× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



পাবনা এমপিপুত্রের বিরুদ্ধে ভূমিহীন চাষিদের মারধর ও জমি দখলের অভিযোগ

এমপিপুত্রের বিরুদ্ধে ভূমিহীন চাষিদের মারধর ও জমি দখলের অভিযোগইতিহাস টুয়েন্টিফোর প্রতিবেদকঃ

পাবনায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর ছেলে নাসিফ শামস রনির বিরুদ্ধে দরিদ্র চাষিদের ব্যক্তিগত ও নদীর খাস জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এমপিপুত্রের নির্দেশে ও উপস্থিতিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা খাস জমি ভোগদখলকারী দরিদ্র চাষিদের মারধর ও ফসল নষ্ট করে। ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীরা এলাকায় বিক্ষোভ ও প্রতিকার দাবিতে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগে গ্রামবাসীরা জানান, পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকুর ছেলে নাসিফ শামস রনি বেড়া উপজেলার পায়না এলাকায় যমুনা নদীর তীরে ২০১২ সালে ৬০ বিঘা জমি কেনেন। এরপর নিজের জমি ছাড়াও আশপাশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের জমি দখলে নিয়ে নেন। এরপর ক্রমেই ক্ষমতার দাপটে হুমকি-ধমকি দিয়ে আশপাশের দরিদ্র চাষিদের দখলে থাকা ব্যক্তিগত ও খাস খতিয়ানভুক্ত ৯০ বিঘা জমি দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করতে থাকেন।

লিখিত অভিযোগে গ্রামবাসীরা আরো জানান, শামসুল হক টুকুর ছেলে রনির হুমকিতে গ্রামবাসী জমির দখল না ছাড়ায় শুক্রবার সকালে সন্ত্রাসী বাহিনী সঙ্গে নিয়ে দরিদ্র চাষিদের বোরো ধান নষ্ট করে কাঁটাতারে জমি ঘিরে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দরিদ্র চাষিরা বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা বেদম মারধর করে। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বিক্ষোভ করলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে মামলা দেয়। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগীদের পুলিশ হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ তাদের।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মানিক ব্যাপারী জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে বানভাসি ও হতদরিদ্র মানুষের ছাপড়া ঘর তুলে বসবাস করে। তাদের উচ্ছেদের খবর পেয়ে আমি শুক্রবার সেখানে যাই। এ সময় এমপিপুত্রের লোকজন দরিদ্র চাষিদের ধান মাটিচাপা দিতে শুরু করে। আমি দলীয় পরিচয় দিয়ে নাসিফ শামস রনিকে ফসল নষ্ট না করতে অনুরোধ জানাই। তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাকেও গালিগালাজ করেন।

বেড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান মানু বলেন, নাসিফ শামস রনি ৬০ বিঘা জমি কিনে সেখানে সৌদিয়া এগ্রো সোলার পিভি পাওয়ার প্ল্যান্ট সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে আশপাশের সব জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা করছেন। সাধারণ মানুষের তো বটেই আমার দখলে থাকা ব্যক্তিগত জমির ধানও তিনি নষ্ট করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যকে সব জানালেও তিনি ব্যবস্থা নেননি।

তবে গ্রামবাসীর অভিযোগ ‘অসত্য’, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে নাসিফ শামস রনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও ব্যক্তিগত ব্যবসার জন্য জমি কিনেছি তা উন্নয়নেরও কাজ চলছে। কাউকে উচ্ছেদ বা মারধরের ঘটনা কখনো ঘটেনি। স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রুপিংয়ের সুযোগ নিতে আমাকে ও আমার পরিবারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।

এ প্রসঙ্গে বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, শুক্রবার পায়না গ্রামে বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। কারো পক্ষ হয়ে কাজ করার অভিযোগ সত্য নয়।

জমি দখলের বিষয়ে লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, নদী তীরবর্তী যে জমি নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে তা ব্যক্তিগত না খাস, তা যাচাই করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই