ঈশ্বরদীর জমজম হাসপাতালে পরপর তিন নবজাতকের মৃত্যু » Itihas24.com
ঈশ্বরদী১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
ঈশ্বরদীর সবশেষ নিউজ । ইতিহাস টুয়েন্টিফোর

ঈশ্বরদীর জমজম হাসপাতালে পরপর তিন নবজাতকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ৮, ২০২৪ ৮:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঈশ্বরদীতে বেসরকারি একটি হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারীর সময় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৮ জুন) ভোর ৪টার দিকে পৌর শহরের হাসপাতাল রোডে জমজম স্পেশালাইজড হাসপাতালে এ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত নবজাতকের বাবা ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত মার্চ মাসে এ হাসপাতালে নরমালে ডেলিভারীর সময়ে আরো দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়। একই হাসপাতালে পরপর তিন নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, নাটোরের লালপুর উপজেলার সাইদুল ইসলামের গর্ভবতী স্ত্রী জিমু খাতুনের (২০) প্রসববেদনা শুরু হলে ৭ জুন রাত ১১টার দিকে জমজম স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাফিসা কবির গর্ভবতীর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত দেন ৩ ঘন্টার মধ্যে স্বাভাবিক ডেলিভারী হবে। চিকিৎসকের নিদের্শনা অনুযায়ী এ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে জিমু খাতুনের প্রসববেদনা তীব্র হলে সাইদুল ইসলাম চিকিৎসক নাসিফা কবিরকে বারবার ফোন দেন। চিকিৎসক না আসায় হাসপাতালের আয়া পারুল (৩২) সাথি (৩৬), মোঃ রাসেল (৩২) জিমু খাতুনকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে যৌনাঙ্গের সাইট কেটে মৃত পুত্র সন্তানের প্রসব করায়। মৃত সন্তান প্রসবের পর কাটা স্থানে ১৬টি সেলাই দেয়া হলেও রক্ত বন্ধ হয়নি। প্রচন্ড রক্তক্ষরণে জিমু খাতুন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সাইদুল ইসলাম বলেন, জিমু খাতুনকে চিকিৎসক নাফিসা কবিরের নরমাল ডেলিভারি আশ^াস অনুযায়ী তার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে জিমুর যখন প্রচন্ড প্রসব বেদনা শুরু হলে ডাঃ নাফিসা কবিরকে বারবার ফোন দিয়েছি তিনি আসবেন বলে সময়ক্ষেপণ করে শেষ পর্যন্ত না আসলে প্রতিষ্ঠানের আয়া ও ঝাড়–দার পারুল (৩২) সাথি (৩৬), মোঃ রাসেল (৩২) তিনজন মিলে জিমু খাতুনকে নরমাল ডেলিভারি করালে মৃত পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। ভেলিভারির পর জিমু খাতুনের শারীরিক অবস্থার অবণতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল ভর্তি করি। আমি চিকিৎসক ও আয়া-ঝাড়–দারের বিচার দাবি করছি। এ ঘটনায় চিকিৎসক ও আয়াদের অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
জমজম স্পেশালাইজড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ নাফিসা কবির বলেন, নরমাল ডেলিভারি সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নার্সরা করিয়ে থাকেন। আমার সঙ্গে কথা বলে নার্সরা নরমাল ডেলিভারী করিয়েছেন। আয়া ও ঝাড়–দার দিয়ে নরমাল ডেলিভারি করানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডেলিভারির সময় কোন ঝাড়–দার বা আয়া ছিল না। যারা ছিল তারা সবাই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স।
ঈশ্বরদী থানার তদন্ত কর্মকর্তা এবিএম মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মালেকুল আফতাব বলেন, এ ঘটনা শোনার পর ৮ জুন সকালে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে এসে হাসপাতালের তিনজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট পেশ করার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

বিজ্ঞাপন

BONOLOTA IT POS ads