ঢাকাশুক্রবার , ১৫ অক্টোবর ২০২১

  ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাবো- বিমান প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ১৫, ২০২১ ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে  ঈশ্বরদীতে এলে তাঁকে  উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গণসংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

আজ শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঈশ্বরদী খায়রুজ্জামান বাবু বাসটার্মিনালে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু করতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবো।ঈশ্বরদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ  একটি উপজেলা। এখানে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে হাজার হাজার বিদেশী নাগরিক বসবাস করেন। পাশাপাশি ইপিজেডসহ গুরুত্বপূর্ণ বহু শিল্পকারখানা এখানে রয়েছে। তাই এখানে বিমানবন্দর অত্যন্ত জরুরি।

ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নায়েব আলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী  শামসুল হক টুকু এমপি, আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বিশ্বাস এমপি, নাদিরা ইসলাম জলি এমপি, সাবেক সংসদ সদস্য পাঞ্চাব আলী বিশ্বাস, সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুর রহমান বিশ্বাস, ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র ইছাহক আলী মালিথা প্রমূখ নেতৃবৃন্দ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিন্টু।

এর আগে শুক্রবার বিকাল ৫টায় ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর দাবিতে শহরের রেলগেটে মানববন্ধন করেন ঈশ্বরদীবাসী।

উল্লেখ্য,  ১৭ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর যখন ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে বিমান চলাচল শুরু হলে তৎকালীন বিমানমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান ঘোষণা দেন, আর কোনোদিন এ বিমানবন্দর বন্ধ হবে না। কিন্তু ৬ মাস ১১ দিন পর ২০১৪ সালের ২৯ মে বন্ধ হয়ে যায় বিমানবন্দরটি। ৭ বছরেও এই বিমানবন্দরে ওঠানামা করেনি কোনো বিমান। এদিকে বিমানবন্দরটিতে একজন কর্মকর্তা, ১২ জন কর্মচারী ও ১৩ জন আনসারের বেতন বাবদ প্রতি মাসে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৬ লাখ টাকা।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে প্রথম বাংলাদেশ বিমান ওঠানামা শুরু করে। সেই সময় প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দুটি করে ফ্লাইট চলত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এ বিমানবন্দরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মেরামত করে ১৯৭২ সালে আবার বিমান চলাচল শুরু হয়। তখন পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর ও রাজশাহীর অনেক যাত্রী ঈশ্বরদী হয়ে বিমানে ঢাকা যাতায়াত করতেন। পরে লোকসানের অজুহাতে ১৯৮৭ সালে এ রুটে ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। যাত্রীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালের ১৭ জুলাই থেকে বিমান চলাচল শুরু হলেও ১৯৯৬ সালের ৩ নভেম্বর পুনরায় বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়। এরপর যাত্রীদের দাবির মুখে ১৯৯৮ সালের ১০ মে বেসরকারি এয়ারলাইন্স এয়ার পারাবতের ফ্লাইট চালু হয়। মাত্র ৩৮ দিন চলার পর ২৮ জুন এই সার্ভিসও বন্ধ করা হয়। ১৭ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর আবার ফ্লাইট উদ্বোধন করা হলেও ৬ মাস পর আবার বন্ধ হয় বিমানবন্দরটি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, বাংলাদেশ সুগারক্রপ রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী ইপিজেড, ডাল গবেষণা কেন্দ্র, রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় অফিস, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, পাবনা সুগার মিল, আলহাজ টেক্সটাইল মিল, পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল (বর্তমানে বন্ধ), বেনারসি পল্লি, ৭ শতাধিক চালকল, অয়েল মিলসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে ঈশ্বরদীতে। বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প ও ইপিজেড ঘিরে কয়েকশ’ বিদেশি নাগরিকরা এখানে বসবাস করছেন। জরুরি প্রয়োজনে ঢাকা যাতায়াত করতে বিমানবন্দর থাকা সত্ত্বেও যাতায়াত করতে পারছেন না তারা। বারবার বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ফ্লাইট চালু করার দাবি করা হলেও ঈশ্বরদী-ঢাকা-ঈশ্বরদী রুটে ফ্লাইট চালু হয়নি।

 

error: Please Stop!!You can not copy this content becuase this site content is under protection. Thank You Itihas24 Developer Team