× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



ছাগলে খেল ফুল গাছ, ইউএনও জরিমানা করলেন দুই হাজার টাকা

ছাগলকে শীতের ঠাণ্ডা থেকে রক্ষার উপায়
ফাইল ফটো।

বগুড়ার আদমদীঘিতে ছাগল ফুল গাছ খাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করার ঘটনা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ছাগলের মালিকের অভিযোগ, তাঁর অনুপস্থিতিতে জরিমানা করে ছাগলটি ইউএনও আটকে রাখার পর বিক্রি করে দিয়েছেন। বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও বলেছেন, জরিমানার টাকা দিয়ে মালিক ছাগলটি নিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। তবে আইন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্তকে শাস্তি দিতে হলে উপস্থিত থেকে দায় স্বীকার করতে হয়। পশুটিকে খোঁয়াড়ে দেওয়া ভালো সমাধান হতে পারত।

ছাগলের মালিক সাহারা বেগমের ভাষ্য, আদমদীঘি উপজেলা পরিষদ চত্বর পার্কের বাগানের ফুল গাছ খেয়ে ফেলে তাঁর ছাগল। এই অভিযোগে ইউএনও সীমা শারমিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে জরিমানা করা হয়। তিনি  জরিমানার টাকা দিতে রাজি হননি। তাঁর অভিযোগ, ইউএনও সপ্তাহ খানিক ছাগলটি আটকে রাখার পর পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আদমদীঘি উপজেলা পরিষদ চত্বরের ডাকবাংলো সংলগ্ন এলাকায় সাহারা বেগমের বাসায় তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি দাবি করেন, ১৭ মে তাঁর ছাগলটি হারিয়ে যায়। তিনি অনেক জায়গায় খুঁজেও ছাগলটি পাননি। পরে এলাকার লোকজন তাঁকে জানান যে ছাগলটি ইউএনওর এক নিরাপত্তা কর্মীর কাছে আছে। তিনি ইউএনওর বাসার পাশে গিয়ে এক নিরাপত্তাকর্মীকে দেখেন, তাঁর ছাগলকে ঘাস খাওয়াচ্ছেন। তিনি ছাগল নিতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মী তাঁকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, ছাগল দেওয়া যাবে না। ছাগল ফেরত আনার জন্য একাধিকবার ইউএনওর অফিস ও বাসায় গেলেও সাহারা বেগমকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে তাঁর দাবি। তিনি অভিযোগ করেন, তিনি মানুষের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন যে তাঁর ছাগলটি পাঁচ হাজার টাকায় ইউএনও বিক্রি করে দিয়েছেন। ইউএনওর বাসার গৃহকর্মী তাঁর (সাহারা বেগম) বাসায় যান এবং তিন হাজার টাকা নিয়ে আসতে বলেন। তিন হাজার টাকা কেন আনবেন, জানতে চাইলে সাহারাকে ইউএনওর গৃহকর্মী বলেন যে ছাগলটি পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করে জরিমানার দুই হাজার টাকা কেটে রাখা হয়েছে।

অনেকবার ছাগলের মালিককে ডেকেছি, কিন্তু তিনি আমার কাছে আসেননি। এ কারণে সংশ্লিষ্ট আইনে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সাহারা বেগমের দাবি, তাঁর ছাগলটি উন্নত জাতের, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২ হাজার টাকা। তিনি আজকে পর্যন্ত ছাগলটি ফেরত পাননি।

এ বিষয়ে ইউএনও সীমা শারমিন  বলেন, ‘ফুল গাছ খাওয়ায় জনউপদ্রব আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনেকবার ছাগল মালিককে ডেকেছি, কিন্তু তিনি আমার কাছে আসেননি। এ কারণে সংশ্লিষ্ট আইনে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’ তিনি ছাগল বিক্রি করার অভিযোগ অস্বীকার বলেন, ‘ছাগল বিক্রি করা হয়নি। বর্তমানে ছাগলটি একজনের জিম্মায় রাখা হয়েছে। নয় দিন ধরে ছাগলকে খাওয়াতে হচ্ছে। একাধিকবার ওই ছাগল বাগানের ফুল গাছ খেয়েছে।’

বগুড়া জেলা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি ও আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিতে পারেন, আবার দোষ স্বীকারও করতে পারেন। যদি দোষ স্বীকার করেন, তখন প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালত তাঁকে দণ্ড দিতে পারবেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বা দোষ স্বীকার ছাড়া কোনোক্রমেই ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ড দেওয়া আইনসম্মত নয়। আদমদীঘির ইউএনও বাগানের ফুলগাছ খাওয়ার জন্য মালিকের অনুপস্থিতিতে ছাগল আটক করে কোনো ধরনের দণ্ড দিয়ে থাকলে তা অবৈধ, বেআইনি, অনৈতিক ও অন্যায়। একজন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে এটি ক্ষমতার অপব্যবহার।

আবদুল মতিন আরও বলেন, জনউপদ্রবের অভিযোগ ছাগলের বিরুদ্ধে আনা যায় না। মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হলে ছাগল খোঁয়াড়ে রেখে নির্দিষ্ট জরিমানা আদায় করা যেত।

তবে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘আদমদীঘির ইউএনও কোনো বেআইনি কাজ করেননি। যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে জনউপদ্রবের অভিযোগ পেলে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দণ্ড দিতেই পারেন।’ তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন চত্বরে লাগানো ফুল বাগানে বারবার ছাগলটি উৎপাত করেছে, উপজেলা প্রশাসন থেকে মালিককে দুই দফা সতর্কও করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছাগলের মালিক তাতে কর্ণপাত করেননি। শেষ দফায় ছাগল আটক করে জনউপদ্রব সৃষ্টির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ইউএনও। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় ছাগল আটক করে রাখা হয়েছে। ইউএনও সবকিছু নিয়ম মেনেই করেছেন।

মালিকের অনুপস্থিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যায় কিনা জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, সেখানে ছাগলের মালিক উপস্থিত ছিলেন কিনা, এটা প্রমাণিত নয়। নানাজনে নানা কথা বলছেন।

(তথ্য সূত্র-প্রথম আলো)। 

কোন মন্তব্য নেই