× প্রচ্ছদ পাবনা-৪ উপনির্বাচন ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম ছবি ভিডিও রূপপুর এনপিপি
Smiley face করোনা ঈশ্বরদী পাবনা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



পাবনায় মেয়াদোত্তীর্ণ টিউবে নমুনা সংগ্রহ, অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

মেয়াদোত্তীর্ণ এই টিউবে সংগ্রহ করা হচ্ছে নমুনা। আজ বৃহস্পতিবার পাবনা শহরের তাড়াশ ভবনে।

পাবনা জেলা সদরে করোনা পরীক্ষার জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ টিউবে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নমুনা দিতে যাওয়া মানুষেরা অভিযোগ করেছেন, কোনো প্রকার নির্ধারিত বুথ ছাড়া খোলা আকাশের নিচে নানা অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে নমুনা সংগ্রহ চলছে।

পাবনা জেলায় কোনো পিসিআর ল্যাব নেই। ফলে এই জেলার মানুষের নমুনা সংগ্রহর পর তা রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। জেলা সদরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস এই নমুনা সংগ্রহের কাজ করছে।

করোনা পরীক্ষার নমুনা দেওয়া অন্তত সাতজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলায় কোনো পিসিআর ল্যাব না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই করোনার নমুনা পরীক্ষা নিয়ে নানা বিড়ম্বনার তৈরি হচ্ছে। নির্ধারিত জীবাণু প্রতিরোধী বুথ ছাড়াই মধ্য শহরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন তাড়াশ ভবনের বারান্দায় খোলা পরিবেশে নমুনা সংগ্রহ চলছে। এতে করোনা আরও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

 আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাড়াশ ভবনে গিয়ে দেখা গেছে, মূল ভবনের বরান্দায় খোলা একটি টেবিলে রাখা হয়েছে নমুনা সংগ্রহর টিউব ও কিট। লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন নমুনা দিতে আসা ব্যক্তিরা। তিনজন সংগ্রহকারী তাঁদের নমুনা নিচ্ছেন বারান্দার খোলা পরিবেশেই। কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো সিঁড়িতে বসিয়েই নেওয়া হচ্ছে নমুনা। টিউবে নমুনা কিট ঢুকিয়ে ফেলে রাখছেন বারান্দাতেই। নমুনা সংগ্রহকারীদের পরনে পিপিই নেই।

বারান্দায় ফেলে রাখা টিউবে দেখা যায়, একটিরও মেয়াদ নেই। টিউবগুলোতে তৈরির তারিখ দেওয়া আছে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ রয়েছে ২০২১ সালের জুন মাস। এ নিয়ে নমুনা সংগ্রহের কাজে নিয়জিত ব্যক্তিরা কিছু বলতে পারেননি।

তবে পাবনার সিভিল সার্জন মনিসর চৌধুরী বলছেন, মূলত টিউবের কোনো মেয়াদ থাকে না। এই টিউবে কেন মেয়াদ দেওয়া, সেটা তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

নমুনা দিতে আসা ব্যক্তিদের ভাষ্য, নমুনা দিতে হলে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে লাইন ধরে দঁড়িয়ে নিবন্ধন করতে হচ্ছে। এরপর সেখান থেকে একটি টিউব ধরিয়ে দিয়ে পাঠানো হচ্ছে তাড়াশ ভবনে। দ্বিতীয়বার আবার লাইনে দাঁড়িয়ে নমুনা দিতে হচ্ছে। খোলা আকাশের নিচেই কোনোমতে মুখ থেকে একটু লালা নিয়ে রাখা হচ্ছে টিউবে। সেটিও আবার ফেলে রাখা হচ্ছে বারান্দার মেঝেতে।

নমুনা দিতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফারুক হোসেন চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, খোলা পরিবেশে যেভাবে নমুনা সংগ্রহ চলছে, তাতে করোনার ঝুঁকি আরও বাড়ছে। এ ছাড়া নমুনা সংগ্রহের প্রতিটি পদে পদে অব্যবস্থাপনা চলছে। একটি জেলা শহরে করোনা নিয়ে এমন অব্যবস্থাপনা সত্যি কষ্টকর।

অব্যবস্থাপনা নিয়ে সিভিল সার্জন মনিসর চৌধুরী বলেন, ‘পাবনা মেডিকেল কলেজে পিসিআর ল্যাব ও নমুনা সংগ্রহর জন্য নির্ধারিত বুথ তৈরির কাজ চলছে। আশা করছি, খুব শিগগির সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।

কোন মন্তব্য নেই