ঈশ্বরদীর সবশেষ নিউজ । ইতিহাস টুয়েন্টিফোর
ঢাকাশনিবার , ২ জুলাই ২০২২

র‌্যাবের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালো ঈশ্বরদীর বিএনপি নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ২, ২০২২ ৩:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুকে গ্রেফতারের পর ২৬ জুন ঢাকা র‌্যাবের মিডিয়া ইউং সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তাকে চরমপন্থী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও খুনি হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রতিবাদ জানিয়েছে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।

শনিবার (২ জুলাই) দুপুরে শহরের পশ্চিমটেংরী ব্রাদাস ইউনিয়ন কাব চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান দলীয় নেতাকর্মীরা।

পৌর বিএনপির একাংশের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এস এম ফজলুর রহমান জানান, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর ঢাকা র‌্যাব মিডিয়া ইউং সেন্টার থেকে জাকারিয়া পিন্টুকে সন্ত্রাসী পৌষ্যকারি, চরমপন্থী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও খুনি হিসেবে আখ্যায়িত করা করা হয়েছে। যা দেখে দলের নেতাকর্মীরা হতবাক, বাকরুদ্ধ ও হতভম্ব হয়েছে। জনপ্রিয় একজন বিএনপি নেতাকে সন্ত্রাসী, চরমপন্থী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।


তিনি আরো বলেন, জাকারিয়া পিন্টু একজন বিচক্ষণ ও ত্যাগী বিএনপি নেতা। তিনি সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজ নন। সে ৮০ দশক থেকেই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের এজিএস, উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব পদে রয়েছেন। পিন্টু ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁর মতো জননন্দিত নেতাকে র‌্যাব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ বলায় আমরা মর্মাহত ও ব্যথিত। আমরা এ মিথ্যা বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

উপজেলা বিএনপির একাংশের আহবায়ক আহসান হাবিব বলেন, পিন্টুর মতো একজন জননন্দিত নেতাকে যেভাবে সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতা, চরমপন্থী ও সন্ত্রাসী হিসেবে উপস্থাপন করা হয় তা আমাদের বোধগম্য নয়। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোন ভিত্তি নেই। তিনি আরো বলেন, যে মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এটি সরকারের একটি ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা। ফরমায়েসী রায়ে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী জাকারিয়া পিন্টুসহ ৪৭ নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করছি।


সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জামিল আক্তার এলাহী বলেন, জাকারিয়া পিন্টুসহ এ মামলার সকল আসামী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে এদের মুক্ত করা হবে। পিন্টু একজন দক্ষ ও জনবান্ধব বিএনপি নেতা। সে সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজ নয়।
এসময় উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্রেনযোগে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাওয়ার পথে ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে পৌঁছালে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁকে বহনকারী বগিকে ল্য করে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওই ঘটনায় ঈশ্বরদীর জিআরপি থানায় বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইন ও বিশেষ মতা আইনে একটি মামলা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের ৩ জুলাই জাকারিয়া পিন্টুসহ ৯ জনকে মৃত্যুদন্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১৩ জনকে ১০ বছর কারাদন্ড দেন আদালত।

শনিবার (২৫ জুন) রাতে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিন্টুকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ২৭ জুলাই তাঁকে পাবনা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

error: Please Stop!!You can not copy this content becuase this site content is under protection. Thank You Itihas24 Developer Team