× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



নির্যাতনকারী জিসান আটকে স্বস্তি, কিন্তু ভেজাল বিক্রেতারা কি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে?

 

ইতিহাস টুয়েন্টিফোর প্রতিবেদকঃ

 ভেজাল মধু বিক্রির অপবাদে ২৯ এপ্রিল  দুই ভাইকে বেঁধে মারধর করার অভিযোগে ঈশ্বরদীর আওতাপাড়া  ‘ভিলেজ ফ্রেশ ফুড অ্যান্ড এগ্রো কোম্পানির স্বত্বাধিকারী জিসান এখন কারাগারে ।  

ঘটনার পরের দিন ৩০ এপ্রিল  ইতিহাস টুয়েন্টিফোর অনলাইন নিউজ পোর্টালে মারধরের ছবিসহ সংবাদ প্রকাশ হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তা ছড়িয়ে পড়ে।  মারধরের প্রতিবাদে সমালোচনার ঝড় উঠে। ওইদিন দুপুর ২টায় জিসানকে দাশুড়িয়া থেকে আটক করে পুলিশ। 

নিযাতনের অভিযোগে জিসান আটকের পর আবারো ইতিহাস টুয়েন্টিফোরসহ বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের পর  ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা মন্তব্য করেন। অনেকেই  নির্যাতনকারী জিসান আটকে পুলিশকে সাধুবাদ জানান, পাশাপাশি  ভেজাল মধু বিক্রেতারাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। দুই ভাইয়ের নিকট থেকে  মধু কিনে প্রতারিত হয়েছেন এমন মন্তব্যও অনেকেই ফেসবুকে  করেছেন। কিন্তু মধু বিক্রেতা  দাশুড়িয়া ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের আলম সরদারের ছেলে আল-আমিন (২৪) ও তার ছোট ভাই আলাল সরদার (১৮) এ ঘটনার পর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।  

ভিলেজ ফ্রেশ ফুড অ্যান্ড এগ্রো কোম্পানির ব্যবসায়ীক পার্টনার রাসেল বিশ্বাস জানান,   তারা খাঁটি জিনিস ভোক্তাদের সরবরাহ করে থাকেন। আল-আমিন এবং আলাল সরদার নামের দুই মধু বিক্রেতা খাঁটি মধু সরবরাহ করবেন বলে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। তারা প্রায় ৩০০ কেজি মধু সরবরাহ করেছেন। এরমধ্যে ভেজালের কারণে ১২০ কেজি মধু এখনও অবিক্রিত রয়েছে। তিনি আরো জানান, ওই দুই মধুর কারিগর ভেজাল মধু দিয়ে তাদের এবং ভোক্তাদের প্রতারিত করেছেন। তার ধারণা, দুই তরুণ নিজেরা ভেজাল দ্রব্য দিয়ে ঘরে বসে মধু তৈরি করেছেন। এতে তাদের প্রতিষ্ঠানের সুনামহানি হয়েছে এবং তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। মধু বিক্রেতাদের অসততার কারণে তাদের প্রতিষ্ঠানটির সুনামহানি হয়েছে।  আর ভেজাল মধুর ব্যাপারে তাদের জানানো হলেও তারা টালবাহানা করে আসছিল। বার বার অভিযোগ দেয়ার পরও তারা দীর্ঘদিন দোকানে আসেননি। এসব কারণে মালিকদের একজন ক্ষুদ্ধ হয়ে তাৎক্ষণিক এমনটি করেছেন। তবে তিনি প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে এমনটি হত না। 

নির্যাতনের শিকার ওই দুই যুবকের বাবা আলম সরদার জানান, তার ছেলেরা ভেজাল মধু সরবরাহ করেনি। তার দুই ছেলেকে বেঁধে রেখে মারধরও করা হয়েছে।

মধু কিনে প্রতারিত হওয়া আওতাপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেন জানান, এ প্রতিষ্ঠান থেকে নিশ্চিন্তে দ্রব্যাদি কেনেন। সেখানে কেউ ভেজাল মধু সরবরাহ করায় তারাও আর্থিক  ক্ষতিগ্রস্থ বলে জানান। 

এ প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত গ্রাহক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, তিনি মনে করেন ভেজালকারীদের শাস্তি হওয়া দরকার। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া হয়ত ঠিক হয়নি। তবে তিনি জানান, আবেগের বশে যদি সবাই ভেজালকারীদের পক্ষ নিতে থাকেন তাহলে ভেজালকারীরা প্রশয় পেয়ে যাবেন। ভোক্তারা খাঁটি জিনিস বিশেষ করে খাঁটি মধু পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। এজন্য ভেজালকারীদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দরকার। তিনি জানান, জিসান হয়ত প্রকাশ্যে দু’জনকে শাস্তি দিয়েছেন। কিন্তু ভেজালকারীরা কয়েকশ’ লোককে লোকচক্ষুর আড়ালে ক্ষতি করেছেন। সেটারও শাস্তি হওয়া দরকার। 

ভোক্তা অধিকার অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম জানান, দুই মধুওয়ালাকে বেঁধে রাখার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখবেন। তবে ওই দুই মধুওয়ালা যদি সত্যিই ভেজাল মধু দিয়ে থাকেন এবং পরীক্ষার মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয় তবে সেটাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তিনি জানান, তার কাছে ওই মধুর নমূনা যথাযথভাবে দিলে তিনি সেটি পরীক্ষা করিয়ে জানাতে পারবেন। এক্ষেত্রে যদি ভেজালের প্রমাণ পাওয়া যায় তবে তারাও শাস্তি পাবেন। 

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় মধু বিক্রেতার বাবা বাদি হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযুক্ত জিসানকে গ্রেফতার করে। তাকে আজ শনিবার(১মে) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান মধু ভেজাল কিনা সেটা পরীক্ষার পর জানা যাবে। মধু ভেজাল প্রমাণিত হলে মধু বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


কোন মন্তব্য নেই