পাবনা-৪ : স্মার্ট অ্যাপে দুই ঘণ্টা পর পর জানা যাবে ভোট পড়ল কত » Itihas24.com
ঈশ্বরদী২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
ঈশ্বরদীর সবশেষ নিউজ । ইতিহাস টুয়েন্টিফোর

পাবনা-৪ : স্মার্ট অ্যাপে দুই ঘণ্টা পর পর জানা যাবে ভোট পড়ল কত

অপুর্ব চৌধুরী, বিশেষ প্রতিবেদক
নভেম্বর ২৩, ২০২৩ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসার মধ্যে ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপ চালু করেছে নির্বাচন কমিশন; যেটি দিয়ে ভোটের দিন দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ভোট পড়ার তথ্য ও হার জানা যাবে।

এটি ব্যবহার করে ভোটার নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম, প্রার্থী, দল ও আসনভিত্তিক তথ্য যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি আইনবিধি, ভোট পড়ার হার, ফলসহ নানা ধরনের তথ্যও জেনে নিতে পারবেন নাগরিকরা।

এতে একজন ভোটার সহজেই ভোট দিতে কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিতে পারবেন। আগের বছরগুলোর মতো কোথায় কোন কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবেন তা নিয়ে যেমন জটিলতায় পড়তে হবে না, তেমনি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নম্বর খোঁজার বিড়ম্বনার মধ্যেও পড়বেন না।

ইতোমধ্যে চালু হওয়া অ্যাপটিতে একাদশ সংসদ নির্বাচনের নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

চলতি বছর অনুষ্ঠিত একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের প্রতিনিধির কাছ থেকে ভোটারের তথ্য জানতে ভিড় করছেন ভোটাররা। |ফাইল ছবি
নির্বাচনী কার্যক্রমের ধাপে ধাপে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।

তিনি বলেন, “স্মার্ট নির্বাচন ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে অ্যাপ চালু হয়ে গেছে। ধাপে ধাপে সবার জন্য তথ্য উন্মুক্ত হবে। কারণ তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর কাজগুলোও ধাপে ধাপে হচ্ছে। যখনই যে কাজ শেষ হবে, তখনই তার তথ্য অ্যাপে যুক্ত হবে।

“অ্যাপটি ইনস্টল করে কী ধরনের তথ্য অ্যাপ থেকে পাওয়া যাবে তা সহজেই দেখা যাবে। ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত হওয়ার পর আশা করি, কেন্দ্রভিত্তিক তথ্যও পাবেন সবাই।”

ইসি জানিয়েছেন, আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ভোটের বেশ কিছু দিন আগে থেকেই নির্বাচনের সব তথ্য মিলবে। আর ভোটের দিন ফলাফলের তথ্যও মিলবে।

যেসব তথ্য মিলবে অ্যাপে

নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান জানান, অ্যাপটির মাধ্যমে একজন ভোটার ঘরে বসে তার ভোটার নম্বর জানতে পারবেন। পাশাপাশি তার ভোট দেওয়ার এলাকা, নির্বাচনী আসন, ভোটকেন্দ্রের নাম জেনে নিতে পারবেন।

এতে ভোটকেন্দ্রের ছবি, ভোটকেন্দ্রের ভৌগলিক অবস্থান ম্যাপসহ দেখা যাবে। এর মাধ্যমে বিভাগওয়ারি আসনগুলোর তথ্য, যেমন- মোট ভোটার, মোট আসন, প্রার্থীদের বিস্তারিত তথ্যও (হলফনামা, আয়কর সম্পর্কিত তথ্য, নির্বাচনী ব্যয় ও ব্যক্তিগত সম্পদের বিবরণী) থাকবে।

এর মাধ্যমে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর তথ্য জানা যাবে এবং সমসাময়িক তথ্যাবলী নোটিস আকারে প্রদর্শিত হবে।

অ্যাপটির সাহায্যে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর চলমান ভোটিং কার্যক্রমের তথ্য ও কত ভোট পড়ল, সেই তথ্যও মানুষ জানতে পারবে বলে জানিয়েছেন ইসি আহসান হাবিব খান।

“নির্বাচনী ফলাফলের সার্বিক অবস্থা- যেমন গণনা এবং ফলাফল বিশ্লেষণ নামে অপশনের মাধ্যমে একজন ভোটার পূর্বতন নির্বাচন এবং বর্তমান নির্বাচনের ফলাফলের গ্রাফিক্যাল বর্ণনাও পাবেন।”

যেভাবে অ্যাপে যুক্ত হবেন

> অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোন ফোনের স্টোর থেকে Smart Election Management BD ইন্সটল করতে হবে। এরপর নির্বাচন কমিশনের লোগো সংবলিত পেইজ আসবে।

> কিছুক্ষণের মধ্যে ভাষা (ইংরেজি ও বাংলা) নির্বাচন করতে বলা হবে।

> ভাষা নির্বাচনের পর মোবাইল নম্বর ও পছন্দ মতো পাসওয়ার্ড দিয়ে ‘অ্যাকাউন্ট তৈরি’ করতে হবে।

> এবার হোম স্ক্রিন আসবে, ভোট সংক্রান্ত তথ্য দেখতে জন্ম তারিখ ও এনআইডি নম্বর দিয়ে ‘যাচাই করুন’ এ ক্লিক করতে হবে।

> হোম পেইজে ভোটার নম্বর দেখাবে; একইসঙ্গে ভোট কেন্দ্রের নাম, ঠিকানা, গুগল ম্যাপে কেন্দ্রের অবস্থান দেখানোর কথা; বর্তমানে লেখা আসছে ‘নির্বাচনী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন’। ভোটের অন্তত ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের গেজেট চূড়ান্ত হবে।

> অ্যাপে হোম, তথ্য, ফলাফল ও বিশ্লেষণ নামে চারটি মেন্যু আছে।

> হোম পেইজে ‘নির্বাচনের তথ্য’ ও ‘নির্বাচনী ফলাফল’ বাটন রয়েছে।

> তথ্য পেইজে এখন দেখাচ্ছে দ্বাদশ ও একাদশ সংসদ নির্বাচনের তথ্য।

> এ পেইজে আসনগুলোর তথ্য, এক নজরে, আইনবিধি, নিবন্ধিত দল ও নোটিস বোর্ড বাটন থাকলেও সব তথ্য হালনাগাদ করা হয়নি।

> আসনগুলোর তথ্যে বিভাগভিত্তিক আসন, সেই আসনের প্রার্থী পরিচিতি ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য থাকবে।

> একনজরে বাটনে মোট ভোটার, নারী পুরুষ, দল, প্রার্থী সংখ্যার তথ্য দেখা যাবে।

ভোটের হার ও ফলাফল পরিস্থিতি

>> ফলাফল পেইজে আসনভিত্তিক ফলাফল মিলবে। ফলাফল মেন্যুবারের ‘আপনার আসন’ থেকে নির্বাচনী এলাকার ফলাফলের সংক্ষিপ্ত বিবরণী, বেসরকারি ভাবে গণণায় এগিয়ে থাকা প্রার্থীর নাম, কেন্দ্রভিত্তিক প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা দেখা যাবে।

>> ভোটের দিন সকাল থেকে আসনভিত্তিক ভোট শুরু না হয়ে থাকলে এর আগে এ পেইজে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।

>> সকাল ৮টা থেকে ভোট শুরু হবে। ভোট চলমান থাকলে পেইজের ভেতরে ‘ভোট গ্রহণ চলছে’ দেখা যাবে।

>> নির্দিষ্ট এলাকার ভোট গ্রহণের তথ্য ২ ঘণ্টা অন্তর অন্তর হালনাগাদ হবে।

যেভাবে দুই ঘণ্টা পর পর ভোটের তথ্য মিলবে

ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানান, দুই ঘণ্টা পর পর সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার তার কেন্দ্রের সব বুথে গিয়ে তথ্য নিয়ে অ্যাপের জন্য আপলোড করবেন, যার মাধ্যমে অ্যাপে পাওয়া যাবে ভোট পড়ার হার।

স্মার্ট অ্যাপে দুই ঘণ্টা পর পর জানা যাবে ভোট পড়ল কত
ইসির এনআইডি উইংয়ের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, দুই ঘণ্টা পর পর প্রতিটি কেন্দ্রের ভোট পড়ার হার অ্যাপে মিলবে না। তবে প্রতি সংসদীয় আসনের সব কেন্দ্রের একীভূত তথ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট আসনে কত ভোট পড়েছে, তার হার দুই ঘণ্টা পর পর অ্যাপে পাওয়া যাবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ১২ নভেম্বর অনলাইন নমিনেশন সাবমিশন সিস্টেম (ওএনএসএস) ও স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ উদ্বোধনকালে প্রার্থী ও ভোটারদের অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহারের আহ্বান জানান। এ ব্যবস্থার ফলে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও ‘পরিশুদ্ধ’ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

সিইসি বলেন, “সহজে জানতে পারবেন দুই ঘণ্টা পর পর (কেন্দ্রের ভোট পড়ার) ট্রেন্ডটা, সহজে জানতে পারবেন কীরকম ভোট পড়ছে; এটা স্বচ্ছতার জন্য।”

তিনি বলেন, “কত পার্সেন্ট ভোট পড়েছে, কতটা ভোট পড়েছে তা জানা যাবে। তবে ২ ঘণ্টা পর ফলাফল জানানোর স্কোপ নেই। ভোট শেষে ৬/৭ টার পরে ফলাফল জানতে পারবেন।”

নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান ভোটকেন্দ্রের অবস্থানসহ নানা ধরনের সেবা পাওয়ার বিষয় তুলে ধরে বলেন, “অ্যাপে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকবে দুই ঘণ্টা পর পর ভোটকেন্দ্রের আপডেট পাওয়া যাবে। কী পরিমাণ ভোট কাস্ট হয়েছে, অ্যাপে পার্সেন্টেজ থাকবে।

“তা দেখে বুঝতে পারব কত ভোটার ছিল, কত ভোট পড়েছে। নির্বাচনী তথ্য নিয়ে গবেষণা করতে চাইলেও এ অ্যাপ থেকে নিয়ে করতে পারবেন।”

নির্বাচন কমিশনার আলমগীর বলেন, “আমরা রেডিও, টেলিভিশন, অনলাইনে আমরা দেখি- কত পারসেন্ট ভোট পড়েছে। বিশেষ করে টেলিভিশনে, স্পটে যেসব সাংবাদিক থাকেন তাদের তথ্য। এত কষ্ট করে টেলিভিশনে দেখার প্রয়োজন নেই।

স্মার্ট অ্যাপে দুই ঘণ্টা পর পর জানা যাবে ভোট পড়ল কত
“আমাদের এখানে আপনি দেখতে পারবেন, কত ভোট পড়েছে। ৪২ হাজার কেন্দ্রে তো রিপোর্টার থাকবে না সব টেলিভিশনের, আপনার কেন্দ্রের টেলিভিশন হয়ত কাভারেজ দেয়নি- আপনি জানতেও পারবেন না।”

আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের তারিখ রেখে যে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন, তাতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ঠিক করা হয়েছে ৩০ নভেম্বর।

এরপর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ হবে। আর প্রচার শেষ করতে হবে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে।

বিজ্ঞাপন

BONOLOTA IT POS ads