× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



পাবনায় ছাত্রকে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিলেন অধ্যক্ষ!

ছাত্রকে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিলেন অধ্যক্ষ!পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজে অধ্যক্ষের সামনেই শ্রেণিকক্ষ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করেছে ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী একদল সন্ত্রাসী। গত ১৫ জুনের ওই ঘটনায় গত শনিবার মারধরের শিকার ওই শিক্ষার্থীর বাবা পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তবে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করেনি পুলিশ।

ঘটনার সময় অধ্যক্ষ বাহেজ উদ্দিন হামলার শিকার শিক্ষার্থীকে রক্ষায় কোনো উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে কিছু না করে বাইরে নিয়ে পেটাতে বলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তার সামনেই শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও মারপিটের বিষয়ে অবগত নন বলে দাবি অধ্যক্ষের।

থানায় জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৫ জুন পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আলাউদ্দিন সরদার আলোচনার জন্য শিক্ষার্থীদের ডেকে পাঠান। ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম স্বাধীন (২২) শিক্ষকের কথায় ক্যাম্পাসে যান। শিক্ষক আলাউদ্দিন সরদারের আলোচনার সময় কলেজ ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির দপ্তর সম্পাদক সুমন হোসেনের নেতৃত্বে কলেজ কমিটির সহসভাপতি রাজিব হোসেন আলিফ, সদ্যবিলুপ্ত সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাব্বির আহমেদ জয়, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তপু রায়হান ও মইনুল হাসান মুন্নাসহ ৮/৯ জন বহিরাগত যুবক সশস্ত্র অবস্থায় শ্রেণিকক্ষে ঢুকে স্বাধীনকে তুলে নিয়ে পাশের একটি কক্ষে মারপিট করতে থাকে। এ সময় তারা স্বাধীনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষক আলাউদ্দিন সরদার বিষয়টি তাৎক্ষণিক কলেজের অধ্যক্ষ বাহেজ উদ্দিনকে অবহিত করলে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। তবে তিনি স্বাধীনকে রক্ষায় কোনো উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে কিছু না করে বাইরে নিয়ে পেটাতে বলেন। পরে সন্ত্রাসীরা স্বাধীনকে পাশের জুবলী ট্যাংক মার্কেটের ছাদে নিয়ে মারপিট শেষে লাথি দিয়ে ফেলে দেয়। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা শেষে বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে বিশ্রামে আছেন স্বাধীন।

ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম স্বাধীন তার ওপর হামলার কারণ জানিয়ে বলেন, ‘গত বছর গরিব ও অসহায় শিক্ষার্থীদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত উপবৃত্তি দেওয়া হয়। বিষয়টি সাধারণ শিক্ষার্থীদের না জানিয়ে ওয়েবসাইটে কোনো নোটিস না দিয়েই অধ্যক্ষ মহোদয় এক ঘনিষ্ঠজনের মাধ্যমে একটি তালিকা তৈরি করে এই টাকা বিতরণ করেন। আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যক্ষ স্যার আমাদের শিক্ষাজীবনে প্রভাব পড়বে বলেও হুমকি দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করা এইচ এম সাব্বির নামে আমার এক সহপাঠীকেও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা উলঙ্গ করে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করে। কলেজ করোনায় বন্ধ থাকায় এতদিন ক্যাম্পাসে যাইনি। ঘটনার দিন স্যার ডেকে পাঠালে ক্যাম্পাসে যাই। এ খবর পেয়ে তারা স্যারের সামনেই মারধর শুরু করে।’স্বাধীন আরও বলেন, ‘অধ্যক্ষ স্যার এসে আমাকে রক্ষায় কোনো উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো বাইরে নিয়ে পেটাতে বলেন। আমি বারবার আকুতি জানালেও তিনি কর্ণপাত করেননি। একপর্যায়ে জীবন রক্ষার্থে আমি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা আমাকে তাদের টর্চার সেলে নিয়ে ব্যাপক মারপিট করে।’

স্বাধীনের সহপাঠী এইচ এম সাব্বিরকে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কলেজ ক্যাম্পাসের আশপাশে এই সন্ত্রাসীদের বেশ কয়েকটি টর্চার সেল আছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। এই টর্চার সেলে অনেককেই মারপিট করা হয়।’

স্বাধীনের ওপর হামলার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক আলাউদ্দিন সরদার বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের ডেকেছিলাম। শ্রেণিকক্ষে কথা বলার সময় অতর্কিত কয়েকজন যুবক এসে স্বাধীনকে ধরে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যায়। ঝামেলা আঁচ করতে পেরে তাৎক্ষণিক বিষয়টি অধ্যক্ষ স্যারকে অবহিত করি। স্যার এসে কী করেছেন তা আমার জানা নেই।’স্বাধীনকে মারধরের অভিযোগ ওঠা কলেজ ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির দপ্তর সম্পাদক সুমন হোসেন বলেন, ‘শরিফুল ইসলাম স্বাধীন কলেজের একটি মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই জেরে তাকে কিছু জুনিয়র শিক্ষার্থী পিটিয়েছে বলে শুনেছি। তবে আমি এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।’

অন্যদিকে সন্ত্রাসীদের হাতে শিক্ষার্থীকে তুলে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করছেন পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের অধ্যক্ষ বাহেজ উদ্দিন। তিনি  বলেন, ‘কলেজে ঝামেলার খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সে সময় স্বাধীনকে মারপিটের বিষয়ে জানতে চাইলে সে কিছু বলেনি। ওই শিক্ষার্থীরা পূর্বপরিচিত এবং বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। তারা স্বেচ্ছায় একসঙ্গে ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে গেছে। কলেজ ক্যাম্পাসে মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর উপবৃত্তি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও সত্য নয়।’

শিক্ষার্থী স্বাধীনকে মারধরের অভিযোগ জমা পড়লেও তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না করার কারণ জানতে চাইলে পাবনার পুলিশ সুপার মোহা. মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবহিত। অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ কাজ করছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সূত্র: দেশ রূপান্তর,পাবনা প্রতিনিধি।

কোন মন্তব্য নেই