ঈশ্বরদীর সবশেষ নিউজ । ইতিহাস টুয়েন্টিফোর
ঢাকাশুক্রবার , ৫ আগস্ট ২০২২

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের মর্যাদাকে সমুন্নত করবে যুবসমাজঃ প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক
আগস্ট ৫, ২০২২ ৪:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা শুধু দেশে নয় বিশ্ব তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যেন আমাদের মেধা ও মননকে বিকশিত করে বাংলাদেশের মর্যাদাকে আরও উন্নত করতে পারি। আর সেভাবেই আমাদের ছেলেমেয়েরা কাজ করবে, সেটাই আমি চাই।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার-২০২২ প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল আমাদের জন্য যে নীতি, আদর্শ, কর্মপন্থা ও দিকনির্দেশনা রেখে গেছে, আমাদের যুব সমাজ তাদের চলার পথে সেগুলো অনুসরণ করে নিজেদের গড়ে তুলবে। আজকে কামাল আমাদের মাঝে নেই। সে আধুনিক ফুটবল খেলা ও আবাহনী ক্রীড়া চক্র গড়ে তোলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন খেলাধুলায় ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মকে অন্তর্ভুক্ত করার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছে।

‘পাশাপাশি সংগীত চর্চায় স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করে বিভিন্ন দেশীয় গানকে আধুনিক বাদ্যযন্ত্রে তুলে তাকে জনপ্রিয় করার কাজটিও সে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করে গেছে। কেননা বহুমুখী প্রতিভা নিয়েই জন্মেছিলেন শেখ কামাল।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ কামালের স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, বাসার ছাদে তার সঙ্গীত দলের এই অনুশীলন চলতো। সেখানে ফিরোজ সাঁই, ফেরদৌস ওয়াহিদ ও নাসিরউদ্দিন সহ অনেকেই আসতো। জাতির পিতা হত্যার ছয় বছর পর দেশে ফিরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের জাতির পিতার বাড়িটিকে আমি মিউজিয়াম করি। পরে সেখানে ফিরোজ সাঁই কামালের অর্গান, যেটি দিয়ে তিনি গান তুলতেন সেটি দিয়ে যান। সেই অর্গান ও কামালের সেতারটি আমি সেখানেই রেখে দিয়েছি।

‘শেখ কামাল সেনাবাহিনীতে কমিশন পেতো। যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সম্মান শ্রেণীর লেখাপড়া তখনো শেষ হয়নি, তাই মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে আবারো ঢাবিতে ভর্তি হয় সে। কিন্তু মাস্টার্সের রেজাল্ট প্রকাশিত হবার আগেই না ফেরার দেশে চলে যায় সে।’

শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার প্রবর্তনের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে মুক্তিযোদ্ধা এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে শেখ কামালের অবদান সকলের মনে থাকবে। আমাদের যুব সমাজ খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সমাজসেবাসহ সবদিকে আরও উদ্যোগী হবে এবং নিজেদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করবে, সেটাই আমার আকাঙ্খা।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দল যখনই সরকারে এসেছে, তখনই দেশের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক জগতের উন্নতির প্রচেষ্টা চালিয়েছে। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দু:স্থদের সেবায় শেখ কামাল যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আমাদের সরকার সীড মানি (কোনো উদ্যোগ নিতে প্রয়োজনীয় অর্থ) দিয়ে বিভিন্ন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল। এ সময় স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতা দেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশীদ, স্পন্দন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কাজী হাবলু।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শেখ কামালের জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত ‘এক আলোর পথের যাত্রী’ শীর্ষক একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ কামালকে নিয়ে রচিত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, আলোকিত তারুণ্যের প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক সচিত্র স্মারক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

error: Please Stop!!You can not copy this content becuase this site content is under protection. Thank You Itihas24 Developer Team