রাজশাহীতে মহানগর ক্লিনিকে নেই ডাক্তার, সিজার করেন ম্যানেজার » Itihas24.com
ঈশ্বরদী২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
ঈশ্বরদীর সবশেষ নিউজ । ইতিহাস টুয়েন্টিফোর

রাজশাহীতে মহানগর ক্লিনিকে নেই ডাক্তার, সিজার করেন ম্যানেজার

জেলা প্রতিনিধি
আগস্ট ২২, ২০২২ ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় মহানগর ক্লিনিকের ম্যানেজারের অপারেশনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গত শুক্রবার (২০ আগস্ট) থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবার (২১ আগস্ট) তানোর পৌর সদরের হাসপাতাল এলাকার ওই ক্লিনিকটিতে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

এ সময় ম্যানেজার মামুনুর রশিদ মামুনকে পাওয়া যায়নি। পলাতক মামুন হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও।

জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে ম্যানেজার মামুনকে একজন রোগীর অপারেশর আগে অ্যানেস্থেসিয়া দিতে দেখা যায়। ভিডিওর আরেকটি অংশে তাকে অপারেশন করতে দেখা যায়। অপারেশন হওয়া রোগীর নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে অপারেশনের পর তার অবস্থা সম্পর্কেও জানা সম্ভব হয়নি।

ভিডিওটির বিষয়ে জানতে ক্লিনিক মালিক হেলাল উদ্দিনের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তার স্ত্রী আক্তারা খাতুন ফোন ধরেন। তিনি জানান, তার স্বামী অসুস্থ। তিনি ফোনে কথা বলতে পারবেন না। স্বামীর হয়ে আক্তারা খাতুন বলেন, মাসখানেক আগে ম্যানেজার মামুনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আর ভিডিওটি অনেক আগের। অপারেশনের সময় সার্জন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। শত্রুতা করে এই ভিডিওটি ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ক্লিনিকটিতে দীর্ঘদিন ধরে অপচিকিৎসা চলছে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সেখানকার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন আক্তারা খাতুন।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তানোর উপজেলা হাসপাতাল এলাকায় প্রায় দুই দশক ধরে চলছে ক্লিনিকটি। ১২ শয্যার অনুমোদন নিয়ে ২০ শয্যায় রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। নিজস্ব চিকিৎসক-নার্স না থাকলেও এখানে সব ধরনের অপারেশন হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই এখানে চলছে অপচিকিৎসা।

গত এক বছরের মধ্যে এই ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় অন্তত ৬ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বরাবরই স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ঘটনা ধামাচাপা দেয় মালিক পক্ষ।

এদিকে, খোঁজ নিয়ে পলাতক ম্যানেজার মামুনের বিরুদ্ধেও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। নাম প্রকাশ না করে একাধিক সূত্র জানায়, হাসপাতাল এলাকায় বাড়ি হওয়ায় শুরুতে তাকে রোগী ধরা দালাল হিসেবে নিযুক্ত করেন ক্লিনিক মালিক। এক পর্যায়ে তাকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেন। তানোরসহ আশেপাশের প্রত্যন্ত এলাকায় রোগী ধরা দালাল নিযুক্ত করেছিলেন মামুন। তারাই মোটা অংকের কমিশনে ক্লিনিকে রোগী পাঠাতেন।

গত ৫ বছর ধরে চিকিৎসক সেজে ক্লিনিকে চিকিৎসা দিতেন মানুষ। করতেন ছোট-বড় সব ধরনের অপারেশন। ম্যানেজার মামুনের বিরুদ্ধে ক্লিনিকের কয়েকজন নারী কর্মীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে। এত অভিযোগ সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কখনোই ব্যবস্থা নেয়নি মালিক পক্ষ।

তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পংকজ চন্দ্র দেবনাথ জানান, শনিবার তারা ক্লিনিকটিতে অভিযান চালান। ওই সময় চিকিৎসক এবং নার্স কাউকেই পাওয়া যায়নি। তাছাড়া অপারেশন থিয়েটার নোংরা পাওয়া গেছে। ছিল না অপারেশনের নূন্যতম পরিবেশ।

এ ঘটনায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সঙ্গে মূল অভিযুক্ত ওই ক্লিনিকের ম্যানেজার মামুনুর রশিদ মামুনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

BONOLOTA IT POS ads