× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



ঈশ্বরদীতে দিনদুপুরে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা


ইতিহাস টুয়েন্টিফোর প্রতিবেদকঃ

ঈশ্বরদীতে এবার দিনের বেলায় প্রকাশ্যে ঘরে ঢুকে মুক্তি খাতুন রিতা (২৮) নামের এক গৃহবধূকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈশ্বরদী শহরের মশুড়িয়া পাড়া এলাকায় লোমহর্ষক এই ঘটনা ঘটে।

নিহত রিতা ওই এলাকার বসির উদ্দিন বাদলের ছেলে বায়োজিদ সারোয়ারের স্ত্রী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। এর আগে চলতি মাসের ১ তারিখে ঈশ্বরদী শহরের স্কুল পাড়ায় আনোয়ারা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধাকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। দুটো ঘটনা একই সময় ঘটেছে। এই ঘটনাগুলোতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে শহরের সাধারণ মানুষ। 

হত্যাকাণ্ডের সময় রিতার শাশুড়ি মোছা. নিলিমা খাতুন বেনু (৫৫) কেও গলা টিপে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সে সময় তাঁর চিৎকারে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়। হত্যাকারীরা সখ্যায় ৫ জন ছিল বলে নিলিমা খাতুন বেনু উপস্থিত পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানান। 

পাবনা পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম,  ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী নিহত গৃহবধূ রিতার শাশুড়ি নিলিমা খাতুন বেনু জানান, তাঁর ছেলে বায়োজিদ সারোয়ার রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে চাকরি করেন। সেই সুবাদে বায়োজিদ সারোয়ার বেশ কিছু মানুষকে রূপপুর প্রকল্পে চাকরিও দিয়েছেন। ঘটনার দিন বেলা ১১টার সময় ৫ জন যুবক চাকরির জন্য তার বাড়িতে আসেন। বায়োজিদ সেই সময় বাজারে ছিল। তাই পুত্রবধূ মুক্তি খাতুন রিতা আগত যুবকদের ড্রইং রুমে বসিয়ে আপ্যায়ন করেন। 

তিনি আরো জানান, এসময় তিনি তাঁর নিজ রুমে বসে কোরআন শরীফ পড়তেছিলেন। হঠাৎ ওই যুবকরা তাঁর ঘরে ঢুকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে। সে সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে ওইসব যুবকরা পালিয়ে যান। পরে তিনি পুত্রবধূ রিতার ঘরে যান এবং রিতাকে মেঝেতে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। হত্যাকারীদের মধ্যে তিনি একজনকে চিনতে পেরেছেন। তার নাম সাব্বির হাসান, বাড়ি নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল চরগোবিন্দপুর গ্রামে। বাকিদের মুখে মাস্ক থাকায় তিনি চিনতে পারেননি বলেও দাবি করেন।

নিহত গৃহবধূ রিতার স্বামী বায়োজিদ সারোয়ার জানান, তিনি রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাংলা পাওয়ার কম্পানিতে চাকরি করেন। রূপপুর প্রকল্পে চাকরির জন্য তাঁর নানির বাড়ি নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল চরগোবিন্দপুর গ্রামে থেকে কিছু মানুষ বাড়িতে আসার কথা শুনে বাজারে গিয়েছিলেন বাজার করতে। এসে দেখেন তাঁর স্ত্রী মুক্তি খাতুন রিতাকে গলাকেটে হত্যা করা লাশ। তাঁর মায়ের কাছ জানতে পারেন ওই দুবৃত্তরা তাঁর নানির বাড়ির এলাকার। তবে তিনি কাউকে দেখেননি।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির জানান, এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই বাচাই করা হচ্ছে। সিআইডির বিশেষ টিম এসে মত সংগ্রহ করার পর লাশ ময়নাতদন্তে প্রেরণ করা হবে। এই ব্যাপারে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।


কোন মন্তব্য নেই