× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



সংকট সমাধানে পাবনা চিনিকলে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক

ইতিহাস টুয়েন্টিফোর প্রতিবেদক-

আখমাড়াই বন্ধের সরকারি ঘোষণা পরবর্তী বিদ্যমান সংকট নিরসনে পাবনার চিনিকলে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার কালিকাপুরে পাবনা চিনিকলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বৈঠকটি সমন্ময় করেন পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বিশ্বাস। 

ত্রিপাক্ষিক এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করে পাবনা চিলিকল ব্যবস্থাপনা,  শ্রমিক-কর্মচারী নেতৃবৃন্দ ও আখচাষি প্রতিনিধিগণ।  

পাবনা চিনিকল পরিদর্শনে আসা শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোস্তাক আহমেদ এসময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে চিনিকলগুলো লাভবান করা, আখচাষি ও শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা। আপনারা কেউ গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না। আখমাড়াই বন্ধ হলেও কেউ মিলের কেউ চাকুরিচ্যুত হবেন না এবং আখচাষিরাও আখ সরবরাহ করতে পারবেন। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন প্রদত্ত এ সংক্রান্ত একটি লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি উপস্থাপন করেন। 

বৈঠকে সমন্ময়কের বক্তব্যে প্রধান অতিথি সাংসদ নুরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, আখচাষি শ্রমিক-কর্মচারী ও কৃষক বাঁচানোর জন্য সরকারি সিদ্ধান্ত মানতে হবে। পাবনা চিনিকল চালুর দাবির সংগে আমরা সবাই একমত। কিন্ত সবাইকে সজাগ থাকতে হবে যেন দেশজাতি সর্বোপরি জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বর্তমান সরকার ও সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ বিরুদ্ধে পরাজিত শত্রুরা ষড়যন্ত্র করতে না পারে।

তিনি বলেন, পাবনা চিনিকলসহ দেশের ৬টি চিনিকলে অব্যাহত লোকসান ঠেকাতে আখমাড়াই বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এতে কোনো শ্রমিক-কর্মচারীর চাকুরী যাবেনা। তাদের অন্য মিলে সংযুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে আখচাষিরা যেন লোকসান ও সংকটের মধ্যে না পড়েন সেজন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পার্শ্ববর্তী চিনিকল তাদের আখ সরবরাহের ব্যবস্থা করা। পাবনা চিনিকলটি চালুর দাবির সংগে একমত পোষন করে সাংসদ  আরও বলেন , 'আমি আপনাদের জনপ্রতিনিধি। মিলচালু, আখচাষি ও শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থ নিয়ে আমি প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদে নিয়মতান্ত্রিকভাবে যুদ্ধ করবো। সুযোগ পেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগে দেখা করবো। তিনি সবসময় আপনাদের ব্যাপারে আন্তরিক। তিনিও ভাবছেন চিনিকলগুলো কীভাবে লাভবান করা যায়? তবে আপনারা সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না কিংবা আন্দোলনের নামে কোনকিছুর ক্ষতি সাধক করবেন না। 

বৈঠকে বক্তব্য রাখেন পাবনা চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী  ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম শাহিন, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল সরদার, আখচাষি নেতা আনছার আলী ডিলু, মালেক মালিথা প্রমুখ। এসময় শ্রমিকনেতারা অশ্রুসিক্ত চোখে অবিলম্বে পাবনা চিনিকলে আখমাড়াই চালু করা, ৬ মাসের বকেয়া বেতন  পরিশোধ, মৌসুমী শ্রমিকসহ তাদের চাকুরীর নিশ্চয়তা, চাষিদের সরবরাহ সহজ, সার- বীজের সুবিধা প্রদানের দাবি জানান। 

চিলিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুদ্দিন বলেন, দীর্ঘ আলোচনা শেষে চাষিরা আগামী ১ জানুয়ারি থেকে পার্শ্ববর্তী মিলে আখ সরবরাহে রাজী হয়েছেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত কারখানার মৌসুমী শ্রমিকদের চাকুরীর ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না।

কোন মন্তব্য নেই