প্রেমিকের বিয়ের খবরে প্রেমিকার বিষপানে আত্মহত্যা » Itihas24.com
ঈশ্বরদী১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
ঈশ্বরদীর সবশেষ নিউজ । ইতিহাস টুয়েন্টিফোর

প্রেমিকের বিয়ের খবরে প্রেমিকার বিষপানে আত্মহত্যা

জেলা প্রতিনিধি
আগস্ট ১৩, ২০২২ ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রেমিকের বিয়ের খবর শুনে প্রেমিকার বিষপানে আত্মহত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। তবে মৃতের পরিবারের দাবি, প্রেমিক ওই মেয়েকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে।

এ ঘটনায় আজ শুক্রবার (১২ আগস্ট) দুপুর আড়াটার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের শেখপুরাকান্দিতে নিহতের পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এসময় নিহতের মা আমেনা বেগম, বাবা নিজাম খান, মামা বোরহান উদ্দিন মাদবর, সামাদ মাদবর, মামাতো বোন সাদিয়া আক্তার, সামিয়া আক্তার, মামি ফরিদা বেগম, সাহানাজ বেগম উপস্থিত ছিলেন।

নিহত নুসরাত জাহান (১৫) নড়িয়া উপজেলার জপসার লক্ষ্মিপুর গ্রামের নিজাম খানের মেয়ে। নড়িয়া মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ১০ শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা আমেনা বেগম ও মামা বোরহান উদ্দিন মাদবর জানান, নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর কাঠপট্টি গৌড়াইল এলাকার ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন হাওলাদারের ছেলে আল আমিন হাওলাদার (২৪) এলাকার বখাটে। স্কুলে যাওয়ার পথে নুসরাত জাহানকে উত্ত্যক্ত করতো আল আমিন। একপর্যায়ে নুসরাতকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে প্রেম করাতে বাধ্য করায়। বিয়ের আশ্বাসে একবছর যাবত প্রেমে জড়ায় নুসরাত।

কিন্তু নুসরাতকে বিয়ে না করে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকার এক মেয়েকে মঙ্গলবার বিয়ে করে আল আমিন। আগেরদিন সোমবার রাত ৯টার দিকে বিয়ের খবর শুনে ক্ষোভে দুঃখে নিজ বাড়ির রুমে বিষপান করে। পরিবার তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। রাত ৩টার দিকে নুসরাত মারা যায়। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। মঙ্গলবার নুসরাতের মামা বোরহান উদ্দিন মাদবর বাদী হয়ে নড়িয়া থানায় আল আমিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। তাদের দাবি, নুসরাতকে বিয়ে না করে মানষিক চাপ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে আলআমিন। তাই আল-আমিনকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

এদিকে আল-আমিনের বাবা দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, আমার ছেলে আল আমিনের সঙ্গে নুসরাতের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানার পরে নুসরাতের বাড়িতে আমি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাই। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। তাই ছেলেকে অন্যত্র বিয়ে করাই। পরে শুনি নুসরাত মারা গেছে। আমার ছেলের বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা মামলা করেছে। আমার ছেলে নির্দোশ।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, এই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামি আল আমিন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন

BONOLOTA IT POS ads