× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



ঈশ্বরদীতে ঢিলেঢালা লকডাউন


ইতিহাস টুয়েন্টিফোর প্রতিবেদকঃ

দেশব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা সংক্রমণ আবারও বাড়ায় সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশব্যাপী এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু এবার ঈশ্বরদীতে টিলেঢালা লকডাউন পালিত হচ্ছে।  

সোমবার সকাল ৬টা থেকে লকডাউনের কার্যক্রম শুরু হলেও গত তিনদিনই বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈশ্বরদী শহরমুখী প্রতিটি সড়কেই যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, মালবাহী ট্রাক, ছোট ট্রাক, মোটরসাইকেল, রিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহন আগের মতোই চলাচল করছে। শুধু মাত্র বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল। তিন দিনই অনেকটা ঢিলেঢালাভাবে পালিত হচ্ছে লকডাউন।

গত তিনদিন ঈশ্বরদী বাজারের হাতে গুনা দুই থেকে তিনটি মার্কেট বন্ধ থাকলেও বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট খোলা ছিল। কেউ অর্ধেক সাটার বা এক সাটার উঠিয়ে বেচাকেনা করেছেন। কোন কোন দোকান পুরোপুরি খোলা দেখা যায়। শহরের স্টেশন রোড, কলেজ রোড, চাঁদ আলী মোড়, ফতেমোহাম্মদ রোড, রেলগেট, পোষ্ট অফিস মোড়, আলহাজ্ব মোড়ের অধিকাংশ ব্যবসায়ীকে  নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখতে দেখা যায়।

লকডাউনের নির্দেশনায় ঔষধ ও মুদি দোকান বাদে সব ধরনের মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা ছিল এবার। শহরের মোড়ে মোড়ে দোকানপাট খোলা রাখার পাশাপাশি রূপপুর মোড়, বিবিসি বাজার, পাকশী বাজার, দাশুড়িয়া বাজার, মুলাডুলি বাজার এলাকায় প্রায় সকল দোকানপাটই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খোলা রয়েছে। এসব দোকানপাটে মানুষের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও নেই নির্দেশনা মানার বাতিক। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুদি দোকান ও সবজি বাজারে বেচাকেনার কথা থাকলেও তা আমলে নেননি অধিকাংশ ব্যবসায়ীরাই।

তবে সোমবার দুপুরের দিকে লকডাউন মানাতে সক্রিয় হতে দেখা যায় উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশ প্রশাসনকে। 

ওই দিন দুপুরে ১টার দিকে ঈশ্বরদী বাজারে  গিয়ে দেখা যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিএম ইমরুল কায়েস ও  থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল লকডাউন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে। এ সময় সাধারণ জনগণকে লকডাউনের নির্দেশনা মানাতে হ্যান্ড মাইকে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে দেখা যায় পুলিশকে। ওই সড়কে লকডাউন অমান্য করে সিএনজি-অটোরিকশাসহ প্রচুর পরিমাণে যানবাহন চলাচল করছিল। এসব যানবাহনের সংশ্লিষ্ট চালকের অনেকের মুখেই ছিল না মাস্ক, তবে পুলিশের ভয়ে অনেকে আবার তাৎক্ষণিক মাস্ক পড়তে দেখা যায়।

এদিকে সরকারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী লকডাউন কঠোরভাবে কার্যকর রাখতে ২টার উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত দাশুড়িয়া এলাকা অবস্থান নেয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিএম ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে  ঘণ্টাব্যাপী চলা এ অভিযানে লকডাউন অমান্য করায় বেশ কিছু যানবাহন, ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিকে মৌখিকভাবে সর্তক হয়। 

 পিএম ইমরুল কায়েস এসময়  সাংবাদিকদের বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুভার্ব বেড়েই চলেছে। সেজন্য সবাইকে আরো সর্তক ও সচেতন হতে হবে। মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি লকডাউন মেনে চলতে হবে। সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, গত মঙ্গলবার ও বুধবার ঈশ্বরদী বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের কোন অভিযান না থাকায় বাজারের অনেক ব্যবসায়ীকে নির্ভয়ে দোকান খুলে বেচাকেনা করতে দেখা যায়। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দুরত্ব ও মাস্ক ব্যবহারের বিধি নিষেধও মানছে না সাধারণ মানুষ। তাই সচেতন ঈশ্বরদীবাসী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য করতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার দাবি জানান।  


কোন মন্তব্য নেই