৮ ফুট ও প্রস্ত ১১৭ ফুট। যার তিন দিকে দুই স্তরের বসার গ্যালারী রয়েছে। মাঠের উত্তরপুর্ব কনার্রে প্রবেশের প্রধান ফটক ও দক্ষিণ ও পুর্ব কণার্রে ছোট একটি গেট রয়েছে। এ ছাড়া সর্বোপরি পুরো মাঠে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সবুজ ঘাস।

উল্লেখ, ঐতিহাসিক পাবনা টাউন হল (পৌর মিলনায়তন) এর নাম পরিবর্তন করে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্মরণে স্বাধীনতা চত্বর’ নাম করন করা হয়। ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বীরমুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু এ চত্বরের নির্মান কাজ উদ্বোধন করেন।

স্থানীয় শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, মুক্তিযোদ্ধা জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে স্বাধীনতা চত্ত¡রের নির্মাণকাজ চলতি বছরের মার্চ মাসে শেষ হয়। এটি নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার মধ্যে দিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশ ঘটাবে বলে উদ্যোক্তারা আশা করেন।

কোন মন্তব্য নেই