× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



ঐতিহ্যবাহী (নগরবাড়ী) কাজীরহাট-আরিচা ফেরি সার্ভিস আবার চালু হলো

jagonews24

পাবনার ঐতিহ্যবাহী (নগরবাড়ী) কাজীরহাট-আরিচা ফেরি সার্ভিস আবার চালু হলো। শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ নৌ-পথে ফেরি চলাচলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বন্যা ও ফেরি স্বল্পতার অজুহাতে রুটটিতে এক যুগ আগে বন্ধ করা হয়েছিল ফেরি চলাচল।

কাজীরহাট-আরিচা ফেরি সার্ভিস চালু উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদিক।

বিশেষ অতিথি ছিলেন শামসুল হক টুকু এমপি, গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি, আহমেদ ফিরোজ কবীর এমপি, নাঈমুর রহমান দুর্জয় এমপি, অতিরিক্ত সচিব ও চেয়ারম্যান বিআইডব্লিউটিসি সৈয়দ তাজুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল, পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ ও পাবনা পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে নগরবাড়ী-আরিচা রুটে ফেরি চলাচল প্রথম শুরু হয়। ফলে নগরবাড়ী বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ২০০৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে এ রুটে প্রথম ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ৯ মাস পর ২০০৮ সালের ২ মে এ নৌরুটে ফেরি সার্ভিস পুনরায় চালু করা হয়। ওইদিন কে-টাইপের ‘কস্তুরি’ নামের একটি ফেরি দিয়ে নগরবাড়ী (কাজীরহাট) থেকে যানবাহন পারাপার শুরু করা হয়। কিন্তু একদিন পর ‘কস্তুরি’ ফেরিটি বিকল হয়ে পড়লে মেরামতের জন্য তা পাঠানো হয় পাটুরিয়া নৌ-কারখানায়।

বিকলের অজুহাতে আবারও ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০০৮ সালে চালুর ২৪ ঘণ্টা পর থেকেই এ রুটে ফেরি চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে ছিল।

ঐতিহ্য ফিরে এলো কাজীরহাট-আরিচা পাড়ে

সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খোন্দকার ২০১১ সালের জানুয়ারিতে নগরবাড়ী ঘাট এলাকা পরিদর্শনকালে জনগণের দাবির মুখে আশ্বাস দিয়েছিলেন শিগগিরই ঘাট চালু করা হবে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান পাবনায় এক কর্মসূচিতে এসে আশ্বাস দেন দ্রুত নগরবাড়ী ঘাট চালু হবে। এরপর তিনি ২০১৪ সালে পাবনা এসে আবারও আশ্বাস দেন। কিন্তু এরপরও ফলাফল ছিল শূন্য।

নগরবাড়ীর ব্যবসায়ীরা জানান, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান নগরবাড়ী বন্দর ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন পণ্য বহনকারী দুই শতাধিক ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন পারাপার হতো। যমুনা সেতুর চেয়ে স্বল্প খরচ ও সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও কাঁচামালবাহী এসব ট্রাক নগরবাড়ী ঘাট হয়ে রাজধানীতে যেত। আবার পাটুরিয়া থেকে একইভাবে যানবাহন আসত। এতে যাত্রাপথের দূরত্ব কম হওয়ায় জ্বালানি খরচ অনেক সাশ্রয় হতো।

কিন্তু নগরবাড়ীর (কাজীরহাট) পাটুরিয়া রুটে ফেরি চলাচল না করায় পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলে মালবাহী ট্রাক চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল।

সুজানগরের ট্রাকচালক শরিফ হোসেন জানান, যমুনা সেতু হয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ ঘুরে উত্তরাঞ্চলে আসতে হয়। এতে সময় ও জ্বালানি খরচ বেশি লাগে। অনেক সময় জ্যামে আটকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অন্যদিকে নগরবাড়ী ফেরিঘাট হয়ে রাজধানীতে যেতে তেল খরচ ও সময় অনেক কম লাগবে।

নগরবাড়ী বণিক সমিতির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান এ এম রফিক উল্লাহ মিয়া জানান, অর্ধশতাব্দীকালের পুরোনো নগরবাড়ী (কাজীরহাট) ফেরিঘাট দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এ ঘাটের বাণিজ্যকেন্দ্র ও বন্দর বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। বার বার আশ্বাস পেয়েও ঘাট চালু না হওয়ায় এলাকাবাসী ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা হতাশায় ভুগছিলেন। কাজীরহাট (নগরবাড়ী) ফেরিঘাট আদৌ চালু হবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছিল।

পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মেদ ফিরোজ কবির জানান, নগরবাড়ী (কাজীরহাট) ফেরিঘাটের বয়স ৫০ বছর পার হয়েছে। অথচ সেখানে একযুগ ফেরি চলাচলই বন্ধ ছিল।

তিনি জানান, কাজীরহাট (নগরবাড়ী)-আরিচা রুটে ফেরি চলাচল চালু হওয়ায় নগরবাড়ী ঘাট তার অতীত ঐতিহ্য ফিরে পাবে। নগরবাড়ীর ব্যবসা-বাণিজ্যকেন্দ্র ও নদীবন্দরের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এ ফেরি সার্ভিস চালু জরুরি ছিল।

কোন মন্তব্য নেই